খেলা-ধুলা

প্রশ্ন উঠছে বিরাট কোহলির নেতৃত্ব নিয়ে

বিরাট কোহলির নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠে গেল চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনালে। ভারত অধিনায়কের বোলিং পরিবর্তন নিয়ে প্রশ্ন তুললেন শেন ওয়ার্ন। লন্ডনের ওভালে ফাইনালে ধারাভাষ্য দেয়ার সময় ওয়ার্ন সরাসরি প্রশ্ন করে বসলেন, ‘কোহলির বোলিং চেঞ্জ দেখে আমার মনে হয়েছে ওর কোনো পরিকল্পনাই নেই ফাইনালের। পাকিস্তান ব্যাটসম্যানদের থামানোর কোনো পরিকল্পনা দেখতে পেলাম না। কোহলিকে দেখে মনে হচ্ছে ক্যাপ্টেন হিসেবে ও দিশেহারা হয়ে গেছে।’‌

শুধু এই সমালোচনা করেই থামেননি লেগ স্পিনের জাদুকর। ওয়ার্ন বিরক্ত হয়েছেন প্রচণ্ড মার খাওয়া সত্ত্বেও কোহলি কেন টানা বোলিং করিয়ে গেছেন রবিচন্দ্রন অশ্বিনকে? ‘অশ্বিনের আমি ফ্যান। কিন্তু ফাইনালে ওর বোলিং দেখে আমি চূড়ান্ত হতাশ। কোনো নির্দিষ্ট পরিকল্পনা নেই। কোনো বৈচিত্র নেই বোলিংয়ে। সবচেয়ে বড় কথা ক্যাপ্টেন কোহলি মার খাওয়া অশ্বিনকে কেন টানা বোলিং করাল? অশ্বিনকে বসিয়ে অন্য কোনো পার্টটাইম বোলারকে দিতে পারত। জানি না কী ঘুরছিল কোহলির মাথায়?’— একের পর এক প্রশ্ন ওয়ার্নের।

পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ভারতীয় বোলিংকে দিশাহীন বলছেন ধারাভাষ্যকাররা। সে কারণেই ভারত পিছিয়ে পড়ল। এবং সব বিভাগেই টেক্কা দিল সরফরাজের পাকিস্তান। সৌরভ গাঙ্গুলি বলেই ফেললেন, ‘অতিরিক্ত কিছু করতে গিয়েই ভারতীয় বোলাররা নিজেদের চাপে ফেলে দিয়েছে। বুমরাকে দেখে মনে হল চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনাল এবং বিপক্ষ পাকিস্তান— এই দুটি চাপ সামলাতে পারল না। জঘন্য বোলিং ভারতের। একমাত্র ভুবনেশ্বর কুমার ছাড়া আর কোনো বোলার পাকিস্তানি ব্যাটসম্যানদের আটকে রাখতে পারল না! জানি না কী হল ভারতীয় বোলারদের? সত্যি এত খারাপ বোলিং পারফরমেন্স ভাবা যায় না।’

সাবেক ইংল্যান্ড অধিনায়ক নাসের হুসেন তো বলেই দিলেন, ‘পাকিস্তান দেখিয়ে দিল, ওদের নিচু চোখে দেখা উচিত হয়নি। এই পাকিস্তান সত্যি চমকে দিল ক্রিকেট বিশ্বকে।’

সৌরভের মূল্যায়ন এরকম, ‘ভারতের বিরুদ্ধে এজবাস্টনে প্রথম ম্যাচ হেরে যাওয়ার পর প্রতিটা ম্যাচে পাকিস্তান দুর্দান্ত উন্নতি করেছে। যার প্রমাণ ফাইনাল। দুরন্ত ব্যাটিং। সঙ্গে দুরন্ত বোলিং। দাঁড়াতেই দিল না ভারতকে। মনে রাখতে হবে নবাগত ফখরের ব্যাটিং। ওকে দেখে কে বলবে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনালে ভারতের বিরুদ্ধে ব্যাট করল! ভারতীয় স্পিনারদের বিরুদ্ধে ওর ফুটওয়ার্ক দেখলাম। যা একজন পরিণত ব্যাটসম্যানের ইঙ্গিত দিয়ে রাখল। তেমন বোলিং আমিরের। প্রথম বল থেকেই ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের আক্রমণ করে গেল।’

সুনীল গাভাস্কারের মতে, পাকিস্তানের ৩৩৮ রানে বোঝা ভারতীয়দের ফাইনালে ব্যাকফুটে ঠেলে দিল। তার কারণ, ভারতীয় বোলিংয়ের দৈন্য অবস্থা। ‘এত পরিকল্পনাহীন ভারতীয় বোলিং বহুদিন দেখিনি। অশ্বিন–জাদেজা জুটিকে খুঁজে পাওয়া গেল না। বিশ্বের অন্যতম সেরা স্পিনিং জুটিকে ফখর একাই শেষ করে দিল। এত বাজে বোলিং হলে তখন দলের ব্যাটসম্যানদের ওপর চাপটা স্বাভাবিকভাবেই এসে পড়ে। সেটাই হল। ফাইনালে ৩০০ রানে বোঝা সবসময় বেশ কঠিন হয়ে থাকে। সাথে এই পাকিস্তানি বোলিং। কোনো সন্দেহ নেই পাক বোলিংয়ে যা বৈচিত্র রয়েছে তা পৃথিবীর অন্য কোনো দেশে দেখতে পাওয়া যায় না।’— বলছেন গাভাস্কার।

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে ফাইনালে যোগ্য দল হিসেবে কর্তৃত্ব দেখাল সরফরাজের পাকিস্তান তা মনে করছেন অস্ট্রেলিয়ার সাবেক অধিনায়ক রিকি পন্টিং। ‘টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচ বাজে ভাবে হেরে যাওয়ার পর পাকিস্তান দেখিয়ে দিয়েছে কীভাবে ঘুরে দাঁড়ানো যায়। দেখার মতো, একটা দল যেভাবে প্রতিটি ম্যাচে নিজেদের ছাপিয়ে গেল। না, এমন সচরাচর দেখা যায় না।’‌