Advertisements
জাতীয়

ফের কারাগারে সাবেক ডিসি রুহুল আমীন-এডিসি জাফর

কক্সবাজারের সাবেক জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. রুহুল আমীন ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এডিসি) জাফর আলমকে ফের কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।

রোববার ও সোমবার কক্সবাজারের চিফ জুড়িসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত তাদেরকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

মাতারবাড়ি কয়লাবিদ্যুৎ প্রকল্পের ভূমি অধিগ্রহণের টাকা আত্মসাৎ সংক্রান্ত মামলায় এ নিয়ে দুবার জেলে গেলেন কক্সবাজার সাবেক দুই শীর্ষ কর্মকর্তা।

আদালত সূত্র জানায়, মাতারবাড়ি কয়লাবিদ্যুৎ প্রকল্পের ভূমি অধিগ্রহণের ২২ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুদকের দায়ের করা মামলায় গত ২৩ মে সাবেক জেলা প্রশাসক রুহুল আমীন ও ৯ মে এডিসি জাফর আলম প্রথমবার কারাগারে যান। মামলা হওয়ার পর উচ্চ আদালত থেকে আগাম জামিন নেয়ার পর দুদক আদালতে চার্জশিট দাখিল করে। পরে ঢাকার সেগুনবাগিচা থেকে প্রথমে এডিসি জাফরকে আটক করে দুদকের একটি টিম। উচ্চ আদালতের নির্দেশে ডিসি রুহুল আমিন জামিন আবেদন করতে এলে কক্সবাজারের চিফ জুড়িসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মো. তৌফিক আজিজ জামিন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারের পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন।

এরপর তিনি মিস মামলা করে হাইকোর্টে জামিন চান। প্রথমে সেখানেও জামিন নামঞ্জুর হয়। পরে ৪ জুলাই তিনি হাইকোর্ট থেকে অন্তবর্তীকালীন জামিন পেয়ে জেল থেকে ছাড়া পান। একই ভাবে জামিনে ছাড়া পান এডিসি জাফর আলমও।

পরে তাদের জামিন বাতিল চেয়ে দুদক উচ্চ আদালতে আপিল করেন। গত ১০ জুলাই আপিল বিভাগ রুহুল আমীন ও জাফর আলমের জামিন বাতিল করে তাদেরকে নিম্ন আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশনা দেন।

রোববার কক্সবাজারের চিফ জুড়িসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির হন রুহুল আমিন। আদালতের বিচারক মো. তৌফিক আজিজ তাকে কারাগারের পাঠানোর নির্দেশ দেন।

সোমবার দুপুরের পর আদালতে আসেন সাবেক এডিসি জাফর আলম। আদালতের বিচারক তাকেও কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

সাবেক জেলা প্রশাসক রুহুল আমীনের আইনজীবী ওমর সুলতান জানান, উচ্চ আদালত ছাড়া দুদকের মামলায় জামিন দেয়ার একতিয়ার নিম্ন আদালতের নেই। তাই উচ্চ আদালতের নির্দেশনায় নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করলেও জামিন আবেদন করেননি তারা দুজন।

আদালত সূত্র জানায়, কক্সবাজার বিশেষ আদালতে ৩ আগস্ট মাতারবাড়ির এ দুর্নীতি মামলাটির ধার্য দিন রয়েছে।

আদালত ও দুদক সূত্র জানায়, ৩৬ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে কক্সবাজারের মহেশখালীর মাতারবাড়িতে দুটি কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ প্রকল্প হচ্ছে। এ প্রকল্পের আওতায় অধিগ্রহণ করা জমির চিংড়ি, ঘরবাড়িসহ অবকাঠামোর বিপরীতে ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ করা হয় ২৩৭ কোটি টাকা। এর মধ্যে ২৫টি অস্তিত্বহীন চিংড়িঘের দেখিয়ে ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ করা হয় ৪৬ কোটি ২৪ লাখ তিন হাজার ৩২০ টাকা। এ থেকে নানা কৌশলে ১৯ কোটি ৮২ লাখ আট হাজার ৩১৫ টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করা হয়।

এ ঘটনায় ২০১৪ সালের ২০ নভেম্বর মাতারবাড়ির ব্যবসায়ী এ কে এম কায়সারুল ইসলাম চৌধুরী বাদী হয়ে সাবেক জেলা প্রশাসক মো. রুহুল আমিন, সাবেক অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এডিসি) জাফর আলমসহ ২৮ জনের বিরুদ্ধে কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতে একটি মামলা করেন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে তদন্তের জন্য দুদককে নির্দেশ দেন। দীর্ঘ তদন্ত শেষে প্রায় ২২ কোটি টাকা আত্মসাতের সঙ্গে সাবেক জেলা প্রশাসকসহ ৩৬ জনের জড়িত থাকার বিষয়ে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে দুদক।

Advertisements