আইন-আদালত জাতীয়

প্রশ্নপত্র ফাঁস : জনতা ব্যাংকের নিয়োগে নিষেধাজ্ঞা আপিলেও বহাল

প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে জনতা ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার পদে নিয়োগ কার্যক্রমের উপর হাইকোর্টের দেওয়া নিষেধাজ্ঞা বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগ। হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে পরীক্ষা কমিটির পক্ষে করা লিভ টু আপিল খারিজ করে দেন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে আপিল বেঞ্চ।

রবিবার আদেশ হলেও বিষয়টি সোমবার (১০ জুলাই) রিটের পক্ষের আইনজীবী ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া সাংবাদিকদের জানিয়েছেন।

আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী ইলিয়াস কচি, সঙ্গে ছিলেন ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া। পরীক্ষা কমিটির পক্ষে ছিলেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মোমতাজ উদ্দিন ফকির।

আইনজীবী জ্যোতির্ময় বড়ুয়া বলেন, পরীক্ষা কমিটির পক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ বিজ্ঞান অনুষদের ডিন হাইকোর্টের হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত চেয়ে লিভ টু আপিল করেন। ফলে জনতা ব্যাংকের ফল প্রকাশ ও নিয়োগ কার্যক্রমের উপর হাইকোর্টের দেওয়া নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকল।

এর আগে গত ২২ মে জনতা ব্যাংকের লিখিত পরীক্ষার ফল প্রকাশ ও পরবর্তী কার্যক্রমের তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা দেন হাইকোর্ট।

একইসঙ্গে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা তদন্ত ও গত ২১ এপ্রিল নেওয়া লিখিত পরীক্ষা বাতিলে বিবাদীদের নিষ্ক্রিয়তা কেন বেআইনী ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুলও জারি করেন আদালত।

অর্থ সচিব, আইন সচিব, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, ব্যাংকার্স সিলেকশন কমিটির সভাপতি, জনতা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ও সমাজ বিজ্ঞান অনুষদের ডিনকে এই রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

গত ২১ এপ্রিল জনতা ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার পদে নিয়োগে লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। সেই পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ করেন চাকরি প্রত্যাশীরা। যা নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমেও প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। সেই পরীক্ষা অনুযায়ী নিয়োগ প্রক্রিয়া স্থগিত চেয়ে হাইকোর্টে রিট করেন ১৫ জন চাকরিপ্রার্থী।

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ১০ মার্চ ৮৩৪টি পদের বিপরীতে জনতা ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার পদে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দেয় ব্যাংকার্স সিলেকশন কমিটি। এই পরীক্ষা নেওয়ার দায়িত্ব পায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ। গত ২৪ মার্চ সকাল ও বিকেলে প্রাথমিক বাছাই (প্রিলিমিনারি) পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। আড়াই লাখ প্রার্থী তাতে অংশ নেন। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হন ১০ হাজার ১৫০ জন। ২১ এপ্রিল লিখিত পরীক্ষায় ৯ হাজার ৪০০ জন অংশ নেন।



সর্বশেষ খবর