বিনোদন

ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি সচল রাখতে শাকিবকে প্রয়োজন

ঢাকাই ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে ইদানীং অস্থির অবস্থা বিরাজ করছে। যৌথ প্রযোজনার নামে প্রতারণা বন্ধে চলচ্চিত্র শিল্পী-কলাকুশলীদের একজোট হয়ে আন্দোলন, কারণে-অকারণে দেশের নাম্বার ওয়ান চিত্রনায়ক শাকিব খানকে নিষিদ্ধ করা, যে কোনো সিনিয়র শিল্পীকে নিয়ে হুট-হাট অপমানজনক কথাবার্তা বলা- এসব প্রায় রীতিই হয়ে দাঁড়িয়েছে এখন। এর মধ্যে শাকিব খানকে নিয়েই আলোচনা-সমালোচনা একটু বেশি। কেউ বলছেন শাকিব খান ইন্ডাস্ট্রির চাকা সচল রেখেছেন, আবার কেউ বলছেন অনেক হয়েছে। তাকে আর দরকার নেই। ঢাকাই চলচ্চিত্রে এ মুহূর্তে শাকিব খানের প্রয়োজনীয়তা কতটুকু- ঠিক এ ইস্যুটি নিয়ে

দেশের সিনিয়র জুনিয়র অনেক শিল্পীর সঙ্গে কথা হয়। তারা জানিয়েছেন দেশের এ শীর্ষ নায়কের প্রয়োজন কতটুকু? বিস্তারিত লিখেছেন এফ আই দীপু

শাকিব খানকে নিয়ে গত তিন মাস ঢাকাই চলচ্চিত্রাঙ্গন বেশ উত্তাল। এ তিন মাসে তাকে একবার নিষিদ্ধ ও একবার বয়কট করা হয়েছে। প্রথমবার নিষিদ্ধ করেছিল চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতি। পরিচালকদের বেশিরভাগ অংশকে ‘বেকার’ বলায় সমিতি কর্তৃক তাকে নিষিদ্ধ করা হয়। যদিও প্রথমে সেটিকে নিষিদ্ধ বলে পরে তোপের মুখে পড়ে পরিচালক সমিতি নিজেদের বাণী শুধরে নিয়ে ‘বয়কট’ করার কথা বলে। এরপর কয়েকজনের সমঝোতায় পরিচালক সমিতির কাছে দুঃখ প্রকাশ করার মধ্য দিয়ে সেই বয়কট তথা নিষিদ্ধের ঝামেলা মিটে যায়। এর মধ্যে শুরু হয় ঈদের ছবির প্রচার-প্রচারণা। বছরের অন্যান্য সময়ের চেয়ে ঈদে ছবি মুক্তি দিয়ে নিজেদের লগ্নিকৃত অর্থ ফেরত পাওয়ার নিশ্চয়তা থাকায় অনেক প্রযোজকই এ সময়টাতে ছবি মুক্তি দেয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু সেই চেষ্টায় গত কয়েক বছর এগিয়ে থাকে জাজ মাল্টিমিডিয়া। এবারের ঈদেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। কিন্তু বাদ সাধে অন্য জায়গায়। এ প্রতিষ্ঠান কর্তৃক নির্মিত দুটি যৌথ প্রযোজনার ছবি নিয়ে বাধে বিপত্তি। শাকিব খান অভিনীত ‘নবাব’ ও কলকাতার জিৎ অভিনীত ‘বস-২’ ছবিগুলো যখন মুক্তির জন্য সেন্সরের আবেদন করে তখন চলচ্চিত্রের ১৪টি সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত চলচ্চিত্র ঐক্যজোটের বিরোধিতা করে। তাদের এ বিরোধিতা মাঠের আন্দোলন পর্যন্ত গড়ায়। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ ছিল, ছবি দুটি যৌথ প্রযোজনার সঠিক নীতিমালা মেনে তৈরি হয়নি। এ আন্দোলনকে পাশ কাটিয়ে শেষ পর্যন্ত ছবি দুটি ঈদে মুক্তি পায়। কিন্তু মুক্তির আগে আন্দোলনকারীদের বিরোধিতা করায় শাকিব খানকে আবারও বয়কট করে চলচ্চিত্র ঐক্যজোট তথা পরিচালক সমিতি। বলা হয়েছে, শাকিব খানের সঙ্গে তারা কোনো ছবিতে কাজ করবেন না। যদিও তখন শাকিব খান বিভিন্ন আলোচনা কিংবা মন্তব্যে বলেছেন, যৌথ প্রযোজনার নামে প্রতারণার বিরুদ্ধেও তার অবস্থান। কিন্তু নবাব নিয়ে যারা ষড়যন্ত্র করছে তাদের প্রতিই তিনি বিষোদ্গার করেছেন। তার মতে, নবাবকে আটকে দেয়া মানে হচ্ছে তার প্রতি অন্যায় করা। কারণ নবাব যৌথ প্রযোজনার নীতিমালা মেনেই তৈরি হয়েছে।

 

এমন অস্থিরতার মধ্যে যখন সময় কাটছিল ঠিক তখন তথ্য মন্ত্রণালয় পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত যৌথ প্রযোজনায় ছবি নির্মাণ আপাতত বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কিন্তু শাকিব খানবিষয়ক বিতর্ক রয়েই গেছে। আন্দোলনকারীদের অনেকেই বলছেন, শাকিব খানকে ইন্ডাস্ট্রিতে দরকার নেই। এ মুহূর্তে ঢাকাই চলচ্চিত্রে অনেক নায়ক আছে। তাদের দিয়েই ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি চলবে। কিন্তু কথাটি কতটা যুক্তিযুক্ত? অনেক নায়ক আছে এটা সত্যি, কিন্তু ভরসা করার মতো নায়ক কয়জন আছে? যাদের ওপর ভর করে একজন প্রযোজক নিশ্চিন্তে অর্থ লগ্নি করতে পারবেন? উত্তর যে কেউ বলে দিতে পারবেন। একজনও নেই। তা হলে কেন বলা হচ্ছে শাকিব খানকে বাদ দিলেও ঢাকাই ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি চলবে? ঠিক এ বিষয়ে শাকিব খানের কথা হয়েছিল। তাকে বাদ দেয়া, নিষিদ্ধ কিংবা বহিষ্কার করা- এসব নোংরা খেলা যখন চলছিল তখন শাকিব খানের কাছে প্রশ্ন রাখা হয়েছিল, আপনি কী মনে করেন, আপনাকে ছাড়া ইন্ডাস্ট্রি চলবে? উত্তরে অনেকটা অভিমান ঝরে পড়ল তার গলায়। তিনি বলেন, ‘কারও জন্য কোনো কিছু থেমে থাকে না। আমি আজ আছি কাল নেই। তাই বলে তো আর ইন্ডাস্ট্রি থেমে থাকবে না। কিন্তু ঠিক কী কারণে তারা আমাকে বাদ দেয়ার চেষ্টা করছেন সেটি আমার বোধগম্য নয়। হ্যাঁ, এটা ঠিক যে, দেশীয় অনেক প্রযোজক-পরিচালকের সঙ্গে এখন আমার কাজ করা হয় না। কারণ, আমি বর্তমানে যে অবস্থানে আছি সেখান থেকে নিচে নামা সম্ভব নয়। হয় আমাকে কাজ বন্ধ করে দিতে হবে, নতুবা নিজের মতো করে কাজ তৈরি করে নিতে হবে। আমি তো আর কাজ বন্ধ করব না। তাই নিজের মতো করে ক্ষেত্র তৈরি করছি। কেউ যদি আমার চাহিদা ফিলআপ করতে পারে তা হলে আমি তার সঙ্গে কাজ করব। এটা নিয়ে কোনো দ্বিমত নেই। আপনি যখন সর্বোচ্চ শিখরে অবস্থান করবেন, তখন কী আর নিচে নামতে ইচ্ছা করবে? নাকি সেখান থেকেই বিদায় নেয়ার কথা ভাববেন?’

তা হলে কী এমন অচলাবস্থায় আপনি বিদায় নেয়ার কথা ভাবছেন? এমন প্রশ্নে কিছুটা ভাবান্তর দেখা গেল তার মধ্যে। একরাশ অভিমান নিয়েই বললেন, হয়তো তাই করব। তবে সবকিছু সময়ের ওপর নির্ভর করছে। আমার ভক্তরা, যারা আমাকে ভালোবেসে এই সর্বোচ্চ আসনে বসিয়েছেন তাদের হুট করে নিরাশ করাটা মোটেও উচিত হবে না। করবও না। কিন্তু যেভাবে নোংরা রাজনীতি চলছে সেটির মধ্য থেকে কাজ করতেও মন সায় দেয় না।’

কথার মধ্যে অভিমান ঝরে পড়লেও নিজ কর্মে অনঢ় শাকিব খান। কে কী বলল তা নিয়ে পড়ে থাকতে রাজি নন এ নায়ক। তিনি পথ চলবেন নিজের মতো করেই। ইন্ডাস্ট্রিতে এখনও তার প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করেন তিনি। গেল ঈদে তার অভিনীত ছবি দেখতে দর্শকদের উপচে পড়া ভিড় সেটিই প্রমাণ করে।

শাকিব তার অভিনয় ক্যারিয়ার শুরু থেকেই আমার চেনা। বেশ পরিশ্রম করে আজকের অবস্থানে এসেছে ছেলেটি। তার ছবি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেলে দর্শকরা হুমড়ি খেয়ে পড়ে শুনলাম। বিষয়টি শুনলেই বুকের ভেতর শান্তি চলে আসে। এ সময়ে এসে আমাদের ইন্ডাস্ট্রির ছবি দেখতে দর্শকরা হলে ভিড় করছে বিষয়টি কিন্তু অনেক পজেটিভ। শাকিবকে অবশ্যই দরকার। পাশাপাশি তার মতো আমাদের আরও নায়ক দরকার। যারা মিলেমিশে চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রি টেনে ওপরে নিয়ে যাবে। তবে একটা কথা মনে রাখা উচিত। জনপ্রিয় নায়কদের প্রতিটি পা হিসাব করে চলতে হয়। তারাও কিন্তু ভুলের ঊর্ধ্বে নয়- সোহেল রানা

শাকিব খানের প্রতি আমাদের সিনিয়রদের সবারই অগাধ ভালোবাসা ছিল। আমি মনে করি শাকিব ভালোবাসা পাওয়ার মতোই একটা ছেলে। বাণিজ্যিক ছবির দর্শক মানেই এখন শাকিবের দর্শক। এটা নিয়ে আমাদের কোনো কথা নেই। শাকিবের জনপ্রিয়তা নিয়েও আমাদের কোনো দ্বিমত নেই। শাকিব খান এখন ঢাকাই ছবির একটা গুরুত্বপূর্ণ পার্ট। তাই তাকে প্রতিটি পদক্ষেপই ভেবেচিন্তে নিতে হয়। প্রতিটি কথাও ভেবেচিন্তে বলতে হবে। কিন্তু সেটি হচ্ছে না। সে এখন ইন্ডাস্ট্রির সেরা নায়ক তাই তাকে বিবেচনা করেই পথ চলতে হবে। তার দরকার আছে। সবাইকে নিয়েই তার চলতে হবে- আলমগীর

যতদূর দেখছি শাকিব খান এখন দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নায়ক। প্রযোজকরা তার ছবিতে লগ্নি করতে সিরিয়াল দিয়ে থাকে। বিষয়টি শুনলেই তো আনন্দ লাগে। এমন আরও কয়েকজন নায়ক পেলে আমাদের আরও বেশি ভালো লাগত। আমরা চলচ্চিত্রের সুন্দর সময় দেখতে চাই। সে এখন চলচ্চিত্রের গুরুত্বপূর্ণ পার্সন। চলচ্চিত্রে তাকে প্রয়োজন। এ প্রয়োজনটা কাজে লাগিয়ে এমন কিছু করা যাবে না যা তাকে সমালোচিত করে। যৌথ প্রযোজনার ছবি করছে করুক। এ ক্ষেত্রে প্রপার নীতিমালা মেনে চলার শর্ত তো সেই জুড়ে দেবে। কারণ সে চলচ্চিত্রের গুরুত্বপূর্ণ হিরো। তাকে আরও বিনয়ী হতে হবে- উজ্জ্বল

কথায় কথায় শাকিবকে নিষিদ্ধ করার বিষয়টি আমার কাছে খারাপ লাগে। ঠুনকো বিষয় নিয়ে তার প্রতি অবিচার করা হচ্ছে। আরে শাকিব খান তো আমাদেরই সন্তান। চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রিকে কি ও কম দিচ্ছে? মানলাম সে যৌথ প্রযোজনার ছবিতে অভিনয় করছে বলে তার প্রতি অনেকেই রেগে আছেন। রাগের বহিঃপ্রকাশ এটা কেন হবে। অনেকে আছেন শাকিবের চেয়ে আরও বড় অপরাধ করছে তাদের তো কিছু বলা হচ্ছে না। পরিবারের যে ছেলেটি বাবা মাকে বেশি অর্থ দেয় তার দিকে সবার নজর অন্যরকম থাকে। শাকিবের বেলায় হচ্ছে উল্টো। তাকে ইন্ডাস্ট্রির এখনও প্রয়োজন এটা সবাইকে মানতে হবে- ওমর সানী

শাকিব খান এখন দেশের জনপ্রিয় নায়ক। আর ইন্ডাস্ট্রি জনপ্রিয় নায়কদের ছবি দিয়েই কিন্তু ব্যবসা করে। আর্থিকভাবে লাভবান হয়। এমন জনপ্রিয় নায়কদের শুধু ইন্ডাস্ট্রিতেই নয় সব জায়গাতেই দরকার। শাকিব খান এখন যৌথ প্রযোজনার ছবিতে অভিনয় করছে। যৌথ প্রযোজনার ছবির সংখ্যার দিক থেকে মনে হয় আমার চেয়ে বেশি ছবি বাংলাদেশের কোনো নায়ক করেনি। আমরা চাই যৌথ প্রযোজনার ছবি হোক। দুই পক্ষের লাভের ভিত্তিতেই হোক সেটি। শাকিব খানের প্রয়োজন কতটুকু আমরা এ প্রশ্নে কেন যাব? শাকিব খান এখন বাংলাদেশি চলচ্চিত্রের জন্য কী এটা সবাই দেখছেন। দর্শকরা তার ছবি কেমন লুফে নিচ্ছেন এটা তো সবারই জানা- ফেরদৌস

শাকিব খানের মায়ের ভূমিকায় অনেক ছবিতেই অভিনয় করেছি আমি। যতটুকু দেখেছি সে ভালো ছেলে। নায়ক হিসেবে এখন বেশ জনপ্রিয়তা তার। ঢাকাই চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রিতে নায়ক হিসেবে এখন শুধু ওর নামই কানে আসে। আরও অনেক ছেলেও আছে। তবে তাদের মধ্যে এগিয়ে শাকিব। সবার থেকে এগিয়ে থাকার কারণেই চলচ্চিত্র নিয়ে তার দায়িত্বও বেশি। একজন টপ নায়কের প্রয়োজন কতটুকু এটা তো সবারই জানা। জনপ্রিয়তা যতটা এখন সে পেয়েছে সেটি ধরে রাখাটাই হবে বুদ্ধিমানের কাজ। সেটি কারও ক্ষতি করে নয়। সবাই বুকে করে নিয়েই তাকে এগিয়ে যেতে হবে। ভুল পথে পা দেয়া যাবে না- ববিতা

শাকিবের ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করতে ইচ্ছুক নই। তবে একটা কথা না বললেই নয়। আমি আগে থেকেই বলে আসছি আমরা দুটি হিরো পেয়েছি। একটি চিত্রনায়ক শাকিব আরেকটা ক্রিটেকার সাকিব। তোমরা ওদের ছেড়ে দাও। ওদের নিজের মতো চলতে দাও। দেখ, ওরা দেশের জন্য ভালো ভালো সুখবর বয়ে আনবে। এ কথার বাইরে শাকিব খানকে নিয়ে কখনও কোনো নেতিবাচক কমেন্ট করেনি। আমি তো চলচ্চিত্রের ভালোর জন্য কথা বলি। খারাপটা দূর করার কথা বলি। চলচ্চিত্রের জন্য শাকিবের অনেক কিছু করার রয়েছে। শাকিব খান জনপ্রিয় নায়ক। দেশের ছবির কল্যাণে তার গুরুত্ব রয়েছে। এ গুরুত্বটা সেও বুঝবে- ফারুক

আমি আগেও বলেছি শাকিব খান দেশের নাম্বার ওয়ান নায়ক। তবে এখন সে আমাদের বুঝতে ভুল করছে। কিছু উল্টা-পাল্টা বক্তব্যের জন্য সে সমালোচিত হচ্ছে। ঢাকাই চলচ্চিত্রে শাকিব অনেক দিয়েছে। অনেক হিট ছবির নায়ক সে। আরও অনেক কিছু দেয়ার সম্ভাবনাও তার মধ্যে আছে। ব্যক্তিগত দৃষ্টিতে শাকিব আমার কাছে ইন্ডাস্ট্রির একজন অপরিহার্য নায়ক। তার প্রয়োজন আছে এবং থাকবে। তবে সে যেহেতু শীর্ষে অবস্থান করছে তাই তার দায়িত্বও অনেক। এদিকেও তাকে খেয়াল রাখতে হবে। শাকিবের মতো নায়ক এখন আমাদের ইন্ডাস্ট্রিতে নেই এ কথা স্বীকার করতে কোনো আপত্তি নেই আমার- মিশা সওদাগর

অনেকেই ভুল বুঝছেন। মনে করা হচ্ছে শাকিবের বিপক্ষে দাঁড়িয়েছে সবাই। এটা ভুল ধারণা। সবাই তো নিয়ম না মেনে নির্মিত যৌথ প্রযোজনায় নির্মিত ছবির বিপক্ষে দাঁড়িয়েছেন। এখানে একটি শাকিবের ছবিও ছিল। তাই হয়তো ধারণা করা হচ্ছে শাকিবের বিরুদ্ধে আন্দোলন করা হচ্ছে। শাকিবের প্রয়োজন আমাদের চলচ্চিত্রে কতটুকু এটা এফডিসির প্রতিটি মানুষই অবগত। আর দর্শকরা তো তার ছবির জন্য প্রায় পাগল। আমরা সব সময় তার ভালো চাই। বাংলা ছবির ভালো চাই। শাকিব খান এখন শীর্ষ নায়কের আসনে আছে। বাংলাদেশি চলচ্চিত্র এখন তার ওপর অনেকটাই নির্ভরশীল- পপি

শাকিব ভাইকে সব সময় বড় ভাই মনে করি। ব্যক্তিগতভাবে আমি তাকে বেশ শ্রদ্ধা করি। এখনও আমি মনে করি যৌথ প্রযোজনার অনিয়মের বিরুদ্ধে যে আন্দোলন আমরা করছি এখানে শাকিব ভাই যুক্ত থাকলে দ্রুত ফল চলে আসত। কারণ তিনি বাংলাদেশের সেরা নায়ক। এ আন্দোলনে শাকিব ভাইকে অনেক প্রয়োজন ছিল। কিন্তু তিনি আমাদের ভুল বুঝছেন। শাকিব ভাই নিজের জায়গাতেই আছেন। তার জায়গা কেউ নিতে পারবে না। দর্শকরা তাকে চান, প্রযোজকরা তার সিডিউল পেতে সিরিয়াল দিয়ে থাকেন, হল মালিকরা তার ছবি পেলে একবাক্যে নিয়ে নেন। ইন্ডাস্ট্রিতে তার প্রয়োজন অনেক- জায়েদ খান

শাকিব ভাইয়ের সঙ্গে একটিমাত্র ছবিতে অভিনয় করেছি আমি। নাম ‘ধূমকেতু’। তার যে কি রকম দর্শকপ্রিয়তা তখনই বুঝতে পেরেছি। নিঃসন্দেহে বর্তমানে তিনি ইন্ডাস্ট্রির সেরা নায়ক। আর ইন্ডাস্ট্রিতে আমার বয়সও বেশি দিন হয়নি। আমি যখন সিনেমাতে আসি তখনই শাকিব ভাই সুপারহিট নায়ক। আর এখন তো তিনি জনপ্রিয়তার শীর্ষে অবস্থান করছেন। তার কাছ থেকে আমরা ছোটরা আরও অনেক কিছু আশা করি। তিনি আরও ভালো ছবি দর্শকদের উপহার দেবেন এমনটিই প্রত্যাশা। তার কাছ থেকে আমরাও অনেক কিছু শিখতে চাই। মান্না ভাইয়ের মৃত্যুর পর শাকিব ভাই ইন্ডাস্ট্রির হাল ধরেছেন। তুমুল জনপ্রিয়তা নিয়ে অভিনয় করছেন। এ জনপ্রিয়তা কিন্তু এমনি এমনি আসেনি। কাজের মাধ্যমেই সে অর্জন করেছেন। এখন তিনি আমাদের চলচ্চিত্রের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একজন কাণ্ডারি। তার প্রয়োজনীয়তা আছে এবং থাকবে। শাকিব ভাই সামনে থাকলে আমরা সবাই মিলে আমাদের চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রিকে আরও অনেক দূর নিয়ে যেতে পারব। সবাই এক পরিবারের হয়ে থাকতে চাই আমরা। কেউ যদি তাকে ভুল বুঝিয়ে আমাদের কাছ থেকে দূরে রাখে তা হলে বলব তাদের কাছ থেকে তিনি যেন দূরে থাকেন- পরীমনি

শাকিব ভাই এখন ইন্ডাস্ট্রির সেরা নায়ক এ কথা একবাক্যে সবাইকে স্বীকার করতেই হবে। আমি তো সব সময়ই করি। তার অনেক জুনিয়র আমরা। ইন্ডাস্ট্রিতে শাকিব ভাইয়ের প্রয়োজন না থাকলে তো আমাদের কোনো অস্তিত্বই নেই। শাকিব ভাইকে বড় ভাইয়ের মতোই শ্রদ্ধা করি। আশা করি যৌথ প্রযোজনা নিয়ে এখন যে জটিলতা তৈরি হয়েছে সেটার শিগগিরই একটা সুরাহা হবে। সমাধানের পথও তৈরি হচ্ছে। শাকিব ভাই তার জায়গাতেই থাকবেন। দেশের দর্শকদের ভালো ভালো ছবি উপহার দেবেন। আমরা সবাই মিলে চলচ্চিত্রকে এগিয়ে নেয়ার পথে হাঁটব। আমার চোখে শাকিব খান শাকিব খানই। তার প্রয়োজন আমাদের কাছে, চলচ্চিত্রের কাছে এবং দর্শকদের কাছে অনেক। আমি যখন চলচ্চিত্রে অভিনয় শুরু করি তখনই শাকিব ভাই ইন্ডাস্ট্রির হিট নায়ক। মাত্র দুইটি যৌথ প্রযোজনার ছবিতে অভিনয় করেছেন শাকিব ভাই। তার আগে কত কত দেশের একক প্রযোজিত ছবিতে অভিনয় করেছেন তিনি। শুধু দর্শকরাই শাকিব খানের ভক্ত নয়, আমরাও তার ভক্ত। কিন্তু এখন বেশ খারাপ লাগে। কেমন যেন বিভাজন হয়ে পড়ছি আমরা। এটা চাই না। শাকিব ভাই আমাদের নায়ক। আমাদের দেশের দর্শকদের নায়ক। তার প্রয়োজন আছে এবং থাকবে- বাপ্পী চৌধুরী

শাকিব খান তো এখন সুপার-ডুপার নায়ক। তার ছবি মানেই তো হলভর্তি দর্শক। ভাবতে ভালোই লাগে। কতদিন হলভর্তি দর্শক দেখা থেকে বঞ্চিত হয়েছে আমাদের প্রেক্ষাগৃহগুলো। রাজধানীর অভিজাত হলগুলোতেও আবার বাংলা ছবি দেখার জন্য দর্শকরা ভিড় করছেন। শাকিব খান অভিনীত প্রায় ছবি এখন হিট হচ্ছে। সে নিঃসন্দেহে জনপ্রিয় ও শীর্ষ নায়ক। তার কাছে তাই প্রত্যাশাটাও বেশি। চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রি তার কাছে এমন কিছু আশা করে যা এ শিল্পের জন্য সুফল বয়ে আনে। তার প্রয়োজন কতটা বা কেমন এ প্রশ্ন তোলাই তো উচিত নয়। শাকিব খানের সঙ্গে ‘সুভা’ নামের একটি ছবিতে অভিনয় করেছিলাম আমি। তখনকার শাকিব খান আজকের শাকিব খানের মতো এতটা জনপ্রিয় ছিল না। নিজের অভিনয়গুণ আর পরিশ্রমেই আজকের অবস্থানে এসেছেন তিনি। প্রশংসিত হচ্ছেন। জাতীয় পদক পাচ্ছেন। বিষয়টি কিন্তু সত্যিই অনেক আনন্দের। তাই শাকিব ভাইয়ের দায়িত্বও কিন্তু অনেক বেশি। সবার দৃষ্টি তার দিকেই থাকে। এ দোয়া করি তার জনপ্রিয়তা আরও বাড়–ক। দর্শকদের আরও ভালো ভালো কাজ উপহার দিক। তবে সেটি যেন আমাদের পরিবার থেকে আলাদা হয়ে নয়। আমরা এক পরিবারের হয়েই থাকতে চাই- পূর্ণিমা

যে যাই বলুক দিনশেষে কিন্তু আমরা শিল্পীরা দর্শকদের ওপরই নির্ভরশীল। যতদিন দর্শক চাহিদা থাকে ততদিন আমরা ইন্ডাস্ট্রিতে রাজত্ব করতে পারি। তারা না চাইলে আমাদের আড়ালেই চলে যেতে হয়। তাই দর্শকরাই আমাদের চলচ্চিত্রের মূল শক্তি। শাকিব খান এখন দর্শক ডিমান্ড। তিনি দর্শকদের মন জয় করতে পেরেছেন। তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আসছে, নানা অভিযোগ আনা হচ্ছে তবুও তো তার জনপ্রিয়তা কমছে না। আমার চোখে শাকিব খান শাকিব খানই। এবারের ঈদে ‘নবাব’ ও ‘রাজনীতি’ ছবি দুটির দিকে তাকালেই সেটি স্পষ্ট হয়ে যাবে। দর্শকরা কতটা বিপুল আগ্রহে ছবি দুটি দেখছেন। যৌথ প্রযোজনা কিংবা গল্পের জন্য কিন্তু দর্শকরা ছবিটি দেখেননি। তারা দেখেছেন শাকিব খানের জন্য। শাকিব খান হচ্ছেন দর্শকদের সবচেয়ে চাহিদা সম্পন্ন নায়ক। দর্শকদের জনপ্রিয়তা আর চাহিদা অগ্রাহ্য করার কোনো রাস্তা নেই। এখন শাকিব খানকে অগ্রাহ্য করা মানেই দর্শকদের অগাহ্য করা। চলচ্চিত্র তো দর্শকনির্ভর শিল্প। দর্শক যার সঙ্গে থাকবেন চলচ্চিত্রও তার সঙ্গে থাকবে। তাই শাকিব ভাই হচ্ছেন দর্শকদের নায়ক। তবে এখন যে পরিস্থিতি চলছে আমি মনে করি এটা সাময়িক। দ্রুত এ পরিস্থিতির অবসান হবে- নিরব

আমি আগে থেকেই শাকিব ভাইয়ের ভক্ত। শাকিব খানের তুলনা শাকিব খান নিজেই। তিনি যতটা হিট ছবি উপহার দিয়েছেন সংখ্যার দিক থেকে ততগুলো ছবিও আমি করতে পারিনি। তিনি এখন দর্শকদের কাছে জনপ্রিয় নায়ক। আমাদের বড় ভাই। আমারও পছন্দের নায়ক তিনি। ইন্ডাস্ট্রিতে কত নায়কই তো আসেন। কিন্তু শাকিব খানের মতো এমন দর্শক জনপ্রিয়তা ক’জনের ভাগ্যে জোটে? ইন্ডাস্ট্রির সেরা নায়ক এখন তিনি। প্রযোজক চোখ বন্ধ করেই তাকে নিয়ে ছবিতে লগ্নি করতে আগ্রহী হন। যেটা এখন আর কোনো নায়কের বেলায় ঘটে না। ইন্ডাস্ট্রিতে শাকিব ভাইয়ের প্রয়োজন সবাই অনুভব করেন। কাজেই তার প্রয়োজন কতটুকু সেটি আমাদের ইন্ডাস্ট্রির দিকে তাকালেই পরিষ্কার হবে। তার সাফল্য দেখে আমরাও কাজের উৎসাহ পাই। আমি ব্যক্তিগতভাবে শাকিব ভাইকে নিয়ে কখনও নেতিবাচক মন্তব্য করিনি। নির্বাচনের রাতের ঘটনার পর দর্শকদের মধ্যে অনেকেই মনে করেন শাকিব ভাইয়ের সঙ্গে আমার শত্রুতা। মোটেও তা নয়। শাকিব ভাই এখনও আমার কাছে বড় ভাইয়ের জায়গাতেই আছেন এবং সবসময় থাকবেন। আশা করব তিনিও যেন আমাদের ভুল না বোঝেন- সাইমন

বর্তমানে শাকিব খানই দেশের একমাত্র সুপার হিরো। ইন্ডাস্ট্রির অনেক নায়িকাদের স্বপ্নের নায়ক তিনি। তার সঙ্গে ছবি করার জন্য সবাই উদগ্রীব। দর্শক জনপ্রিয়তার বিচারেও শীর্ষে আছেন তিনি। শীর্ষে আছেন ছবির সংখ্যার বিচারেও। তাই শাকিব খান আমার চোখে একজন সফল হিরো। ছবির গল্প ভালো হোক বা না হোক, শাকিব খান আছেন এতেই ছবিটির প্রতি হল মালিকদের চাহিদা বেড়ে যায়। যে যাই বলুক শাকিব খানের ওপরই তো এখন দেশের সিনেমার লগ্নিকারীদের ভরসা। শোবিজে আমার ক্যারিয়ার শুরুর আগে থেকেই শাকিব ভাইয়ের ভক্ত আমি। তার অভিনীত অনেক ছবিই প্রেক্ষাগৃহে গিয়ে দেখেছি। চলচ্চিত্রে তার সাফল্য তো ঈর্ষা করার মতো। তাকে ঠাণ্ডা মাথায় কাজ করতে দেয়া উচিত। কারণ তার মধ্যে আন্তর্জাতিক মানের নায়কদের লুক বিদ্যমান। সিনিয়র যারা আছেন তারাসহ শাকিব ভাইকে নিয়ে যদি আমরা পথ চলতি পারি তা হলে আমাদের চলচ্চিত্রের জন্য ভালো কিছু হবে। শাকিব ভাইয়ের জনপ্রিয়তা এখন সিনেমার কাজে লাগাতে হবে। আমি যতদূর জানি অন্যদের মতো শাকিব ভাইও দেশের চলচ্চিত্রের ভালো চান। দেশের শিল্পীদের ভালো চান। তাকে নিয়েই আমাদের সবার কাজ করতে হবে- মিষ্টি জান্নাত