বিনোদন

পর্ন তারকারা নিজের সন্তানদের কাছে কী জবাব দেন

পর্ণের সাম্রাজ্য দুনিয়া জোড়া৷ পর্ণ দেখেন না এরকম ব্যক্তি খুঁজে পাওয়া দুষ্কর৷ যদিও অনেকেই সে কথা স্বীকার করতে চাইবেন না৷

পর্ণ সিনেমায় যারা অভিনয় করেন, তাদের প্রায় প্রতিদিনই নানা রকম লজ্জাজনক পরিস্থিতির শিকার হতে হয়। বিশেষ করে পর্ণ অভিনেত্রীদের। আইনগতভাবে একটি বৈধ পেশা হওয়া সত্ত্বে এবং সারা পৃথিবীর অসংখ্য মানুষ এটা উপভোগ করার পরও তাদের প্রতি এক ধরনের অস্বাভাবিক দৃষ্টিভঙ্গি থাকে সবার। দিন দিন পর্ণ সিনেমার পেছনে মানুষের ব্যয় বাড়লেও সমাজে বিষয়টি এখন পর্যন্ত কঠোরভাবেই নিষিদ্ধ।

পর্ণ সিনেমা বিষয়ে সমাজে বিদ্যমান কলঙ্ক উপেক্ষা করে এই শিল্পে আসা মানে সম্ভবত সবচেয়ে কঠিন কাজটা করার দুঃসাহস দেখানো। অন্য যে কোনও পেশায় যাওয়াটা এর চেয়ে অনেক সহজ। এতকিছু সত্ত্বেও অনেকেই এই কাজে দশকের পর দশক ধরে টিকে আছে। শিল্পটিতে তৈরি হয়েছে অনেক সেলিব্রিটি। অনেকে নানা পুরস্কারও জিতেছেন। তৈরি হয়েছে তাদের একটি বড় ভক্তগোষ্ঠি।

এক সময় ১৫ থেকে ২০ বছর ধরে এই পেশায় কাজ করার পর মার্কিন পর্ণ অভিনেত্রী লিসা অ্যান এবং জেসিকা ড্রেকের মতো অনেকেই এই শিল্পের বাইরে গিয়েও সফল হয়েছেন। সব কলঙ্ক আর গ্লানি উপেক্ষা করে ড্রেক যখন মূলধারার অভিনয় এবং মডেলিংয়ের জগতে আসেন তখনকার অনুভূতি সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘লজ্জা এবং কলঙ্কের কারণে আমরা এক সময় ভাবতাম অন্য কোথাও কাজ করার সুযোগ আমাদের নেই। আমরা নিজেরাই নিজেদের কাছে লজ্জিত থাকতাম। এটা করে আমরা আমাদের বড় ধরনের ক্ষতি করেছি।’

সামাজিক এসব কারণ ছাড়াও আরো একটি বিশেষ কারণ আছে, যে জন্য পর্ণ অভিনেত্রীদের তাদের ক্যারিয়ার নিয়ে ভয়ানক লজ্জাকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়। সেটা হচ্ছে তাদের মাতৃত্ব। পর্ণ শিল্পে নিজের অভিনয় সম্পর্কে অনেক অভিনেত্রীই ভাই-বোন, এমনকি মা-বাবার সঙ্গেও অনেক সময় আলোচনা করে থাকে। তবে এটা অনেক বেশি কঠিন হয়ে দাঁড়ায় নিজের সন্তানের ক্ষেত্রে। বিশেষ করে তারা যখন ইন্টারনেটের জগতে প্রবেশ করতে শেখে।

এ বিষয়ে মার্কিন গণমাধ্যম ডেইলি বিস্ট পত্রিকায় লেখা এক নিবন্ধে সাবেক পর্ণ অভিনেত্রী অরোরা স্নো জানান, একই সঙ্গে পর্ণ সিনেমায় অভিনয় করা এবং মা হওয়া সত্যিকার অর্থেই অত্যন্ত একটি কঠিন কাজ। স্নো লেখেন, ‘পর্ণ বিনোদনের জগতে কাজ করা মা-বাবাদের নিজেদের কাজ এবং বাড়ির মধ্যে একটি দেয়াল টেনে দিতে হয়। অনেক গোপন থাকতে হয় তাদের। সন্তানদের সঙ্গে বেশি আলাপ আলোচনা থেকে বিরত থাকতে হয়।’

এই রকম অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছেন এক সময়ের পর্ণ অভিনেত্রী লং জেন সিলভার। সত্তরের দশকে পর্ণ সিনেমার সঙ্গে জড়িত ছিলেন তিনি। তার পর্ণ সিনেমায় কাজ করার সময়ের একটি ছবি একবার তার মেয়ে ইন্টারনেটে দেখে ফেলে। সে তার মাকে টেলিফোনে জিজ্ঞেস করে, ‘মা, তুমি কি কখনো লং জেন সিলভারের নাম শুনেছো?’

এ কথা শোনার পর ফোন কলটি কেটে দেন সিলভার। পরে মেয়েকে ফোন দিয়ে বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে আমি তোমার সঙ্গে বিস্তারিত কথা বলতে চাই।’ দ্বিতীয় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয় যখন আশপাশের লোকজন বিষয়টিকে স্বাভাবিকভাবে নেয় না। একই সঙ্গে একজন নারীকে যৌনকর্মী এবং স্নেহশীল মা হিসেবে মেনে নিতে তারা প্রস্তুত থাকে না।

এক সময় প্রায় দুই দশক ধরে পর্ণ সিনেমায় কাজ করেছেন অ্যালানা ইভানস। তার কাজের কথা জানতে পেরে একবার তার সৎমেয়ের স্কুলে যাওয়া নিষিদ্ধ করেছিল শিক্ষকরা। একবার এক অনুষ্ঠানে অ্যালানা ইভানসকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, ‘একজন পর্ণ অভিনেত্রীর পক্ষে কতটা ভালো মা হওয়া সম্ভব?’ উত্তরে তিনি বলেছিলেন, ‘আমি আমার দেহকে ব্যবহার করতাম আমার এবং আমার ছেলের খরচের জোগান দিতে। আমার ছেলে এটা সম্মানের চোখেই দেখতো। ও জানতো, আমি নিজের জন্য কিছু করছি না। ওর জন্যই করছি।’

পর্ণ জগতের আরেক খ্যাতনামা অভিনেত্রী সাভান্না স্যামসন। ৮০টিরও বেশি পর্ণ সিনেমায় অভিনয় করেছেন তিনি। খ্যাতির শীর্ষে থাকাকালীন জন্ম নেয় তার দুই ছেলে। নিজের উপার্জিত অর্থ দিয়ে ছেলেদের জন্য বেশ বিলাসবহুল জীবন নিশ্চিত করতে পেরেছেন স্যামসন। তিনি বলেন, ‘আমি আমার জীবনে যা কিছু করেছি সবই ওদের জন্য করেছি। এটা থেকে একদিন ওরা আরো বেশি উপকৃত হবে।’

বর্তমানে গুগল থেকে নিজের সব পর্ণ ছবি সরিয়ে ফেলার চেষ্টা করছেন স্যামসন। তিনি জানান, এটা তার নিজের জন্য নয়, বরং তার ছেলের জন্য। পর্ণ অভিনেত্রী স্টোর্মি ডেনিয়েলস ২০১২ সালে এক সাক্ষাৎকারে জানান, পর্ণ সিনেমায় অভিনয় করা সত্ত্বে তিনি তার ছোট্ট ছেলেকে নিয়ে বসবাস করে আসছেন।

তাকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, যখন তিনি পর্ণ শিল্প থেকে অবসরে যাবেন তখন তার ছেলে মেয়ে তাকে নিজের কাজ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে কী উত্তর দেবেন? ডেনিয়েলস বলেন, ‘আমি তাদের বলব, তাদের মা এমন একটি কাজে জড়িত ছিল, যাতে অনেকেরই সম্মতি নেই। তবে তাদের মা এটা নিয়ে গর্বিত। এটা বড়দের জন্য করা তার কাজ।’





সর্বশেষ খবর