লাইফ স্টাইল স্বাস্থ্য

পেটের গ্যাস সমস্যা সমাধানের কিছু প্রাকৃতিক খাবার

পেট ভালো রাখতে চান? ব্যায়াম বা শারীরিক কসরত না করলে, পানি কম খেলে বা খাবারে আঁশের পরিমাণ কম থাকলে পেটে গ্যাস তৈরি হতে পারে। এ ছাড়া হজম না হলে পেটে গোলমাল দেখা দিতে পারে। কিছু প্রাকৃতিক খাবার আছে, যা খেলে গ্যাসসহ পেটের অন্যান্য সমস্যায় উপকার পাওয়া যায়। খাবারগুলো সম্পর্কে জেনে নিন।

দই: ল্যাকটোব্যাকিলাস, অ্যাসিডোফিলাস ও বিফিডাসের মতো নানা উপকারী ব্যাকটেরিয়া থাকে দইয়ে। দই খেলে হজম ভালো হয়, গ্যাস কমে। খাবারের পর টকদই খাওয়া বেশ কার্যকর।

তরমুজ: তরমুজে ৯২ শতাংশ পানি। গরমের সময় শরীর থেকে পানি ঝরে যায় বলে এ সময় তরমুজ খাওয়া ভালো। এতে যে পটাশিয়াম থাকে, তা গ্যাস নিয়ন্ত্রণে রাখে।

হলুদ: আয়ুর্বেদ শাস্ত্রমতে, হজমসংক্রান্ত সব ধরনের সমস্যা সমাধানে হলুদ দারুণ কার্যকর। এটি চর্বিজাতীয় খাবার হজমে ভূমিকা রাখে। হলুদে প্রদাহনাশক উপাদান থাকে, যা প্রদাহ কমায়।

পালং: পালংশাকে আছে অদ্রবণীয় আঁশ, যা পরিপাকতন্ত্র পরিষ্কার রাখে, গ্যাস দূর করে। পরিপূর্ণ সুবিধা পেতে পালংশাক ঠিকমতো রান্না করে নিতে হয়।

আনারস: আনারসে আছে ৮৫ শতাংশ পানি এবং ব্রোমেলাইন নামের কার্যকর পাচক রস। এটি পরিপাকতন্ত্র পরিষ্কার রাখে। আনারস ত্বকের জন্যও উপকারী।

লেবু-পানি: পানি পানের সুফলের কথা সবাই জানেন। কিন্তু হালকা গরম পানির সঙ্গে লেবুর রস যুক্ত করলে তা প্রাকৃতিক মলবর্ধক হিসেবে কাজ করে। এটি পরিপাকতন্ত্র পরিষ্কার রাখতে কাজ করে।

মৌরি: মৌরির অনেক গুণ। পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম, জিঙ্ক, ম্যাংগানিজ, ভিটামিন সি, আয়রন, সেলেনিয়াম, ম্যাগনেশিয়ামের মতো খনিজ উপাদান আছে মৌরিতে। মৌরির-চা হজমপ্রক্রিয়ার জন্য দারুণ উপকারী। পেটের সমস্যা ও কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধে মৌরির তেলের বিশেষ গুণ আছে। গ্যাস্ট্রিক এনজাইম তৈরিতে মৌরি কার্যকর ভূমিকা রাখে।

শসা: প্রচুর সিলিকা ও ভিটামিন সি আছে শসায়। এতে উচ্চমাত্রায় পানি ও নিম্নমাত্রার ক্যালরিযুক্ত উপাদান রয়েছে। ফলে যাঁরা দেহের ওজন কমাতে চান, তাঁদের জন্য শসা আদর্শ টনিক হিসেবে কাজ করে। যাঁরা ওজন কমাতে চান, তাঁরা সালাদে বেশি করে শসা খেতে পারেন। কাঁচা শসা চিবিয়ে খেলে তা হজমে বড় ধরনের ভূমিকা রাখে। নিয়মিত শসা খেলে দীর্ঘমেয়াদি কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হয়।

কলা: যাঁরা বেশি করে লবণ খান, তাদের গ্যাস ও হজমে সমস্যা হতে পারে। কলায় যে পটাশিয়াম থাকে, তাতে শরীরের সোডিয়াম ও পটাশিয়ামের ভারসাম্য বজায় থাকে। কলা হজমে সাহায্য করে। দেহ থেকে দূষিত পদার্থ দূর করে দেয়।