Default

ফিরিয়ে দাও আমার ১৭ বছর

fরাজধানীর সূত্রাপুর থানার একটি হত্যা মামলায় গ্রেফতার হয়ে বিনা বিচারে ১৭ বছর কারাভোগের পর ওই এলাকার বাসিন্দা মো. শিপনকে জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। পাশাপাশি আগামী ৬০ কর্মদিবসের মধ্যে বিচারিক আদালতকে হত্যা মামলাটি নিষ্পত্তি করতে বলা হয়েছে। বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি জে বি এম হাসান সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ বিনা বিচারে কারাগারে আটক থাকার বিষয়ে গণমাধ্যমে প্রচারিত প্রতিবেদন আমলে নিয়ে গতকাল মঙ্গলবার এ জামিন মঞ্জুর করেন।

বিচারিক আদালতে হত্যা মামলার বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত শিপনের জামিন বহাল থাকবে বলে আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া শিপনকে জামিননামাসহ সব ধরনের আইনি সহায়তা দিতে জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থার ঢাকা জেলা লিগ্যাল এইড অফিসকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিনা বিচারে ১৭ বছর কারাভোগের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আদালত পর্যবেক্ষণে বলেন, রাষ্ট্রের দায়িত্ব সংবিধান অনুযায়ী দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা। এ ক্ষেত্রে রাষ্ট্র ও সংশ্লিষ্টরা ব্যর্থ হয়েছে। এটি সবার জন্যই লজ্জাকর।

শিপনের হাজতবাস ও ২২ বছরেও হত্যা মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া নিয়ে গত ২৬ অক্টোবর বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল টোয়েন্টিফোরে একটি প্রতিবেদন সম্প্রচারিত হয়। পরে ৩০ অক্টোবর ওই প্রতিবেদনের অনুলিখন ও সিডি আদালতের নজরে আনেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী কুমার দেবুল দে। এরপর শুনানি নিয়ে একই দিন আদালত শিপনকে আদালতে হাজিরের পাশাপাশি মামলার নথি তলবের আদেশ দেন। এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল শিপনকে আদালতে হাজির করে কাশিমপুর কারা কর্তৃপক্ষ।

শুনানিতে আদালতের জিজ্ঞাসাবাদে শিপন বলেন, হত্যার ঘটনা তিনি শুনেছেন। তবে তিনি হত্যাকা ে জড়িত নন। ঘটনার পর তাকে ধরে নিয়ে হাত কেটে দেওয়া হয়। জামিন পেলে কোথায় যাবেন_ আদালতের এমন প্রশ্নের জবাবে শিপন বলেন, ‘মা-বাবার কাছে যাব।’ মা-বাবার সঙ্গে যোগাযোগ আছে কি-না, এমন প্রশ্নের উত্তরে শিপন বলেন, যোগাযোগ নেই। তবে মা-বাবা মারা গেলে খবর পেতেন। কিন্তু এখন জামিন পেলে বাড়িতে গিয়ে মা-বাবাকে খুঁজবেন বলেও জানান তিনি। এ পর্যায়ে আদালত জানতে চান, বিচারিক আদালতে শিপনের পক্ষে কোনো আইনজীবী আছেন কি-না। উত্তরে শিপন বলেন, কোনো আইনজীবী ছিলেন না। পরে আদালত জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর শিপনের কোথাও আশ্রয় না থাকলে তাকে পুনর্বাসনের জন্য জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে আবেদনের জন্য পরামর্শ দেন।

আদালতে শিপনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী কুমার দেবুল দে। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল একেএম জহিরুল হক ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মো. শহীদুল ইসলাম খান। আদেশের পর শহীদুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, শেখ মাহতাব নামে ৩০ বছরের এক যুবককে হত্যার অভিযোগে ১৯৯৪ সালের ২৫ অক্টোবর সূত্রাপুর থানায় মামলা হয়। পরের বছর ৬ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। ওই মামলার দুই নম্বর আসামি শিপন ২০০০ সালের ৭ নভেম্বর থেকে কারাগারে আছেন। চলতি বছরের ২৬ এপ্রিল থেকে মামলাটি ঢাকার অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ (পরিবেশ আপিল ট্রাইব্যুনাল) আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।

ভিডিও:লজ্জাবতী গাছ তো দেখেছেন, আর আজ দেখুন এক নির্লজ্জক লজ্জাহীন গাছকে দেখে আপনি হা হয়ে যাবেন (ভিডিও)

Add Comment

Click here to post a comment