গাজীপুর ঢাকা বিভাগীয় সংবাদ

নিখোঁজের ১২ দিন পর মিলল শিয়ালে খাওয়া মরদেহ

নিজস্ব প্রতিবেদক, গাজীপুর: গাজীপুরের শ্রীপুরে নিখোঁজের ১২ দিন পর শিয়াল-শকুনে খাওয়া নিরীহ এক কৃষকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বাড়ি থেকে প্রায় আধাকিলোমিটার দূরে গহিন গজারিবন থেকে মঙ্গলবার দুপুরে পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে।

স্বজনদের অভিযোগ, তুলে নিয়ে হত্যার পর মরদেহ ফেলে গেছে খুনিরা। স্বজনরা হত্যাকাণ্ডটি পারিবারিক কোন্দলের জের বলে দাবি করে একে অপরকে দায়ী করছে।

নিহতের নাম আবদুর রাজ্জাক আকন্দ (৪৫)। তিনি উপজেলার বেলতলী গ্রামের মৃত হেকমত আলী আকন্দের ছেলে।

স্বজনরা জানায়, গত ২৮ জুলাই বিকেলে পাশের জামে মসজিদে আসরের নামাজ পড়ার জন্য বাড়ি থেকে বের হন রাজ্জাক। এরপর আর বাড়ি ফেরেননি তিনি। ব্যাপক খোঁজাখুঁজির পর কোনো হদিস না পেয়ে পরের দিন সকালে তাঁর স্ত্রী সাইদুন নাহার শ্রীপুর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

ওই গ্রামের কৃষক মিলন ও লাল মিয়া জানান, তাঁরা মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কের পাশে জমিতে সার দিতে যান। ওই সময় দুর্গন্ধ টের পেয়ে বনের ভেতর গিয়ে অর্ধগলিত মরদেহ দেখতে পান।

ওই দুই কৃষক আরো জানান, মরদেহের একটি পা, পেটসহ বুকের কিছু অংশ শিয়াল-শকুনে খেয়ে ফেলেছে। খবর পেয়ে গ্রামের কয়েক শ মানুষ জড়ো হয় সেখানে। দুপুর আড়াইটার দিকে মরদেহটি উদ্ধার করে পুলিশ।

শ্রীপুর মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবদুস সাত্তার জানান, মরদেহটি ওই গ্রামের আবদুর রাজ্জাকের বলে শনাক্ত করেছে তাঁর স্বজনরা। মঙ্গলবার বিকেলে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। তিনি আরো বলেন, এটি হত্যা না আত্মহত্যা তা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।

গ্রামবাসী জানায়, আবদুর রাজ্জাক ছিলেন নিরীহ একজন কৃষক। কারো সঙ্গেই তাঁর কোনো শত্রুতা ছিল না। চার ভাইয়ের মধ্যে তিনি ছিলেন সবার ছোট। এক ছেলে ও এক মেয়ের জনক ছিলেন আবদুর রাজ্জাক।

নিহতের স্ত্রী সাইদুন নাহার অভিযোগ করেন, পৈতৃক জমি নিয়ে আবদুর রাজ্জাকের ভাইদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। ওই বিরোধের জেরে হত্যাকাণ্ডটি ঘটে থাকতে পারে। তবে আবদুর রাজ্জাকের বড় ভাই সাবেক ইউপি সদস্য মুজিবুর রহমানও এটিকে হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করে বলেন, ‘আমার ছোট ভাইকে তুলে নিয়ে হত্যার পর মরদেহ ফেলে গেছে খুনিরা। ’ তিনি অভিযোগ করেন, এ হত্যাকাণ্ডে আবদুর রাজ্জাকের স্ত্রী ও ছেলে জড়িত থাকতে পারে।

শ্রীপুর মডেল থানার ওসি (তদন্ত) রফিকুল ইসলাম বলেন, স্বজনরা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় একে অপরকে দায়ী করছে। তবে মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত স্বজনদের কেউ থানায় মামলা করতে যায়নি। হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করা হয়নি।