Advertisements
অপরাধ/দুর্নীতি

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সৎ মেয়েকে ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছে আরমান

গ্রেফতারের পর সৎ মেয়েকে ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছে আরমান হোসেন সুমন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আরমান সৎ মেয়েকে বিয়েরও দাবি করে। তবে যৌন নির্যাতনের শিকার মেয়েটি এই দাবিকে মিথ্যা বলে জানিয়েছেন। মামলার তদন্ত তদারক কর্মকর্তা ঢাকার কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্স ন্যাশনাল ক্রাইমের (সিটিটিসি)অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার (সাইবার ক্রাইম) নাজমুল ইসলাম এ তথ্য জানান।

বৃহ্স্পতিবার (১৩ জুলাই) সিটিটিসির সাইবার ক্রাইম ইউনিট আরমানকে আদালতের মাধ্যমে দু’দিনের রিমান্ডে নিয়েছে। মঙ্গলবার (১১ জুলাই) রাজধানীর রমনা থানায় ২০ বছর বয়সী ওই তরুণী তার সৎ বাবা আরমানের বিরুদ্ধে মামলা করেন। বুধবার সন্ধ্যায় মগবাজার থেকে আরমানকে গ্রেফতার করে সিটিটিসির সাইবার ক্রাইম ইউনিট। আরমান বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল নিউজ টুয়েন্টিফোরের শব্দ প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত ছিল। ওই প্রতিষ্ঠানের একজন কর্মকর্তা জানান, মামলার পরপরই আরমানকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।

উপপুলিশ কমিশনার নাজমুল ইসলাম বলেন, ‘আরমানকে আদালতে সোপর্দ করে পাঁচ দিনের রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছিল। আদালত শুনানি শেষে দু’দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। আরমানকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে সৎ মেয়েকে ধর্ষণ, ধর্ষণের ভিডিও ধারণ ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মেয়েটির নামে ভুয়া আইডি খুলে হয়রানির কথা স্বীকার করেছে। আরও বিস্তারিত জানার জন্য তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।’

এই কর্মকর্তা বলেন, ‘আরমান তার সৎ মেয়েকে বিয়ে করারও দাবি করেছে। কিন্তু তাকে কোরআন শরীফের সূরা আন-নিসায় এ সংক্রান্ত বিধিনিষেধের কথা বলা হলে সে চুপ করে ছিল। আমরা তার বিয়ের বিষয়টিও যাচাই করে দেখছি।’

নির্যাতনের শিকার ওই তরুণী মামলার এজাহারে বলেন, ‘২০০৫ সালে তার মায়ের সঙ্গে আরমানের বিয়ে হয়। এর এক বছর পর থেকে তিনি মা ও সৎ বাবার সঙ্গে মোহাম্মদপুরের নূরজাহান রোডের একটি বাসায় থাকতে শুরু করেন। ২০০৮ সালে তার বয়স যখন ১২ বছর, সপ্তম শ্রেণিতে পড়েন তখন আরমান তাকে ধর্ষণ করে। কৌশলে মোবাইল ফোন দিয়ে কিছু ছবিও তোলে রাখে। ওই ঘটনার সময় তরুণীর মা কর্মস্থলে ছিলেন। পরে বিষয়টি কাউকে না জানানোর জন্য আরমান ভয়ভীতি দেখায়।’

ওই তরুণী বলেন, ‘আমি বয়সে ছোট থাকায় এবং আসামি আমার মায়ের স্বামী বিধায় ভয়ে বিষয়টি গোপন রাখি। আম্মু অফিসে যাওয়ায় দিনের বেলায় আমি একাই বাসায় থাকি। সেই সুযোগে আসামি (আরমান) মোবাইল ফোনে ধারণ করা আমার নগ্ন ছবি প্রকাশের ভয় দেখিয়ে ও নানা কৌশলে বহুবার ধর্ষণ করে। ধর্ষণের ভিডিও এবং ছবি মোবাইল ফোনে ধারণ করে।’

এজাহারে বলা হয়, মোহাম্মদপুর ছেড়ে পরে রমনা থানার দিলু রোড এলাকার দুটি বাসায় বাস করেন তারা। ২০১৫ সাল পর্যন্ত এই দুই বাসায়ও সৎ বাবা নিয়মিত তাকে ধর্ষণ করত। এক পর্যায়ে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে একটি হাসপাতালে গিয়ে গর্ভপাত ঘটান ওই তরুণী।

Advertisements





সর্বশেষ খবর