অপরাধ/দুর্নীতি জাতীয়

‘ফরহাদ মজহার বড় ডাক্তারের মাধ্যমে গর্ভপাতের আশ্বাস দেন’

অপহরণ নয়, পরিবারের কাছ থেকে কিছু টাকা নিজের জিম্মায় নেওয়ার পরিকল্পনা থেকে ‘অপহরণ নাটক সাজান’ কবি ও রাজনৈতিক ভাষ্যকার ফরহাদ মজহার। তার উন্নয়ন সংস্থা উবিনীগের এক সাবেক নারী কর্মীর সঙ্গে সম্পর্কের জের ধরে তিনি এ ঘটনা ঘটান। এমনটাই দাবি করছেন, পুলিশের মহাপরিদর্শক এ কে এম শহীদুল।

শহীদুল হক ওই নারীর নাম প্রকাশ না করে আদালতে দেয়া তার জবানবন্দির বরাতে ফরহাদ মজহারের সঙ্গে তার অবৈধ সম্পর্কের ইঙ্গিত দেন। বলেন, ‘ওই নারী আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তিনি ফরহাদ মজহারের উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা উবিনীগে কর্মরত ছিলেন। তখনই ফরহাদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে ওঠে তার। সেটি একসময় শারীরিক সম্পর্কে রূপ নেয়। এটি ফরহাদ মজহারের স্ত্রী জানার পর তার চাকরি চলে যায়। কিন্তু এরপরও তাদের মধ্যে সম্পর্ক বিদ্যমান ছিল। একপর্যায়ে ওই নারী গর্ভবতী হন। পরে ফরহাদ মজহারের সহযোগিতায় তিনি গর্ভপাত করান।’

আইজিপি বলেন, ‘এবার আবারো গর্ভবতী হয়ে পড়লে ওই নারী তা ফরহাদ মজহারকে জানান। এতে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় তিনি বিমর্ষ হয়ে পড়েন। তিনি তাকে আবারো বড় ডাক্তারের মাধ্যমে গর্ভপাত করানোর আশ্বাস দেন। তারপর থেকে তিনি কীভাবে কি করেছেন, তা সহজেই বোঝা যায়।’

পুলিশের এই শীর্ষকর্তা বলেন, ‘ফরহাদ মজহার ওই নারীকে ঘটনার দিন দুই দফায় মোবাইল একাউন্টের মাধ্যমে ১৫ হাজার টাকা পাঠান। এটার সঙ্গে তিনি সরকারকে বেকায়দায় ফেলানো এবং কিছু টাকা নিজের জিম্মায় নেওয়ার জন্য অপহরণ নাটক করেছেন।’

তিনি বলেন, ‘এটা ক্লিয়ার তিনি অপহৃত হননি, নাটক সাজিয়েছেন। সরকারকে বেকায়দায় ফেলা এবং বান্ধবীর সমস্যা সমাধানে তিনি এ নাটক সাজিয়েছেন।’

ফরহাদ মজহার কীভাবে নিজ উদ্যোগে ঢাকা থেকে খুলনা গিয়েছিলেন সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘কীভাবে নিজ উদ্যোগে ঢাকা থেকে খুলনা গিয়েছিলেন, তা তিনিই ভালো বলতে পারবেন। তবে তিনি যে খুলনা গিয়েছিলেন এবং সেখান থেকে হানিফ পরিবহনের বাসের টিকেট কেটেছেন, মোবাইলে টাকা পাঠিয়েছেন সেসব কিছুর ভিডিও ফুটেজ পুলিশের হাতে এসেছে।’

Advertisements