মতামত/বিশেষ লেখা/সাক্ষাৎকার

নারী ও শিশু নির্যাতনের নৃশংসতা কি চলতেই থাকবে-আহমদ রফিক

আহমদ রফিকনারীদের ওপর যৌন নির্যাতন শিশু, কিশোরী, তরুণী ও বয়স্ক নারী-নির্বিশেষে বাংলাদেশি সমাজে ভয়ংকর রূপ ধারণ করেছে। এর বীভৎস প্রকাশ সম্প্রতি শিশু ধর্ষণের ব্যাপকতা। এসবে সংশ্লিষ্ট নিষ্ঠুরতা অকল্পনীয়। সমাজে এই দুষ্টক্ষতের অভাবনীয় বিস্তার সত্ত্বেও তা জননিরাপত্তা ও নাগরিক নিরাপত্তারক্ষীদের দায়িত্বে যথাযথ মাত্রায় দাগ কাটছে বলে মনে হচ্ছে না। হলে দীর্ঘদিন ধরে ঘটনা লাগাতার দেখা যেত না।

বৃথাই গণমাধ্যম বিশেষ করে দৈনিক পত্রিকাগুলো দিনের পর দিন ঘটনার পৈশাচিকতা নিয়ে খবর ও প্রতিবেদন ছেপে চলেছে পাতার পর পাতায়। এ বিষয়ে লেখা হচ্ছে উপসম্পাদকীয়। এসব নিষ্ঠুরতার শিকার পরিবারে হা-হুতাশের সঙ্গে হতাশা বাড়ছে, জন্ম নিচ্ছে নিষ্ফল ক্ষোভ। সচেতন নাগরিক সমাজ মানববন্ধন ও প্রতিবাদী সমাবেশ করে সুবিচারের আহ্বান জানাচ্ছে। তাদেরও উদ্বেগ বাড়ছে। এ স্থবিরতার জন্য নতুন করে তাদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হচ্ছে। আতঙ্ক নিরাপত্তাহীনতার।

সুস্থ জীবনের স্বপ্ন দেখা যে কলেজ ছাত্রীটি সংসারের টানাপড়েনে অংশ নিতে গিয়ে এক বিকেলে প্রাইভেট পড়াতে গিয়ে ক্যান্টনমেন্টের মতো সুরক্ষিত এলাকায় জীবন্ত ঘরে ফিরে এলো না সেই ধর্ষিতার দলিত পিষ্ট লাশ পাওয়া গেল ঝোপের আড়ালে। ছয় মাস পার হওয়া সত্ত্বেও তার পরিবার সুবিচারের জন্য হা-হুতাশ করে মরছে।

আর এ কারণে ঘাতক-ধর্ষক বখাটেরা মহা উৎসাহে রাস্তাঘাটে, এখানে-সেখানে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে অস্ত্র হাতে নিয়ে, মনে একরাশ কুিসত অন্ধকার নিয়ে। ক্ষুব্ধ সংবাদমাধ্যম যথার্থই লিখছে ‘রিশা থেকে নিতু, খাদিজা থেকে পূজা—তালিকাটা বাড়ছেই। একেকটা ঘটনা ঘটে, দেশজুড়ে তোলপাড় হয়, আসামি ধরা পড়ে, দায়ও স্বীকার করে—তবু চার্জশিট দিতে দেরি করে পুলিশ। বিচার শুরু হয় দীর্ঘসূত্রতায়। দ্রুত বিচার না হওয়ায়ই আরো ভয়ংকর হয়ে উঠছে বখাটেরা।’

এরা এতই ভয়ংকর এবং তা বয়স-নির্বিশেষে যে পার্বতীপুরের বীভৎস ঘটনাও জন্ম নিতে পারে, যা পড়তে গেলে ইন্দ্রিয় নিঃসাড় হয়ে যায়, লিখতে গেলে কলম স্তব্ধ হয়ে আসে। তখন একটি প্রতিক্রিয়াই শুধু অস্তিত্বে ধাক্কা দিতে থাকে এই বলে, এ কোন বাংলাদেশি সমাজে বাস করছি! একে তো চিনতে পারা যাচ্ছে না। অথচ এর বাস্তবতাও অস্বীকার করতে পারছি না।

এ লেখার সময় (৩০ অক্টোবর) একটি দৈনিকে আবারও খবর : কক্সবাজারের চকরিয়ায় এক বখাটে এক মাদ্রাসা ছাত্রীকে ধর্ষণ করেই ক্ষান্ত হয়নি, তার কুকর্মের ভিডিওচিত্র বাজারে ছেড়েছে। ধর্ষক যথারীতি ধরাও পড়েছে। এর পরের বিষয় অনিশ্চিত। প্রতিদিন সংবাদপত্রে এ ধরনের খবর প্রকাশিত হচ্ছে। বুঝিয়ে দিচ্ছে বাংলাদেশি সমাজ ও শাসনযন্ত্রের অবস্থা।

স্বভাবতই ভাবতে হচ্ছে—এ অবস্থা কত দিন  চলবে? এর শেষ কোথায়? প্রশ্নের জবাব মেলে না। কারণ খুঁজতে কুমিল্লার তরুণী ছাত্রী তনু হত্যার ছয় মাস থেকে মিতু হত্যা (এ ক্ষেত্রে বিষয়টা ভিন্ন) এবং অনুরূপ ঘটনাবলির দিকে ফিরে তাকাতে হয়। বুঝে নিতে হয় কী ঘটছে নিরাপত্তারক্ষক ও সংশ্লিষ্ট মহলে। দু-একটি উদাহরণই এ ক্ষেত্রে যথেষ্ট।

ঢাকার উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুলের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী সুরাইয়া আখতার রিশাকে ছুরি চালিয়ে মারাত্মক জখম করে দুর্বৃত্ত ওবায়দুল হক এ বছরের (২০১৬) ২৪ আগস্ট। রিশার মৃত্যুর পর ২৮ আগস্ট যথারীতি মামলা, বখাটে গ্রেপ্তার, তার স্বীকারোক্তি ইত্যাদি। তা সত্ত্বেও কথিত তদন্ত এখনো চলছে। চার্জশিট কবে দেওয়া হবে কেউ জানে না। পরিবার উত্কণ্ঠিত ও উদ্বিগ্ন।

দ্বিতীয় ঘটনা মাদারীপুরে, ১৮ সেপ্টেম্বর বখাটে যুবক মিলন মণ্ডলের ছুরিকাঘাতে স্কুল ছাত্রী নিতু মণ্ডলের মৃত্যুর ঘটনা পূর্বোক্ত ঘটনা থেকে খুব একটা ভিন্ন নয়। এখানে অবশ্য পুলিশ ময়নাতদন্ত রিপোর্টের দোহাই দিচ্ছে। আর চিকিৎসকদেরও বলি, একটি ময়নাতদন্ত রিপোর্ট দিতে এত দিন লাগে? এ মামলারও পরিণতি কী হবে, কত দিনে হবে কেউ বলতে পারে না। এরপর তো রয়েছে বিচারকাজে আইনি দীর্ঘসূত্রতা। ঘটনা এখানেই শেষ নয়। চলছে এর ধারাবাহিকতা যথারীতি। যেমন আজও (সোমবার ৩১ অক্টোবর) কাগজে খবর ‘রাজধানীতে দুই শিশু ধর্ষণের শিকার’। অন্য কাগজে শিরোনাম ‘ভাটারায় কিশোরীকে ধর্ষণ করল আ. লীগ নেতার ছোট ভাই’। স্বভাবতই ‘মামলা হয়নি, মীমাংসার চেষ্টা।’ পাশাপাশি একই দিনের অন্য খবর : ‘রাজশাহীতে শিশু ধর্ষণচেষ্টায় আটক ১’। অবিশ্বাস্য এক দুষ্টব্যাধিতে আক্রান্ত বাংলাদেশের সমাজ।

একের পর এক ঘটনা—কখনো ধর্ষণ, কখনো হত্যার, কখনো বা একসঙ্গে উভয়বিধ। সহিংসতার শিকার খাদিজা ও পূজার পর পার্বতীপুরে পাঁচ বছরের শিশুকে ধর্ষণের বীভৎসতা সব হিসাব-নিকাশ ভণ্ডুল করে দিয়েছে। এর পরও ঘটনা থেমে নেই। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কঠোর ঘোষণা : ‘অপরাধী যে দলেরই হোক তাকে ছাড় দেওয়া হবে না।’ একই রকম প্রতিক্রিয়া আইজিপির।

কিন্তু ঘটনা আপন নিয়মে ঘটে চলছে। অর্থাৎ চলছে বাংলাদেশি সমাজের নিয়মে। তাই এক দৈনিকের প্রথম পাতায় মোটা অক্ষরে শিরোনাম : ‘নারী নিপীড়ক খুনিদের চার্জশিটও হচ্ছে না’। আরেকটি সংগত শিরোনাম : ‘দ্রুত বিচার না হওয়ায় বখাটেরা ভয়ংকর’। সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনগুলোয় এসেছে আক্রান্ত আরো অনেক নাম, যাদের পরিবার সুবিচারের প্রতীক্ষায় প্রহর গুনছে।

প্রসঙ্গত, কয়েকটি ঘটনার শিরোনাম তুলে ধরা হলে বুঝতে পারা যাবে নারী নিপীড়ন ও নারী হত্যার পরিস্থিতি কোথায় গিয়ে পৌঁছেছে এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও সামাজিক ব্যাধির অবস্থাই বা কেমন। যেমন ‘উখিয়ায় বাবাকে বেঁধে তরুণীকে গণধর্ষণ’, ‘কতবার নির্যাতিত হয়েছেন মনে নেই ডলির!’

এখানেই শেষ নয় : ‘পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রীকে একাধিকবার ধর্ষণ’। ‘মামলা তুলে নিতে হুমকি’। এ ঘটনা চট্টগ্রামের রাউজানে। পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী, কতই বা বয়স। ভাবা যায় তার একাধিকবার দুর্বৃত্তের হাতে ধর্ষিত হওয়ার বীভৎসতা! এর মধ্যেই দেখা যাচ্ছে সমাজের যুক্তিহীন অমানবিক প্রতিক্রিয়া, যা অপরাধীকে আরো উৎসাহী করে তুলবে। এ সূত্রে শিরোনাম : ‘ধর্ষণের শিকার ছাত্রীকে স্কুল থেকে বহিষ্কার!’ ঘটনাস্থল রংপুরের মিঠাপুকুর। চমত্কার!

এসব ঘটনা ব্যাধিগ্রস্ত, ক্ষতমুখ সমাজের চরিত্রই তুলে ধরে। প্রথমত, এর দূষিত-ঘাতক চরিত্র। দ্বিতীয় এর সুস্থ, মানবিক মূল্যবোধহীন চরিত্র, যেখানে মধ্যযুগীয় বর্বরতার উত্তরাধিকারের সুলভ ছাপ এখনো সজীব। এ সমাজকে কি আধুনিক বা মননশীল চরিত্রের বলে দাবি করা যাবে? অথচ আমাদের দাবি, বাংলাদেশ আধুনিক ও উন্নয়নশীল অর্থনৈতিক মডেলের রাষ্ট্র। এখানে সুশাসন বিরাজমান।

দুই.

শিশুদের ওপর নির্যাতন বন্ধে হেল্পলাইন উদ্বোধন করতে গিয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘সমাজকে সচেতন করতে হবে। মানুষের মধ্যে যেন পশুত্ব জেগে না ওঠে।’ সদর্থক এ-জাতীয় বক্তব্যের পরও প্রশ্ন থাকে, রাষ্ট্রযন্ত্র ও সমাজের তরফে তেমন কোনো ব্যবস্থা কি নেওয়া হচ্ছে, যাতে এসব পশুপ্রবৃত্তি বন্ধ হয়?

এ প্রসঙ্গে আমার বহু লিখিত একটি কথা আবারও বলি : এ বিষয়ে মানুষ পশুদের চেয়ে নিকৃষ্ট প্রাণী যদিও প্রাণিজগতের মধ্যে তাদের সর্বোচ্চ বৃত্তিক প্রজাতি হিসেবে গণ্য করা হয়। পশুদের আচরণ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে যে এদের মধ্যে যৌন নির্যাতনের কোনো নজির নেই। তাদের শিশু সদস্যদের ক্ষেত্রে তা এক অবিশ্বাস্য সত্য, সে ক্ষেত্রে মানুষের পৈশাচিক যৌন নিগ্রহকে সর্বদা ‘পাশবিক’ আখ্যা দিয়ে পশুদের লজ্জা দেওয়া কেন। মানুষ তো এদিক থেকে পশুরও অধম।

বর্তমান বাংলাদেশি সমাজ তার বিত্তবৈভব, আধুনিকতা, বিদেশগামিতা, অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও বিত্তবান শ্রেণির বিপুল বিস্তারের মধ্যেই দূষণ, নীতিহীনতা, ঘাতকপ্রবণতা ও যৌন নিপীড়নে পুঁজরক্তমাখা এক সামাজিক ব্যাধির প্রকাশ ঘটিয়ে চলেছে। সে ব্যাধির বীভৎসতম রূপ কিছুদিন থেকে প্রকট হয়ে উঠছে শিশুহত্যা ও ধর্ষণের ঘটনাবলিতে। তাতে শাসনযন্ত্র নামের মহাবৃক্ষ যে খুব একটা আন্দোলিত হচ্ছে তা নয়, অন্তত প্রতিকার ও প্রতিরোধের বিবেচনায়।

ঘটনা কিন্তু আকস্মিক কিছু নয়, সমাজে এটা রয়েছে নারী নিগ্রহের নানা মাত্রায় এবং ক্বচিৎ শিশু নিগ্রহে। ইদানীং এর বাড়বাড়ন্ত দেখে সংবাদমাধ্যম উদ্বিগ্ন। উদ্বিগ্ন শুধু ঘটনাতেই নয়, ঘটনায় সংশ্লিষ্ট নিষ্ঠুরতা নিয়ে। মনে হয়, সমাজের দুর্বৃত্ত অংশ বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। কিন্তু তা যথাযথভাবে বন্ধ করার ক্ষেত্রে রাষ্ট্রযন্ত্র ও সমাজের তেমন উদ্যোগ নেই। যা আছে তা গতানুগতিক যান্ত্রিক ধারায়। তাতে কার্যকর সুফল মেলার কথা নয়।

ব্যবস্থা গ্রহণে অপ্রতুলতার প্রমাণ মেলে বাংলাদেশ শিশু ফোরামের প্রদত্ত কিছু তথ্যে। যেমন ‘গত বছরের প্রথম চার মাসে শিশুহত্যার ঘটনা ৯২টি, চলতি বছরের একই সময়ে তা ৯৪টি। শিশু ধর্ষণের ঘটনাও গত বছরের প্রথম চার মাসে ছিল ১২১টি, চলতি বছরে সেই সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৩৮টিতে। অর্থাৎ বৃদ্ধির হার ১৪ শতাংশ।’ যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে সংখ্যাচিত্রটি এমন হতো না।

এ তো গেল বছরের প্রথম চার মাসের কথা। প্রতিদিন সংবাদপত্র পাঠে যে অভিজ্ঞতা হচ্ছে, তাতে অনুমান করা চলে যে বছরের শেষার্ধে সেই সংখ্যা হতে চলেছে অনেক বেশি, ব্যাধির বিস্তারের মতো। বাড়ছে সমাজে যৌন হয়রানি ও উত্ত্যক্ত করার মতো ঘটনা এবং তা শিক্ষিত সমাজে, যেখানে ছাত্রী-শিক্ষক সম্পর্কও দূষিত হচ্ছে। একাধিক বহু প্রচারিত ঘটনা তার প্রমাণ।

প্রশ্ন উঠতে পারে, এসব ক্ষেত্রে প্রতিকারের কী ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে? দীর্ঘস্থায়ী ব্যবস্থা যে সামাজিক স্বাস্থ্য রক্ষায় ব্যবস্থা গ্রহণ তা বলার অপেক্ষা রাখে না। যে দায় মূলত সরকারের এবং সাধারণত সামাজিক সংগঠনগুলোর। কিন্তু তাত্ক্ষণিক যে ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ, তা হলো এ-জাতীয় প্রতিটি ঘটনার দ্রুত, সুষ্ঠু বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি। এ জন্য প্রয়োজনে নতুন আইন প্রণয়ন।

আমরা চাই যৌন নৃশংসতার প্রতিটি ঘটনার বিচার হোক দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে, যা স্বল্পতম সময়ের মধ্যে নিষ্পন্ন হবে। সেখানে যেন ব্যবস্থা থাকে কঠোর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির, যা দুর্বৃত্তপনাকে নিরুৎসাহ করতে সাহায্য করবে। প্রধানমন্ত্রী যে পশুত্বের কথা বলেছেন, সেই পশুত্ব তথা মানবীয় নৃশংসতা বন্ধ করতে সুষ্ঠু ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা অত্যন্ত জরুরি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ বিষয়ে উদ্যোগ নিতে হবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকেই। অন্যথায় দানবিক নৃশংসতা সমাজে বেড়েই চলবে। সে ক্ষেত্রে সচেতন মানুষ আঁতকে উঠে প্রশ্ন করতে পারে, এ দেশে এ কী শাসন চলছে, যেখানে সামাজিক দুর্বৃত্তপনার কোনো প্রতিকার নেই, প্রতিরোধব্যবস্থা নেই! স্বভাবতই বলতে হয়, এখনই সময় যৌন নৃশংসতার বিরুদ্ধে যুদ্ধে নামার। কাজটা কি সরকার করবে? নাকি এ কলঙ্কতিলক চিরস্থায়ী হবে?

লেখক : কবি, গবেষক ও ভাষাসংগ্রামী

Advertisements

Add Comment

Click here to post a comment