বিনোদন

বনানীতে ধর্ষিতা অভিনেত্রী কি আদৌ অভিনয় শিল্পী? বললেন, নাট্যকার জিনাত হাকিম!

রাজধানীর বনানীতে জন্মদিনে দাওয়াত দিয়ে এক টিভি অভিনেত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া যায় খবর প্রকাশ হয়। গত ৫ জুলাই বুধবার এ মর্মে বনানী থানায় আরেক ব্যবসায়ীপুত্রের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেছেন ওই কথিত টিভি অভিনেত্রী।

কিন্তু মিডিয়া পাড়ায় প্রশ্ন উঠেছে কে সেই অভিনেত্রী? তিনি কিসে অভিনয় করেছেন নাটক নাকি চলচ্চিত্রে। নাকি করতেন শুধু মডেলিং? তার নাম কি? তিনি কি আদৌ অভিনেত্রী? এই সব প্রশ্নের উত্তর যখন অভিনয়শিল্পীদের মাথায় ঘুরছে। তখনই জনপ্রিয় অভিনেতা আজিজুল হাকিমের স্ত্রী সিনিয়ার নাট্যকার ও নির্মাতা জিনাত হাকিম ধর্ষণ ও ধর্ষিত অভিনেত্রীকে নিয়ে একটি লম্ব স্ট্যাটাস দিলেন। চলুন পাঠক পড়ে আসি তিনি কি লিখেছেন।

‘সম্প্রতি এক অভিনেত্রী ধর্ষিত হয়েছেন যার খবর খবরের কাগজের শিরোনাম হয়েছে। ধর্ষকের ছবিও দেয়া হয়েছে ,আর নিউজে লেখা হয়েছে প্রেমিকের বা বন্ধুর জন্মদিনের দাওয়াতে বনানীতে রাত ১২ টায় তার বাসায় শুভেচ্ছা জানাতে যেয়ে এই ঘটনা। অনেকেই আমাকে জিজ্ঞেস করছে কে এই অভিনেত্রী ???

আমাদের মিডিয়া আমাদের পরিবার। এখানে তো এমন কোন অভিনেত্রীর এমন ঘটনা আমাদের জানার কথা। পেপারে পড়ে আমার ও দেখতে জানতে ইচ্ছে করছে কে সেই অভিনেত্রী ??? কে!!! তার নাম শুনলেও চিনতে পারতাম যদি সত্যি ই তিনি তা হয়ে থাকেন।

একটা বিষয় ইদানিং দেখা যাচ্ছে কিছু মেয়ে তার রুপের জৌলুস আর মেকাপের লেবাসে মিডিয়াতে ঢুকে পড়ছে ভিন্ন মিশন নিয়ে। তারা শিল্পী না হয়েও অভিনয়, উপস্থাপনা, মডেলিং বা টিভি মিডিয়ায় নিজের চেহারা পরিচিত করে এ সবের আড়ালে অন্য ব্যবসায় (দেহ ব্যবসা) নিজেকে ইনভল্ভ করছে। তাদের উদ্দেশ্য পরিষ্কার।

সেচ্ছায় যে কেউ যা ইচ্ছা করতে পারে। লাইসেন্স নিয়ে দেহ ব্যাবসার জন্য টানবাজারের মত অনেক নির্দিষ্ট জায়গাও আছে জানি। ওসব জায়গা রেখে এরা শটকাটে খদ্দের যোগাড়ে মিডিয়ার রাস্তা ধরে এবং অল্প সময়ে ই গাড়ি ,ফ্ল্যাট এর মালিক হয়ে খুব খুশি। এই তালিকায় বিবাহিত মহিলারাও আছেন। এই ধরনের সো কল্ড- ছেলিব্রিটি (সেলিব্এরিটি নয়) দের সবাই চেনে জানে। আগাছাগুলো নিজের পরিবার এর মান নিয়ে যেমন ভাবে না তেমনি মিডিয়াকেও অসন্মানের স্থানে নিয়ে যায়।

কিন্তু এই শ্রেণীর বদ মেয়েগুলোর কারণে মিডিয়ার গুণী, নিরীহ, পরিশ্রমী, নিবেদিত জেনুইন শিল্পীদের নানা কথা শুনতে হয় , ভালো মেয়েগুলোর পরিবারে শুনতে হয় কেন মেয়ে মিডিয়ায় কাজ করবে? লোকে না বুঝে বাজে মন্তবয় করে। অথচ শিল্পীর গুন সৃষ্টিকর্তার দান। যিনি ধর্ষিত হলেন তার ব্যাগে ৩ টি মোবাইল ফোন পাওয়া গেছে, (এত বড় স্টার !!!), অভিনয়ের বা মিডিয়ায় জন্য যারা কাজ করছেন তাদের প্রত্যেকের ই ফোন থাকে, তাই বলে ৩ টা।

আসলে তদন্ত করে এই ধরনের ঘটনায় যারা মিডিয়ার মেয়ে হিসেবে নিজের পরিচয় দাবি করে এর পেছনে তার আসল পরিচয় (আসলেই তারা তা কিনা তার সত্যতা) উন্মোচিত হওয়া দরকার। তাতে প্রকৃত শিল্পী আর নাম ধারীর পরিচয় বেরিয়ে আসবে। নামে শিল্পীর লেবাসে যারা অপকীর্তির সাথে জড়িত তাদের ছবিও প্রকাশিত হওয়া দরকার। তাহলে এই ধরনের মেয়েদের হাত থেকে মিডিয়া রেহাই পাবে। আমাদের অযথা বিব্রত করার অধিকার কাউকে আমরা কেন দেব।’

উল্লেখ্য, নাটক নিয়ে কাজ শুরু করেছিলেন জিনাত হাকিম ১৯৯৬ সালে। বিটিভিতে ‘নির্জন স্রোত’ নামে প্রথম নাটকটি প্রযোজনা করেছিলেন আব্দুল্লাহ আল মামুন। সেই হিসেবে তার লেখালেখির বয়স একুশ বছর।

আর লেখালেখি করেই সেরা নাট্যকার হিসেবে টেনিসিনাশ ২০১৩ পুরস্কারপ্রাপ্ত হন জিনাত হাকিম। এছাড়াও আরও অনেক পুরষ্কার তিনি পেয়েছেন।

লেখালেখি ছাড়াও অনেক সামাজিক ডকুমেন্টারি ও সমাজ সচেতনতামূলক প্রামাণ্য চিত্র নির্মাণ করেছেন জিনাত হাকিম। পাশাপাশি মঞ্চ নাটকও লিখেছেন তিনি। তার লেখা ‘বৃষ্টির চোখে জল’ যুক্তরাষ্ট্রে এবং ‘শেষ কথা’ যুক্তরাজ্যে মঞ্চস্থ হয়েছে।