মতামত/বিশেষ লেখা/সাক্ষাৎকার

নরেন্দ্র মোদি কতটা সৎ-সুখরঞ্জন দাশগুপ্ত

কালো টাকার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নামা নরেন্দ্র মোদি নিজে কতটা সৎ? দেখা যাক এ ব্যাপারে একদা তার ঘনিষ্ঠ নেতা কী বলেছেন।

মোদির ঘনিষ্ঠ গুজরাটি শিল্পপতিদের কেউ কেউ নোট বাতিলের খবর আগে থেকে জেনে গিয়েছিলেন, এ অভিযোগ আগেই উঠেছিল।

এবার সেই আগুনে ঘৃতাহুতি দিলেন বিজেপিরই সাবেক বিধায়ক তথা নরেন্দ্র মোদির একদা ঘনিষ্ঠ যতীন ওঝা। এ যতীন ওঝাই প্রায় হাত ধরে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহকে রাজনীতিতে জায়গা করে দিয়েছিলেন। অভিযোগ ঠিক নয়, কার্যত বোমা ফাটিয়েছেন তিনি। খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে চিঠি লিখে তিনি দাবি করেছেন, ঘনিষ্ঠ শিল্পপতিদের আগাম জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল নোট বাতিলের সিদ্ধান্ত। ফেসবুকে এই চিঠির কপি পোস্টও করেছেন তিনি। সঙ্গে সঙ্গে তা ভাইরাল হয়ে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে।চিঠিতে ওঝা লিখেছেন : ৮ নভেম্বর নোট বাতিল নিয়ে আপনার বক্তৃতা শুনে খুবই খুশি হয়েছিলাম। এই সাহসী ও ঐতিহাসিক পদক্ষেপের জন্য মন থেকে আপনাকে অভিনন্দনও জানিয়েছিলাম। কিন্তু সেই আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। পরদিন সকালে (৯ নভেম্বর) আমার অতিঘনিষ্ঠ একজন আমাকে জানান, তার উপস্থিতিতেই গতকাল (অর্থাৎ ৮ নভেম্বর) আহমেদাবাদের একজন শীর্ষস্থানীয় শিল্পপতির স্ত্রী একটি প্রথম সারির গয়নার দোকানে আসেন। আগে থেকে অর্ডার দেওয়া অনুযায়ী তিনি ২০ কোটি টাকা মূল্যের সোনা কেনেন। ওই সোনা তৈরি করে মোড়কে রাখা ছিল। ২ মিনিটেই সোনা ও নগদ হাতবদল হয়ে যায়। ’ ওঝা জানিয়েছেন, যিনি তাকে এই তথ্য দিয়েছেন, তিনি একজন চিকিৎসক। ঘটনাচক্রে সেই মহিলাও আগে থেকে অর্ডার দেওয়া ৫ লাখ টাকার সোনা কিনতে দোকানে গিয়েছিলেন। স্বভাবতই ওঝার চিঠি নিয়ে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। নরেন্দ্র মোদি বা অমিত শাহর পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

নোট বাতিলের সিদ্ধান্তের জন্য সরাসরি মোদিকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন বিজেপির সাবেক এই বিধায়ক। তিনি লিখেছেন : অতীতে আপনার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার সুবাদে এবং আপনার কিচেন ক্যাবিনেটে থাকার কারণে, খবরটি পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে আমার মনে হয়, নিশ্চতভাবেই নোট বাতিলের সিদ্ধান্ত আপনার প্রিয় শিল্পপতিদের জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল। আর তা জানানো হয়েছিল অনেক আগেই। কালো টাকার ৫০ শতাংশ সম্পূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রণ করেন এই শিল্পপতিরা। জনপ্রিয়তা অর্জনের এমন একটি সুযোগ কাজে লাগাতে গিয়ে আপনি দেশবাসীকে আসলে বোকা বানিয়েছেন। আপাতভাবে জাতীয় উদ্দেশ্য ও স্বার্থের কথা বলে আপনি এই পদক্ষেপ নিয়েছেন আপনার অত্যন্ত কাছের ও প্রিয় ব্যক্তিদের এবং দলীয় কর্মীদের আরও ধনবান করতে। ’ মোদিকে রীতিমতো চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে সাবেক বিধায়ক লিখেছেন : ‘আমার কাছে একটি ভিডিও রেকর্ডিং আছে, যা স্পষ্ট ও সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করবে, ৮ নভেম্বর থেকে এখন পর্যন্ত অমিত শাহর সব ঘনিষ্ঠ সহযোগী নোট বাতিলের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। তাদের অফিস ও বাসভবনের সামনে কালো টাকা সাদা করার জন্য বিশাল লাইন পড়ছে। ৩৭ শতাংশ ডিসকাউন্টে চলছে সেই প্রক্রিয়া। অন্তত ১ কোটি কালো টাকা নিয়ে যেতে হচ্ছে। আর পাওয়া যাচ্ছে ৬৩ লাখ টাকার বৈধ নোট। আমি চাইলে এই ভিডিও আপনাকে দিতে পারতাম। কিন্তু আমি নিশ্চিত আপনি অমিত শাহর ঘনিষ্ঠদের কোনো শাস্তি দেবেন না। আপনি শাস্তি দেবেন লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা ব্যক্তিদের। তবে আমি এই ভিডিও কয়েকজন অভিজ্ঞ সাংবাদিককে দেখাব এবং আপনাকে তা জানিয়েও দেব; যাতে আপনি ওই সাংবাদিকদের থেকে আপনার বক্তব্যের যথার্থতা যাচাই করে নিতে পারেন। ’

ওঝা অবশ্য এখন আর বিজেপিতে নেই। অতিসম্প্রতি তিনি যোগ দিয়েছেন আম আদমি পার্টিতে। কিন্তু একটা সময় গুজরাটের রাজনীতিতে অত্যন্ত ক্ষমতাবান ছিলেন তিনি। মোদি গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালে তার কিচেন ক্যাবিনেটের সদস্য ছিলেন ওঝা। ১৯৯৫ সালে তিনি সবরমতী কেন্দ্র থেকে বিধানসভায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। সেই নির্বাচনে তার এজেন্ট ছিলেন অমিত শাহ। এরপর ১৯৯৭ সালে তিনি অমিত শাহকে বিজেপির টিকিট পাইয়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু সাম্প্রতিককালে অমিত শাহ নরেন্দ্র মোদির ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠেন এবং সাবেক মেন্টর ওঝাকে পাঠিয়ে দেন সাইডলাইনে। শেষ পর্যন্ত বিজেপি ছেড়ে কেজরিওয়ালের দলে নাম লেখান যতীন ওঝা।

রিজার্ভ ব্যাংকের মাধ্যমে আগেই নোট ছাপানোর সিদ্ধান্ত না নেওয়া সত্ত্বেও এখন অভিযোগ উঠছে ঘোষণার আগেই খবরটি ফাঁস হয়ে যায় অন্য স্তর থেকে। নতুন নোট না ছাপানোর কারণে জোগানের থেকে চাহিদা অনেক বেশি হয়ে গেছে। এতে একদিকে যেমন সাধারণ মানুষের হয়রানি বেড়েছে, তেমন অতিরিক্ত চাহিদার সুযোগ নিয়ে কালো টাকার কারবারিরা সেই সঞ্চিত কালো টাকাকে ছোট ছোট অংশে ভাগ করে সাধারণ মানুষের অ্যাকাউন্টে ঊর্ধ্বসীমার মধ্যে থেকেই জমা করিয়ে সাদা করার চেষ্টাও চালিয়েছে। এখন এই অপচেষ্টা রুখতে সব ব্যাংককে নির্দেশ দেওয়া দরকার যে, কোথাও উপযুক্ত কারণ ছাড়া কোনো অ্যাকাউন্টে অর্থ জমা পড়ার ক্ষেত্রে ব্যতিক্রমী বৃদ্ধি চোখে পড়লে তত্ক্ষণাৎ পদক্ষেপ নেওয়া।

এ ছাড়া এ মুহূর্তে ২০০০ টাকার নোট ছাপার খুব একটা প্রয়োজনও নেই। কারণ তা সাধারণ মানুষের ততটা প্রয়োজন নেই। এখনই রিজার্ভ ব্যাংকের সব ক্ষমতা প্রয়োগ করা উচিত ৫০০ ও ১০০০ টাকার নোট ছাপার কাজে। এ ছাড়া ঘন ঘন সিদ্ধান্ত বদল করার প্রবণতা থেকেও বিরত থাকা উচিত কেন্দ্রীয় সরকারের। তাতে একদিকে যেমন সাধারণ মানুষ ও কর্মীদের বিভ্রান্তি ও পরিশ্রম বাড়বে, তেমন সরকারি বিজ্ঞপ্তির গ্রহণযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন উঠবে। কর ফাঁকি দিয়ে এবং অন্যান্য আইন ভেঙে কালো টাকার একটা বড় ক্ষেত্র হলো বিদেশি ব্যাংকগুলোয় ভারতীয়দের রাখা টাকা। হিসাব অনুযায়ী এভাবে রাখা কালো টাকা হলো মোট কালো টাকার অন্তত ৫০ শতাংশ। উদার নীতি চালু হওয়ার পর বিদেশে অর্থ চালানোর ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার কারণেই এ খাতে কালো টাকা বিশেষভাবে বেড়েছে। বিষয়টি কেন্দ্রীয় সরকারের অজানা নয়। প্রধানমন্ত্রী গত লোকসভা নির্বাচনের আগে প্রচারে বলেছিলেন, এই বিপুল পরিমাণ টাকা বিদেশ থেকে ফিরিয়ে এনে প্রতিটি সাধারণ মানুষের অ্যাকাউন্টে ১৫ লাখ করে দেবেন। ফলে দেশের কালো টাকা উদ্ধারের প্রক্রিয়ার মধ্যেই তাকে জবাবদিহি করতে হবে বিদেশে গচ্ছিত কালো টাকা কেন ফিরিয়ে আনা যাচ্ছে না। বিশেষ করে এ ক্ষেত্রটিতে যেখানে ল্যাটিন আমেরিকার অনেক ক্ষুদ্র দেশও সাফল্য পেয়েছে।

কালো টাকার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র বহুতল বাড়ি তৈরির সঙ্গে যুক্ত। এ ক্ষেত্রে কালো টাকা উদ্ধারের জন্য কেন্দ্রীয় সরকারকে প্রতিটি রাজ্য সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে গুরুত্বপূর্ণ নির্মাণ সংস্থা, প্রমোটার ও সিন্ডিকেটের কাজকর্ম ধারাবাহিকভাবে অনুসন্ধান করে পদক্ষেপ নিতে হবে। একইভাবে খোঁজখবর করতে হবে সোনার দোকানগুলোতেও। অনাদায়ী ব্যাংক ঋণ (এখনো প্রায় ৬.৬৯ লাখ কোটি টাকা) সরকারিভাবে কালো টাকা বলে চিহ্নিত না হলেও, এর মধ্যে যারা ইচ্ছাকৃতভাবে বড় অঙ্কের ঋণখেলাপি, তাদের অর্থ ব্যবহারের তথ্য জোগাড় করলে কালো টাকা উদ্ধারের ক্ষেত্রে আরেকটি মাত্রা যুক্ত হবে। তাহলে সৎ কে? মোদি না মমতা? পাঁচ বছর আগেই চিট ফান্ড নিয়ে মমতা ব্যানার্জির গায়ে অসততার কালিমা লেগেছে। রাজ্যের সব বিরোধী দল তার প্রতিবাদ জানালেও নরেন্দ্র মোদি তার পশ্চিমবঙ্গের দিদির বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি। এমনকি সিবিআইয়ের তদন্তও ধামাচাপা দিয়ে দিয়েছেন। কিন্তু সম্প্রতি দিল্লিতে মমতার নাম না করে নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, যাদের আমলে পশ্চিমবঙ্গে চিট ফান্ডের বাড়বাড়ন্ত হলো, তারাই এখন কালো টাকার প্রশ্নে চিৎকার করছেন। ১২৫ কোটি মানুষের মধ্যে অন্তত ১০০ কোটি মানুষ ছিন্নভিন্ন হয়ে পড়েছে। টাকা নেই, খাদ্য নেই, খেতে ধান পড়ে রয়েছে। কৃষকের হাতে ধান কাটার মতো নগদ টাকাও নেই। ভারতবর্ষের প্রতিটি গ্রামে পোস্ট অফিস নেই। সারা দেশে প্রায় ৪ লাখের মতো ডাকঘর আছে। গ্রামবাংলার দিন আনা দিন খাওয়া মানুষ কপাল চাপড়ে প্রশ্ন করছেন, এটাই কি সুদিন? ২০১৪ নির্বাচনের আগে তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, সুইস ব্যাংক থেকে বিলিয়ন বিলিয়ন টাকা এনে প্রত্যেক ভারতবাসীর অ্যাকাউন্টে ১৫ লাখ টাকা করে জমা দেবেন। ইউপিএ-২ রাজত্বকালে অর্থমন্ত্রী প্রণব মুখার্জি সুইস কর্তৃপক্ষ থেকে তালিকা পেয়েছিলেন, তাতে ৯০ শতাংশ নামই ছিল মোদিঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ীর। ৫০০ ও ১০০০ টাকার নোট বাতিল করে তুরিয়ানন্দে রয়েছেন নরেন্দ্র মোদি ও দিল্লির বিজেপি সরকার। তাদের এই স্বঘোষিত সাফল্যের ব্যাখ্যায় তারা নিজেরাই এত অভিভূত যে স্বাভাবিক ণত্ব-ষত্ব জ্ঞানও তাদের লোপ পেয়েছে। দেশের কোটি কোটি মানুষ যখন খেতে না পেয়ে রাস্তায় এসে দাঁড়িয়েছে তখন মোদিবাহিনী মগ্ন কালো টাকার বিরুদ্ধে যুদ্ধ যুদ্ধ খেলায়। তারা বিচারব্যবস্থাকেও গুরুত্ব দিতে চাইছে না। সুপ্রিমকোর্টে গিয়ে বিজেপি সরকার বলেছে কালো টাকা ইস্যুতে দেশের কোনো আদালতে যেন কোনো মামলা করা না হয়। সব মামলাই হোক সুপ্রিমকোর্টে। শীর্ষ আদালত অবশ্য বিজেপি সরকারের এই আবদার নাকচ করে দিয়েছে।

৮ নভেম্বর নরেন্দ্র মোদি বার্তা দিয়েছিলেন, ৫০০ ও ১০০০ টাকার নোট বাতিল করে তিনি বিপ্লব ঘটাবেন। বড়লোকদের কালো টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হবে, আর গরিব মানুষের হাতে টাকা আসবে। এ ব্যাপারে তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীকে নকল করে গরিবি হটাও স্লোগান তুলেছেন। কিন্তু গত ১৫ দিনের অভিজ্ঞতায় গরিব মানুষ দেখেছে, টাকা তো আসেইনি, উল্টো তাদের দৈনন্দিন খাবার জোগাড় করাও অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। মানুষ এখন আর নরেন্দ্র মোদিকে বিশ্বাস করছে না।

ওদিকে আমেরিকা থেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় খবর এসে পৌঁছেছে, আমেরিকার বড় শহরগুলোয় গুজরাটিদের ব্যবসা বন্ধ হওয়ার পথে। কারণ সে ব্যবসাগুলো চলত এ দেশের কালো টাকায়। মোদিবিরোধী আন্দোলন যে গোটা দেশে শুরু হয়েছে, তাতে পরিষ্কার, দলমত-আদর্শ বিসর্জন দিয়ে মোদির আসল রূপ তারা প্রকাশ করে দিচ্ছেন। এ ঘটনা মনে করিয়ে দিচ্ছে ’৭৫-৭৭ জরুরি অবস্থার সময় ইন্দিরাবিরোধী হাওয়ার কথা। তেমনই একটা হাওয়া উঠতে শুরু করেছে। সিপিএম, কংগ্রেস, তৃণমূল, সমাজবাদী পার্টিসহ দক্ষিণের দলগুলো একাট্টা হয়েছে। এ জোটের নেতৃত্ব দিচ্ছেন আবারও রাহুল গান্ধী। ৮ নভেম্বরের পর থেকে ৫০০-১০০০ টাকার নোট নিয়ে সরকার একেক দিন একেক রকম কথা বলছে। কিন্তু মানুষের সহ্যক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে ভারতের পরিস্থিতি, বিশ্ববাজারে ভারতের অর্থনীতি সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে। কাশ্মীর সীমান্তে গোলাগুলি প্রতিদিন চলছে। তাহলে কি পাকিস্তানের সঙ্গে কোনো যুদ্ধ বাধিয়ে মোদি তার গদি ঠিক রাখতে চাইছেন? সম্প্রতি একটি টিভি চ্যানেলে কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধীর সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়। যেখানে সোনিয়াকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, নরেন্দ্র মোদি নাকি ইন্দিরা গান্ধীর থেকে বড় নেতা। এক লাইনের জবাবে সোনিয়া বলেছিলেন, ইন্দিরা গান্ধী ছিলেন ধর্মনিরপেক্ষ নেত্রী। এদিকে বাজপেয়ি সরকারের বিলগ্নীকরণ মন্ত্রী তথা বিখ্যাত সাংবাদিক অরুণ শেঠি কঠোর সমালোচনা করে বলেছেন, মোদি একজন অপদার্থ। অর্থনীতির কিছুই বোঝেন না। দেশকে তিনি টুকরো করতে চাইছেন। তা মেনে নেওয়া যায় না। বিজেপি সংসদ সদস্য তথা অভিনেতা শত্রুঘ্ন সিনহা মন্তব্য করেছেন, মোদির উচিত ছিল আরএসএস নিয়ে থাকা। প্রশাসনের কোনো যোগ্যতাই নেই তার। তিনি একজন কলঙ্কজনক নায়ক।

মোদির এই কাণ্ডকারখানা দেখে ইতিহাসবিদরা বলছেন, মোদির সঙ্গে মুহম্মদ বিন তুঘলক, হিটলার ও মুসোলিনিদের মিল পাওয়া যায়। মানুষের ভোটে নির্বাচিত হয়ে কী করে মানুষকে ধ্বংস করতে হয়, তা মোদিকে দেখে শিখতে হয়।

লেখক : ভারতীয় প্রবীণ সাংবাদিক।

Advertisements

Add Comment

Click here to post a comment