বিনোদন

পুলিশি হেফাজতে জেরায় চাঞ্চল্যকর তথ্য জানালেন বিক্রম!

গ্রেপ্তার হওয়ার আগে প্রথম দফায় তিনদিনের জিজ্ঞাসাবাদে অভিনেতা বিক্রম চট্টোপাধ্যায় প্রতিটি ঘটনার কথা অস্বীকার করেছিলেন কিংবা এড়িয়ে গিয়েছিলেন। এবার পুলিশি হেফাজতে জেরায় তিনি উল্টোপথে হেঁটেছেন বলেই জানয়েছে পুলিশ।

এক তদন্তকারী জানান, অনিচ্ছাকৃত খুনের ধারা যুক্ত হওয়ার পর মাত্রাতিরিক্ত জোরে গাড়ি চালানোর বিষয়টি নিয়ে বিক্রমের বয়ান ছিল জরুরি। মে মাসের গোড়ায় কলকাতার টালিগঞ্জ থানায় এসে বিক্রম বার বার জোরে গাড়ি চালানোর বিষয়টি অস্বীকার করেছিলেন।

গত শুক্রবার থানায় জেরা শুরু হতেই প্রথমে তিনি পুরনো কথারই পুনরাবৃত্তি শুরু করেন। কিন্তু তাঁর সামনে ফরেন্সিক রিপোর্ট রেখে বলা হয়েছিল, রিপোর্ট বলছে, ঘণ্টায় ১০৫ কিলোমিটার বেগে গাড়ি চালিয়েছিলেন তিনি। তদন্তকারীদের দাবি, বিক্রম জানান, তিনি জোরে গাড়ি চালিয়েছিলেন এবং অভ্যাসবশত তা করেছিলেন। ওই গতিতে গাড়ি চালালে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলেও তিনি তদন্তকারীদের সঙ্গে একমত হন।

দুর্ঘটনার আগে মদ্যপান প্রসঙ্গে বিক্রম তদন্তকারীদের সঙ্গে বিরোধে যাননি বলেও এক তদন্তকারী কর্মকর্তা জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, জেরায় জানতে চাওয়া হয়েছিল, বিক্রম কেন মদ খাওয়ার কথা সাংবাদিক বৈঠকে অস্বীকার করেছিলেন এবং থানায় গিয়ে বলেছিলেন যে অল্প মদ খেয়েছিলেন।

তদন্তকারীদের দাবি, বিক্রম তাঁদের জানান যে, তিনি সে রাতে মদ খেয়েছিলেন। তবে পুলিশ যে নাইটক্লাবের সিসিটিভি ফুটেজ বের করবে বা মদের বিল সংগ্রহ করবে কিংবা সোনিকার বন্ধুরা যে বিচারকের কাছে গোপন জবানবন্দি দেবেন, তা তিনি বুঝতে পারেননি।

কলকাতা পুলিশের এক কর্মকর্তার দাবি, ঘটনার পুনর্নির্মাণেও যথেষ্ট সাহায্য করেছেন বিক্রম। গভীর রাতে দক্ষিণ কলকাতার নাইটক্লাব থেকে তাঁর কসবার বাড়ি হয়ে লেক মলের কাছে ঘটনাস্থল পর্যন্ত দু’ঘণ্টার পুঙ্খানুপুঙ্খ বর্ণনা দিয়েছেন অভিনেতা।

তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, বাড়ির কাছে দীর্ঘ সময় গাড়িতে সোনিকার সঙ্গে সময় কাটানো প্রসঙ্গে বিক্রম জানান, পরদিন সোনিকার বেঙ্গালুরু চলে যাওয়ার কথা ছিল। তাই প্রায় পৌনে এক ঘণ্টা তাঁরা পুরনো দিনের গল্প করেছিলেন।

একইসঙ্গে বিক্রম দাবি করেছেন, তাঁদের মধ্যে কোনও মন কষাকষি বা বচসা হয়নি। তিনি ঠিক করেছিলেন, রাসবিহারী, হাজরা, গোপালনগর, আলিপুর হয়ে ওয়াটগঞ্জে সোনিকার বাড়িতে পৌঁছে দেবেন।