অপরাধ/দুর্নীতি জাতীয়

পাঁচ হাজার টাকার বিনিময়ে ইভানের বাসায় এসেছিল ধর্ষিতা

বনানীতে বাসায় ডেকে ধর্ষণের অভিযোগে দায়েরকৃত মামলার আসামি ইভানের স্ত্রী টুম্পার অভিযোগ, ‘পাঁচ হাজার টাকার কন্ট্রাক্টে ইভানের বাসায় এসেছিল ওই তরুণী মডেল। শারীরিক সম্পর্কের পর পুরো টাকা পরিশোধ করেনি ইভান। কারণ, তখন বাসায় টাকা ছিল না। এ নিয়ে দু’জনের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। টুম্পার দাবি, তরুণী একা ওই বাসায় আসেননি। তার এক ছেলে বন্ধুকে নিয়ে এসেছিলেন। ওই ছেলে বন্ধু বাসার বাইরে অবস্থান করছিল। কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে ওই ছেলে বন্ধুকে ফোন করে তরুণী জানায়, ১০-১২ পিস ইয়াবা নিয়ে আয়।

এই বাসায় বসে ইয়াবা খাব। তখন ইভান বলেন, বাসায় এসব হলে মা-বাবা ঘুম থেকে জেগে যাবে। পরে সমস্যা হবে। এ নিয়ে বাদানুবাদের এক পর্যায়ে তরুণীকে জোর করে বাসা থেকে বের করে দেয় ইভান।’ টুম্পার দাবি, তরুণীর সঙ্গে যে ব্যাগটি ছিল সেটি তার ছেলে বন্ধুর কাছেই আছে। টুম্পা আরও জানান, ইভানের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

জানা যায়, ওই তরুণীর ৫ বছর বয়সী সন্তান এখন তার নানীর কাছে গ্রামের বাড়ি কুড়িগ্রামে আছে। সন্তানের ব্যাপারে অস্বীকার করলেও তরুণীর বাবা পুলিশকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে তরুণী জানিয়েছেন, মঙ্গলবার রাতে তিনি প্রথম ইভানের বাসায় যান। একই সঙ্গে তরুণী দাবি করেন, তার নিজের বাসা, খিলক্ষেতের ৩০০ ফুট এলাকা, নিকুঞ্জ, বনানী এবং ইভানের গাড়িতে বেশ কয়েকদিন তাদের মধ্যে শারীরিক সম্পর্ক হয়েছে। তবে এ সম্পর্ককেও ধর্ষণ হিসেবে উল্লেখ করেন তরুণী।

পুলিশের তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, তরুণীর গ্রামের বাড়ি কুড়িগ্রামের উলিপুর থানায় হলেও এজাহারে তিনি কুড়িগ্রাম সদর থানা উল্লেখ করেছেন। এ তরুণী প্রথমে পুলিশকে জানিয়েছিলেন মা-বাবার সঙ্গে তার যোগাযোগ নেই (পরে জানান, মায়ের সঙ্গে যোগাযোগ আছে। কিন্তু মোবাইল নম্বর মুখস্থ নেই)। এসব কারণে তরুণীর অভিভাবকদের খুঁজে পেতে সমস্যা হচ্ছিল।

অবশেষে তার বাবা সাবেক সেনা সদস্যকে পাওয়া গেছে। তিনি শনিবার রাতে থানায় এলে তরুণীকে তার (বাবা) জিম্মায় দেয়া হয়। তবে তরুণীর বাবা পুলিশকে জানিয়েছেন, মেয়ের সঙ্গে সব সময় তার যোগাযোগ ছিল। কারও মাধ্যমে তার মেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তা তার জানা ছিল না। তরুণীর বাবা পুলিশকে আরও বলেন, ‘আমার মেয়ের প্রতি যদি কেউ অন্যায় করে থাকে তাহলে তার বিচার চাই।’