অন্যরকম খবর

প্রাণ নেই, তবুও স্থান পরিবর্তন করে বয়ে চলছে যে রহস্যময় পাথর!!

rচলমান পাথর! এ আবার কেমন জিনিস? পাথর কখনো চলতে পারে নাকি? জীবনের অস্তিত্ব থাকা সত্ত্বে তো গাছ চলাচল করতে পারে না, সেখানে পাথরের মতো একটা জড়বস্তু কিভাবে চলতে সক্ষম?

আজকের এই যুগে যেখানে বিজ্ঞান এত উন্নতি করেছে সেই যুগে বসবাস করে এই তথ্য অনেকের কাছেই হয়ত বিশ্বাসযোগ্য হবে না। কিন্তু বৈচিত্র্যময় এই পৃথিবীতে এমন সব রহস্য লুকিয়ে আছে যার ব্যাখ্যা বিজ্ঞানীরা আজ অব্দি দিতে পারেনি।

তেমনই প্রকৃতির এক বিস্ময় ডেথ ভ্যালি উপত্যকার রেসট্র্যাক প্লায়া নামক জায়গাটির চলমান পাথর। ক্যালিফোর্নিয়ার রেসট্র্যাক প্লায়ার ওই অংশটি জনমানবহীন এক বৈচিত্রময় জায়গা। এখানে সচরাচর অন্য কোনো প্রানী দেখা যায় না।

অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি যে, এই উপত্যকার রহস্যময় পাথরগুলি কোন এক অজানা কারণে তার স্থান পরিবর্তন করে বয়ে চলে। চলমান পাথর নামে পরিচিত এই পাথরগুলো স্বচক্ষে কেউ চলতে দেখেনি ঠিকই কিন্তু প্রথমদিন পাথরগুলোকে যে অবস্থানে দেখা যায় পরেরদিন তার থেকে বেশ দূরের অবস্থানে দেখা যায়।

চলার পথে মাটির স্তরে এরা যে ছাপ রেখে যায় তা দেখে এদের অবস্থান পরিবর্তনের ব্যাপারটি নিশ্চিত হওয়া যায়।

সবচেয়ে মজার দৃশ্যটা দেখা যায় ডেথ ভ্যালি ন্যাশনাল পার্কের রেসট্র‍্যাক প্লায়াতে। দেখে মনে হবে যেন পাথরের রেসের প্রতিযোগিতা চলছে। এমনকি শুধুমাত্র পাথরের এই বিরল রেসের কারণে ডেথ ভ্যালি ন্যাশনাল পার্কের এই এলাকাটির নামকরণ করা হয়েছে রেসট্র‍্যাক।

মানুষ বা অন্য কোনো প্রাণীর দ্বারা পাথরের স্থান পরিবর্তন হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও আশেপাশে মাটিতে তাদের কোনো পদচিহ্ন পাওয়া যায় না। স্থান পরিবর্তনের এই বিষয়টি সর্বপ্রথম ১৯৪৮ সালে বিশেষজ্ঞদের নজরে পড়ে। কিছু গবেষকদের মতে, মাটি যখন কর্দমাক্ত থাকে এবং বরফ পড়ে পিচ্ছিল হয় তখন বাতাসের ধাক্কায় পাথরগুলো স্থান পরিবর্তন করতে পারে।

শেষ পর্যন্ত এই যুক্তিও গ্রহনযোগ্যতা পাইনি। কারণ গ্রীষ্মকালে যখন মাটি একেবারে শুকনো থাকে তখনও পাথরগুলো স্থান পরিবর্তন করে। তাছাড়া পাথরগুলো একই রাস্তায় চলে না। প্রতিটি পাথরের চলার পথ সম্পূর্ণ ভিন্ন বা আলাদা।

এরপর ১৯৫৫ সালে এম স্ট্যানলী বন্যার পর সৃষ্ট বরফকে এই অদ্ভুত আচরণের জন্য দায়ী করেন। একে ‘আইস শিট’ মতবাদ বলে গণ্য করা হয়। কিন্তু চলার পথে বক্রতা থাকার কারণে এ তত্ত্ব বাতিল হয়ে যায়।

১৯৭৬ সালে রবার্ট শার্প এবং ডুই ক্যারে বছরের বিভিন্ন সময়ে তীব্র বাতাসের গতিবেগের কারণে পাথর গুলো চলে বলে দাবি করেন। কিন্তু ১৯৯৫ সালে হ্যাম্পশায়ার কলেজের ভুত্বাত্তিকগণ শার্প ক্যারের মতামতকে বানচাল করে দিয়ে আইস শিট মতবাদকে গ্রহণ করেন।

কিন্তু উভয় মতামতই বাতিল হয়ে যায় যখন একই জায়গায় পাথর গুলো পাশাপাশি নিজেদেরকে অতিক্রম করতে থাকে। কারণ বাতাস বা আইসশিট যাই থাকুক পাথরগুলো অন্তত একদিকে চলবে। কিন্তু বাস্তব ঘটনা উভয় মতবাদকেই মিথ্যে প্রমাণিত করে দেয়।

আধুনিক স্যাটেলাইট ইমেজের মাধ্যমে এদের স্থান পরিবর্তনের প্রমাণ পাওয়া গেলেও কারণটি আজও রহস্যময়।

ভিডিও: সেনাবাহিনীর কি ট্রেনিং রে বাবা ! চোখের পানি ধরে রাখতে পারবেন না… দেখুন (ভিডিও)

Add Comment

Click here to post a comment