অপরাধ/দুর্নীতি

ফাঁস হলো ধর্ষক ইভানের অপকর্ম

জন্মদিনের কথা বলে বনানীর নিজ বাসায় ডেকে তরুণীকে (২১) ধর্ষণ মামলার একমাত্র আসামি বাহাউদ্দিন ইভানকে (২৮) গ্রেফতার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে নারায়ণগঞ্জের চাষাড়া থেকে তাকে গ্রেফতার করে র‍্যাব। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ধর্ষণের বিষয়টি র‍্যাবের কাছে স্বীকার করেছেন ইভান।

ধর্ষণের শিকার তরুণী বুধবার দুপুরে ইভানকে একমাত্র আসামি করে বনানী থানায় মামলা করেন।

এর আগে মঙ্গলবার রাতে জন্মদিনের কথা বলে তাকে নিজ বাসায় ডেকে নেয় ইভান। ওইদিন রাতে বনানী ২ নম্বর রোডের ন্যাম ভিলেজের ৫/১ নম্বর বাড়ির দ্বিতীয় তলার বি-১ নম্বর ফ্ল্যাটে এই ধর্ষণের ঘটনা ঘটে বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করেন তরুণী।

ঘটনার পরপরই মধ্যরাতে তরুণীকে জোর করে বাসা থেকে বের করে দিয়ে পালিয়ে যান ইভান। ইভানের বাবার নাম বোরহান উদ্দিন বেলাল। তিনি বনানীর বিশিষ্ট ব্যবসায়ী। গ্রামের বাড়ি চাঁদপুর মতলব উত্তরের মোহনপুর গ্রামে।

আর তরুণীর গ্রামের বাড়ি কুড়িগ্রামে। তিনি একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা শেষ করেছেন।

এ ঘটনার পর থেকেই বেরিয়ে আসছে ধনীর দুলাল ইভানের নানা অপকর্মের ফিরিস্তি। নিজেকে ফেসবুকে তিনি পরিচয় দেন আরজে ইভান নামে। পড়ালেখা করেছেন নবম শ্রেণি পর্যন্ত। কিন্তু কখনো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আবার কখনো নর্থ-সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র বলে ফেসবুকে পরিচয় দিয়ে তরুণীদের ফাঁদে ফেলতেন।

দুটি বিয়ের তথ্য পাওয়া গেলেও নিজেকে ইভান উপস্থাপন করতেন অবিবাহিত হিসেবে। তার নেতৃত্বে রাজধানীতে একটি গ্রুপ রয়েছে, যারা ধর্ষণসহ নানা অপকর্ম করে বেড়ায়।

ইভানের ঘনিষ্ঠরা জানান, মাস ছয়েক আগে এক তরুণীকে তুলে নিয়ে গিয়ে বনানীর চেয়ারম্যান বাড়ির মাঠের পাশে ধর্ষণের চেষ্টা চালায় ইভান ও তার সহযোগীরা। এ সময় সহযোগীসহ তাকে গণধোলাই দিয়ে আটকে রাখে স্থানীয়রা।

ইভানের বাবা বিষয়টি জানতে পেরে প্রভাবশালীদের ম্যানেজ করে ছেলেকে উদ্ধার করেন। পরে ইভানকে হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা করানো হয়। এ ঘটনায় তার শরীরে একাধিক সেলাই দিতে হয়েছিল।

বর্তমানে ইভানের স্ত্রী ও দুই সন্তান রয়েছে। এই স্ত্রীকে ঘরে আনার আগে আরো একটি বিয়ে করেছিলেন তিনি। বাবা বোরহান উদ্দিনের ব্যবসা দেখাশুনা ছাড়া ইভান তেমন কিছু করতেন না। তবে সঙ্গীদের নিয়ে প্রায়ই নেশার আসর বসাতেন।

বনানী থানায় ধর্ষণ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সুলতানা আক্তার জানান, নিজের স্ত্রী-সন্তানের কথা গোপন রেখে সম্পর্ক গড়ে ওই তরুণীকে আগেও ধর্ষণ করেছেন ইভান। ১১ মাস আগে ফেসবুকের মাধ্যমে ওই তরুণীর সঙ্গে ইভানের পরিচয় হয়। প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠার পর থেকেই বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাকে ধর্ষণ করেন ইভান।

ইভানকে গ্রেফতার অভিযানে নেতৃত্ব দেয়া র‍্যাব-১১ এর এএসপি শাকিল আহমেদ জানান, ঘটনার পর ইভান নারায়ণগঞ্জে তার খালা শান্তার (খালুর নাম এরশাদ) বাসায় আশ্রয় নিয়েছিলেন। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সেই বাসা থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে তাকে গ্রেফতার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তরুণীকে ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছেন তিনি।

ইভানের বাবা বোরহান উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমার ছেলে এ ধরনের খারাপ কাজ করতে পারে, তা আমার জানা ছিল না। এবারই প্রথম জানলাম।’

তিনি বলেন, ‘ইভান ক্যাম্ব্রিয়ান কলেজে নবম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ালেখা করে কাপড়ের দোকানে ম্যানেজার হিসেবে কাজ করছিল। তাকে সম্প্রদি সৌদি আরবে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছিল।’

বোরহান উদ্দিন আরো বলেন, ‘আমার ছেলে যদি সত্যিই খারাপ কাজ করে থাকে, তবে আমি তার শাস্তি চাই।’

Advertisements