খেলা-ধুলা

প্রকাশ পেল নাসিরকে অবহেলার মূল কারণ!

26-1বিপিএল শেষে হলেই আগামী মাসে নিউজিল্যান্ড সফরে যাবে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড সফরের জন্য ২২ দলের প্রাথমিক স্কোয়াড ঘোষণা করেন। এই স্কোয়াডে নাসির-কে রাখা হয়নি। বেশ কিছুদিন আগে থেকেই একাদশে জায়গা পাচ্ছেন না তিনি। এর আগে একাদশে জায়গা না হলেও স্কোয়াডে জায়গা হতো এই ফিনিসারের। কিন্তু আসন্ন সিরিজে তাকে স্কোয়াডে রাখাই হয়নি।

নাসিরের দলের জায়গা না পাওয়া নিয়ে নান্নু বলেন, ‘শর্টার ও লংগার ভার্শনে সাত নম্বরে ব্যাট করার জন্য অলরাউন্ডার হিসেবে সাব্বির ও সৈকত এগিয়ে থেকেছে। লংগার ভার্শনে সৌম্যকেও ওখানে বিবেচনা করতে হয়েছে। এ ছাড়া মিরাজ ও শুভ আছে স্পিনিং অলরাউন্ডার হিসেবে। এখন এই সাত-আট নম্বরের জন্য তিন ফরম্যাটে আমরা পাঁচ জনের বেশী তো বিবেচনা করতে পারি না। ফলে নাসির আসলে টিম কম্বিনেশনের জন্যই বাদ পড়েছে।’
স্কোয়াডে অন্যান্যদের অবস্থান দেখলে মনে হতেই পারে নাসিরের জায়গা হতে পারত শুভাগত হোমের জায়গায়। শুভাগত ও নাসির দুজনই ডানহাতি অলরাউন্ডার। অভিজ্ঞতার দিক থেকে নাসির অনেক বেশি পরিপক্ক।

নাসির এবং শুভাগত ভিন্নধর্মী খেলোয়াড়। কিছু দিন আগে অনুষ্ঠিত ইংল্যান্ডের সাথে টেস্টে খেলে শুভাগত ও ওয়ানডেতে খেলে নাসির। নাসির ইংল্যান্ডের বিপক্ষে রান না পেলেও দুটি ম্যাচ খেলে পেয়েছেন দুটি উইকেট, তবুও তাকে অনেক রান খরচ করিয়েছে।
অপরদিকে শুভাগত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ঢাকা টেস্ট খেলেছিলেন, যেটা বাংলাদেশের ইতিহাসে ঐতিহাসিক জয়। সেই টেস্টে শুভাগত দুই ইনিংসেই বল হাতে ব্যার্থ হন। কোন উইকেটও নিতে পারেন নি। টেস্টের ১ম ইনিংসে ৬ রানে আউট হলেও ২য় ইনিংসে ২৫ রানে অপরাজিত থাকেন।
নাসির এবং শুভাগত দুজনই ব্যার্থ হয়েছেন তাদের নিজ নিজ অবস্থানে। কিন্তু অভিজ্ঞতার দিক থেকে নাসির শুভাগত থেকে এগিয়ে।
এইবার আসুন নতুন সম্ভাবনাময়ী দুই ক্রিকেটার মোসাদ্দেক এবং মিরাজকে নিয়ে কথা বলা যাক। মোসাদ্দেক নাসির এবং শুভাগত হোমের থেকে অনেকাংশে এগিয়ে। টেস্ট, ওয়ানডে, টি- টোয়েন্টি, ফাস্ট-ক্লাস, লিস্ট ‘এ’, টোয়েন্টি ২০ তে মোসাদ্দেকের ব্যাটিং গড় যথাক্রমে ৩৮.৬৬ ১৫ ৭০.৮৯ ৪৫.৩৮ ৩৭.৪২। বোলিংয়ে নিজেকে যদিও ঠিকভাবে মেলে ধরতে পারেননি।
অন্যদিকে মিরাজ যদিও ব্যাট হাতে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে নিজেকে মেলে ধরেছিলেন, কিন্তু ইংল্যান্ড টেস্টে নিজেকে ব্যাটসম্যান হিসেবে প্রমাণ করতে পারেননি। অবশ্য তার বোলিংয়ে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ঢাকা টেস্টে জয়ের স্বাদ পায় টাইগার বাহিনী। দুই টেস্ট মিলে সর্বমোট ১৯ উইকেট পান তিনি, তার মধ্যে তিনটি ইনিংসেই ৫ উইকেট বা তার বেশী উইকেট পান।
সুতরাং এই দুইজন খেলোয়াড় নিজেদের ফর্মে থাকলে দলে নাসির বা শুভাগত এর জায়গা করে নেওয়াটা কষ্টকর হবে। তখন দল গঠিত হবে এইভাবে,

ওয়ানডে ও টি-২০ দলঃ
তামিম, ইমরুল/সৌম্য, সাব্বির, মাহমুদুল্লাহ, মুশফিক, সাকিব, মোসাদ্দেক, মিরাজ, মাশরাফি, মুস্তাফিজ, তাসকিন।
মাশরাফি মুস্তাফিজ তাসকিন এরা কেউই টেস্ট খেলেন নাহ। এদের মধ্যে কেবলমাত্র তাসকিন টেস্টে জায়গা করে নিতে পারেন, মাশরাফি আগেই টেস্ট থেকে অবসর নিয়েছেন এবং মুস্তাফিজের ইনজুরির সমস্যা থাকার কারণে তাকে দিয়ে টেস্ট নাও খেলাতে পারেন বিসিবি।

টেস্ট দলঃ
তামিম, ইমরুল/সৌম্য, মমিনুল হক, সাব্বির, মাহমুদুল্লাহ, মুশফিক, সাকিব, মিরাজ, তাসকিন (সম্ভাব্য), শহীদ (সম্ভাব্য), পিচ অনুযায়ী যেকোন একজন পেসার বা স্পিনার।

আরও পড়ুনঃ আমেরিকা থেকে ঘাড় ধরে বের করা হবে বাংলাদেশীদের!!- দেখুন কি বলছে বাংলাদেশীরা?….দেখুন ভিডিওতে

Add Comment

Click here to post a comment





সর্বশেষ খবর