Lead News অপরাধ/দুর্নীতি আইন-আদালত গাজীপুর জাতীয় ঢাকা বিভাগীয় সংবাদ

ফয়সাল খুনের ঘটনায় প্রধান আসামী রিমন অস্ত্রসহ র‌্যাবের হাতে আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক, গাজীপুর: গাজীপুরের কালীগঞ্জে সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত সাবেক এমপি প্রয়াত মোখলেছুর রহমান জিতু মিয়া ছোট ছেলে হাবিবুর রহমান ফয়সাল মিয়ার (৩২) হত্যাকান্ডের মূল নায়ক তৌহিদুল ইসলাম রিমনকে (২২) অস্ত্রসহ আটক করেছে র‌্যাপিট অ্যাকশন ব্যাটালিয়ানের (র‌্যাব-১) সদস্যরা। রোববার দুপুরে গাজীপুর পোড়াবাড়ী র‌্যাব-১ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাবের লে. কর্ণেল অধিনায়ক মো. সরোয়ার-বিন কাশেম স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে তথ্য জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব-১ এর কোম্পানী কমান্ডার মেজর মঞ্জুর মেহেদী ইসলাম বক্তব্য রাখেন। এ সময় পোড়াবাড়ী ক্যাম্পের কোম্পানী কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মহিউল ইসলাম, সহকারী পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব-১ এর মেজর মঞ্জুর মেহেদী ইসলাম জানান, গত শনিবার দুপুর ২টায় রিমনকে কালীগঞ্জ পৌর এলাকার উত্তরগাঁও গ্রাম থেকে আটক করা হয়। পরে তাকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে ওই গ্রামের আলমগীরের দোকানে অভিযান চালিয়ে ফয়সাল হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত ১টি ম্যাগাজিনসহ পিস্তল, ২ রাউন্ড তাজা গুলি, দু’টি দেশীয় রামদা ও দু’টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। মামলার ৩নং আসমী মা. হুমায়ুনের ভাতিজির সাথে নিহত ফয়সালের প্রেমের সখ্যতায়ই খুন বলেও জানানো হয় প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে।

তিনি আরো জানান, গত মাসের ৩০ জুলাই দিবাগত আনুমানিক রাত ১০টায় পৌর এলাকার ভাদগাতী গ্রামে সন্ত্রাসী তৌহিদুল ইসলাম রিমন ও তার সহযোগীদের গুলিতে ফয়সাল নিহত হন। ঘটনার পর থেকে ওই হত্যা কান্ডের মূল নায়ক রিমন আত্মগোপনে চলে যায়। ১ আগষ্ট মঙ্গলবার দিবাগত রাতে নিহতের বড় বোন মাসুমা সুলতানা মুক্তা হয়ে বাদী কালীগঞ্জ থানায় ঘটনার পর মূল নায়ক রিমনকে প্রধান করে ৬ জনের নামে ও অজ্ঞাত আরো ৩/৪ জনতে আসামী কালীগঞ্জ থানায় হত্যা করে মামলা দায়ের করেন। রিমন প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার কথা স্বীকার করেছে বলেও জানান তিনি।

মামলার বাকী আসামীরা হলো- কালীগঞ্জ পৌর এলাকার ভাদগাতী গ্রামের হানিফার ছেলে নওশাদ, আহসান উদ্দিনের ছেলে মো. হুমায়ুন (২৮) ও মুঞ্জুর হোসেন (৩৫), খঞ্জনা গ্রামের আব্দুর রহমান শেখের ছেলে আব্দুস সাত্তার শেখ (২৫) ও প্রধান আসামী রিমনের বাবা সাইদুল ইসলাম উরফে মোসলে উদ্দিন মাস্টার (৬২)। ওই ঘটনায় পর স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন ঘটনার রাতে সন্দেহ ভাজন হিসেবে কালীগঞ্জ পৌর এলাকার ভাদগাতী গ্রামের হানিফার ছেলে নওশাদকে আটক করে। পরে ফয়সালের বোনের করা মামলায় তাকে ২নং আসামী হিসেবে গাজীপুর আদালতে পাঠানো হয়।

এদিকে, ঘটনার এক সপ্তাহ অতিবাহিত হলেও ঘটনার মূল রহস্য উদ্ঘাটন এবং প্রধান আসমী রিমনকে আটক করতে পারেনি স্থানীয় পুলিশ। ঘটনার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শক ও শোক-সন্তোপ্ত পরিবারকে সমবেদনা জ্ঞাপন করেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি এমপি এবং বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক সাংসদ একেএম ফজলুল হক মিলন। তারা দু’জনেই ফয়সাল হত্যার খুুনীদের দ্রুত গ্রেফতার ও আইনের আওতায় এনে বিচারের দাবি জানান।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত ফয়সার নম্র-ভদ্র এবং এলাকায় ভালো ছেলে হিসেবে পরিচিত ছিল। আর অন্যদিকে রিমন এলাকার একজন চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী এবং সন্ত্রাসী ছিল। তার যন্ত্রনায় এলাকার সাধারণ মানুষ প্রতিনিয়তই আতঙ্কে থাকে। তার বিরুদ্ধে থানায় মারামারি, ছিনতাই, ডাকাতি, মাদক, হত্যাসহ একাধীক মামলা রয়েছে। কয়েকটি মামলায় সাজা ভোগ করে জামিনে এসে পূনরায় আগের রূপে ত্রাসের রাজ্য কায়েম করে।

সূত্র আরো জানায়, বিগত ৮/৯ মাস আগে কালীগঞ্জ পৌর যুবলীগের সভাপতি মো. বাদল হোসেনের পারিবারিক একটি ঝামেলায় রিমন ওই যুবলীগ নেতার মুনশুরপুর (টেকপাড়া) গ্রামের বাড়ীতে গিয়ে ওই যুবলীগ নেতাকে ফয়সাল হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত পিস্তল দিয়ে ফাকা গুলি করে ভয় দেখিয়েছিল।

নিহত ফয়সালের বাবা প্রয়াত মোখলেছুর রহমান জিতু মিয়া ১৯৭৩ সালে কালীগঞ্জ সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হিসেবে প্রথম নির্বাচিত হন। পরে তার বিপুল জনপ্রিয়তায় ১৯৭৯ সালে কালীগঞ্জ আসনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন নিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরের বার ১৯৮৮ সালে সতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচন করেন এবং সেবারও তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

Advertisements