মতামত/বিশেষ লেখা/সাক্ষাৎকার

নতুন সংকটের মুখে মার্কিন নির্বাচন-গাজীউল হাসান খান

%e0%a6%97%e0%a6%be%e0%a6%9c%e0%a7%80%e0%a6%89%e0%a6%b2-%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%a8-%e0%a6%96%e0%a6%be%e0%a6%a8ভবিষ্যতে প্রেসিডেন্ট পদে নির্বাচন করতে পারেন জেনেও হিলারি ক্লিনটনের জন্য কোনোমতেই উচিত হয়নি সেক্রেটারি অব স্টেট পদে দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় তাঁর স্বামী, সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন প্রতিষ্ঠিত দাতব্য সংস্থা ‘ক্লিনটন ফাউন্ডেশনের’ সঙ্গে জড়িত হওয়া। হিলারির বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে যে ফাউন্ডেশনের জন্য বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানসহ নানা প্রভাবশালী জায়গায় বক্তৃতা দিয়ে তিনি প্রচুর অর্থ নিয়েছেন। সে অর্থ যে শুধু সাহায্য হিসেবে বিদেশে খরচ করা হয়েছে তা নয়, সে অর্থ হিলারির বর্তমান নির্বাচনী ব্যয় সংকুলানের জন্যও ব্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ কথা ঠিক যে নির্বাচনী তহবিল সংগ্রহের জন্যও হিলারি আলাদাভাবে অর্থ সংগ্রহ করেছেন। তবে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তাঁর প্রতিপক্ষ, বিশেষ করে রিপাবলিকান দলের প্রার্থী ও দলীয় সমর্থকরা তাঁর (হিলারির) বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে অভিযোগের এক পাহাড় দাঁড় করিয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম প্রধান অভিযোগ হচ্ছে, সেক্রেটারি অব স্টেট থাকা অবস্থায় হিলারির ব্যক্তিগত ই-মেইল সার্ভারে রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আদান-প্রদান। তাতে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তাবিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উদ্ঘাটিত হওয়ার ঝুঁকি ছিল বলে আশঙ্কা প্রকাশ করে হিলারির প্রতিপক্ষ কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআইয়ের কাছে অভিযোগ করেছিল। তারই ভিত্তিতে হিলারির ৩৩ হাজার মুছে ফেলা ই-মেইল নিয়ে তদন্ত করে এফবিআইয়ের পরিচালক জেমস কমি গত জুলাইয়ে কংগ্রেসের একটি বিশেষ কমিটিকে জানিয়েছিলেন যে হিলারির সে কাজটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হলেও তাতে কোনো রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা-সংক্রান্ত অনিষ্ট সাধিত হয়নি। কিন্তু এমন এক ঘটনার পর নির্বাচনের মাত্র ১০ দিন আগে জেমস কমি হিলারির ই-মেইল নিয়ে আবার তদন্তের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। কারণ হিলারির একজন ব্যক্তিগত সহকারী, হোমা আবেদিন ও তাঁর স্বামী সাবেক কংগ্রেসম্যান এন্থনি উইনারের কাছ থেকে জব্দ করা একটি ল্যাপটপের ই-মেইল থেকে আবার তদন্তের কিছু বিষয় পাওয়া যেতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। হোমা আবেদিন ও তাঁর স্বামী এন্থনি উইনারের ব্যাপারে কমি নিজেই এখনো নিশ্চিত নন। তাই যুক্তরাষ্ট্রের সর্বত্র এখন প্রশ্ন উঠেছে, কিসের ভরসায় নির্বাচনের ১০ দিন আগে কমি এমন এক মারাত্মক ঘোষণা দিলেন? তাঁর এই ঘোষণা সুইং স্টেটসসহ দেশব্যাপী নির্বাচনে বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে বলে ডেমোক্রেটিক দল ও গণমাধ্যম থেকে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন ডেমোক্রেটিক দলীয় সিনেটর ডায়ান ফিনস্টাইন, প্যাট্রিক লিহে, বেন কার্ভিন ও টমাস কার্পার। তাঁরা প্রতিবাদলিপি পাঠিয়েছেন কমির কাছে। তা ছাড়া ডেমোক্রেটিক দলের কংগ্রেসম্যান স্টিভ কোহেন কমির পদত্যাগ দাবি করেছেন। সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল এরিক হোল্ডার ও ডজনখানেক ফেডারেল আইনজীবী এবং এমনকি বর্তমান মার্কিন অ্যাটর্নি জেনারেল লরেটা লিঞ্চ কমির এ অসময়োচিত, অপ্রাসঙ্গিক ও অবিবেচিত পদক্ষেপের প্রতিবাদ করেছেন আইনিভাবেই। কারণ কমি হিলারির ই-মেইলসংক্রান্ত বিষয়টি নিয়ে কংগ্রেসের বিশেষ কমিটির কাছে তাঁর বক্তব্য দিয়ে আবার এক নতুন বিতর্কের সূচনা করেছেন। নির্বাচনের চূড়ান্ত পর্যায়ে এসে অর্থাৎ নির্বাচনের ১০ দিন আগে কমি যে আবার তদন্তের কথা বলেছেন তা যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের নীতির বরখেলাপ বলে উল্লিখিত ব্যক্তিরা অভিমত দিয়েছেন। এটি বেআইনি বিধায় যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ ভোটাররা অত্যন্ত ক্ষুব্ধ হয়েছেন। এতে হিলারির ওপর প্রার্থী হিসেবে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হতে পারে বলে অনেকে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। জব্দ করা ল্যাপটপ কিংবা ই-মেইলের বার্তাগুলো যেহেতু সরাসরি হিলারির নয়, সেহেতু হিলারি নিজে ও তাঁর সমর্থক শিবির অত্যন্ত হতাশ হয়েছে। নির্বাচনের আগে জব্দ করা সেসব হাজার হাজার বার্তা কোনোমতেই তদন্ত করে কিংবা পরীক্ষা করে দেখা সম্ভব নয় যে সেগুলোর সঙ্গে হিলারির কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না। হিলারি শিবিরের ধারণা, ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তাঁর রিপাবলিকান দলের কয়েকজন নেতার চাপের মুখে এফবিআইয়ের পরিচালক জেমস কমি এ কাজ করতে বাধ্য হয়েছেন। তা ছাড়া কারো কারো বিশ্বাস, কমি ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে হাত মিলিয়েছেন হিলারির অগ্রগামিতাকে রুখে দিয়ে নির্বাচনকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে। কমি একজন দায়িত্বশীল, যোগ্য ও কর্তব্যপরায়ণ ব্যক্তি হিসেবে রিপাবলিকান ও ডেমোক্রেটিক উভয় মহলে পরিচিত। তিনি সাবেক প্রেসিডেন্ট জর্জ ডাব্লিউ বুশের আমলে এফবিআইয়ের সহকারী পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন শুরু করেন এবং বর্তমান প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা তাঁকে পরিচালকের পদে নিয়োগ দিয়েছেন। তাই কমির এই অসময়োচিত ও অবিবেচিতভাবে নেওয়া পদক্ষেপে অবাক হয়েছেন অনেকে।

এত দিন জেমস কমির ভূমিকায় ডোনাল্ড ট্রাম্প অত্যন্ত ক্ষুব্ধ ছিলেন। কমি বর্তমান ক্ষমতাসীন ডেমোক্রেটিক দলীয় সরকার ও তার প্রার্থী হিলারি ক্লিনটনের হয়ে কাজ করছেন বলে বিভিন্ন নির্বাচনী সভায় অভিযোগ করেছেন ট্রাম্প। কিন্তু কমির বর্তমান ঘোষণায় আবার অত্যন্ত উত্ফুল্ল হয়ে উঠেছেন ট্রাম্প। চাঙ্গা হয়ে উঠেছে ট্রাম্পের কর্মী বাহিনী। নতুন করে আবার প্রচুর অর্থ ঢালা শুরু করেছেন ট্রাম্প তাঁর নির্বাচনী প্রচারণায়। তাতে হিলারির সঙ্গে জনপ্রিয়তার ক্ষেত্রে তাঁর ব্যবধান বেশ কমে এসেছে। দেশব্যাপী প্রায় ৬ থেকে ৯ শতাংশ ব্যবধানের মধ্যে কোথাও কোথাও হিলারির বেশ কাছাকাছি চলে এসেছেন ট্রাম্প। এখন জেমস কমি এবং এফবিআইয়ের প্রশংসা শোনা যায় ট্রাম্পের বক্তৃতায়। এসব ঘটনায় নির্বাচনী প্রচারণার ক্ষেত্রে কিছুটা হতাশা দেখা দিয়েছিল হিলারির শিবিরে। দেশ-বিদেশে অনেকে মনে করেছেন এই বুঝি ট্রাম্প হোয়াইট হাউসের মসনদে বসে গেলেন! কিন্তু কমির হঠাৎ ঘোষণার বিরুদ্ধে ডেমোক্র্যাটরা তীব্র প্রতিবাদ জানালে এবং বিষয়টি নির্বাচনের এ পর্যায়ে বিচার বিভাগের আইন অনুযায়ী অগ্রহণযোগ্য বলে প্রচারিত হওয়ায় হিলারির কর্মী বাহিনী, সমর্থক ও শুভানুধ্যায়ীদের মধ্যে আবার উৎসাহ-উদ্দীপনা ফিরে আসে। তবে হোয়াইট হাউস কমিকে এ কাজের জবাবদিহি করার জন্য কাঠগড়ায় দাঁড় না করিয়ে বরং অত্যন্ত কূটনৈতিকভাবে বিষয়টি সামলানোর চেষ্টা করেছে। তাতে আশা করা যায়, হিলারির ক্ষেত্রে বিরূপ কিছু ঘটবে না।

হিলারি ক্লিনটন ও তাঁর ডেমোক্রেটিক দলীয় শিবির ‘অক্টোবর বিস্ময়’ হিসেবে আসা ঘোষণায় জেমস কমির তীব্র সমালোচনা করে বলেছে, কমি এক ‘দুমুখো’ (Double Standard) নীতি অবলম্বন করেছেন। তিনি হিলারির ই-মেইল বার্তা মুছে ফেলার ব্যাপারে গত জুলাইয়ে বলেছেন, তাতে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বিশাল ঝুঁকিপূর্ণ বা বিপজ্জনক কিছু ঘটেনি। অথচ হিলারির সহকারী হোমা আবেদিনের ই-মেইল বার্তাসহ যে ল্যাপটপ তাঁরা আটক করেছেন তাতে তাঁরা রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তাবিষয়ক গোপন তথ্য খুঁজে বের করার চেষ্টা করছেন। হোমা ও তাঁর সাবেক কংগ্রেসম্যান স্বামী এন্থনি উইনারের ই-মেইল বার্তার ওপর কমির কাছে নির্দিষ্ট কোনো তথ্য নেই। উইনার তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে বিশ্বাস ও সম্পর্ক ভঙ্গ করে অপ্রাপ্তবয়স্কা এক তরুণীর কাছে কিছু আপত্তিকর যৌনবিষয়ক ছবি পাঠালে উইনার এফবিআইয়ের নজরে আসেন। এরপর চৌকস ও রাজনীতিতে সম্ভাবনাময় উইনার কংগ্রেসম্যান হিসেবে পদত্যাগ করেন এবং হোমার কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন। তবে তিনি শেষ পর্যন্ত হিলারির জন্য কাজ করে গেছেন এবং হোমা এখনো করছেন বলে জানা গেছে। হিলারির সঙ্গে হোমা ও উইনারের সম্পর্কের কারণে হিলারির পাঠানো ই-মেইল বার্তার সম্ভাব্য যোগসূত্রের ব্যাপারে এফবিআই সাবেক সেক্রেটারি অব স্টেটের বিরুদ্ধে অভিযোগের পুনঃ তদন্ত করতেই পারে, তবে তার জন্য যে সময়টি তারা বেছে নিয়েছে, তা অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিধায় বিচার বিভাগ ও আইনজীবী মহল আপত্তি জানিয়েছে। গত সোমবার ওহাইয়োর এক নির্বাচনী সভায় হিলারি ক্লিনটন বলেছেন, তাঁর ব্যাপারে এফবিআই আগেও আপত্তিকর বা বেআইনি কিছু পায়নি এবং এখনো হোমার ই-মেইল বার্তাগুলোয় কোনো সম্পর্ক পাবে না। তবে বিষয়টি নিয়ে ট্রাম্পের শিবির অনেক জল ঘোলা করেছে। সেটিকে কেন্দ্র করে হিলারি সম্পর্কে বহু আপত্তিকর কথাবার্তা বলেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি এ বিষয়কে ‘ওয়াটার গেট কেলেঙ্কারির’ চেয়ে আরো নিকৃষ্ট অপরাধ বলে অভিহিত করেছেন। এফবিআইয়ের পুনঃ তদন্তবিষয়ক ঘোষণার পর নির্বাচনী প্রচারণা ও জনপ্রিয়তার ক্ষেত্রে বহু পিছিয়ে থাকা ট্রাম্প নতুন উদ্যমে মাঠে নেমে তাঁর অবস্থার বেশ কিছুটা পরিবর্তন সাধন করতে সক্ষম হয়েছেন। তবে হিলারি ও ডেমোক্রেটিক শিবিরের এফবিআইবিরোধী তীব্র প্রতিবাদ ও আইনি আপত্তির কারণে হিলারি আবার ফ্লোরিডা, কলোরাডো, নেভাদা, ওহাইয়ো ও ভার্জিনিয়ার মতো সুইং স্টেটগুলোর অবস্থার আরো উন্নতি সাধন করেছেন বলে মনে করা হচ্ছে।

নির্বাচনের মূল তারিখের আগে যুক্তরাষ্ট্রে ভোটদানের বিধান (Early voting) থাকায় বিভিন্ন রাজ্যে এরই মধ্যে লাখ লাখ ভোটার তাঁদের ভোট প্রদান করে ফেলেছেন। তাতে দেখা গেছে, ট্রাম্পের তুলনায় হিলারি অনেক এগিয়ে রয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের মোট জনসংখ্যার (৩২ কোটি) ৬২ শতাংশ (হিসপানিক নয়) শ্বেতাঙ্গ। সংখ্যাগরিষ্ঠতার দিক থেকে তারা অনেক এগিয়ে থাকলেও তাদের শিবির শিক্ষিত-অশিক্ষিত, নারী-পুরুষ ও বিভিন্ন দলীয়ভাবে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। এর পরও শ্বেতাঙ্গদের (অধিকাংশ নিম্নপর্যায়ের পেশাজীবী, অল্পশিক্ষিত ও বেকার মানুষ) সমর্থন নিয়েই ট্রাম্প মূলত বর্তমান অবস্থানে রয়েছেন। তাঁর শিবিরে দলগতভাবেও (রিপাবলিকান) বেশ কিছু বিরোধ ও বিভক্তি রয়েছে। রয়েছে বর্ণবাদ ও সম্প্রদায়গত বিরোধের অভিযোগ। অন্যদিকে হিলারি ক্লিনটনের শিবিরে ধর্ম-বর্ণ-সম্প্রদায়-নির্বিশেষে রয়েছে মহিলা ভোটারদের জোর সমর্থন। হিলারি কৃষ্ণাঙ্গ, হিসপানিক, লাতিন, মুসলিম ও এশীয় সম্প্রদায়ের মানুষের বেশির ভাগ ভোট পাবেন বলে ধরে নেওয়া হয়েছে। সেখানে বিশেষ বিভক্তি নেই বলে ট্রাম্পের অনুপ্রবেশ তেমনভাবে সম্ভব হয়নি। ফলে শ্বেতাঙ্গ ভোটারদের বিভক্ত হতে দেখা যাচ্ছে এবং অন্যদিকে অশ্বেতাঙ্গরা ব্যাপক সংখ্যাগরিষ্ঠভাবে হিলারির পক্ষে রয়েছে। এর পরও দেখা গেছে ক্যালিফোর্নিয়া, নিউ ইয়র্ক, ইলিনয়, টেক্সাস ও ফ্লোরিডার মতো জনবহুল রাজ্যে ডেমোক্রেটিক পার্টির শক্তি এখনো অটুট রয়েছে। ফলে নির্বাচনে পাস করতে হলে যে পরিমাণ ইলেকটোরাল ভোটের প্রয়োজন তা হিলারি ক্লিনটনের রয়েছে। হিসাব মতে ৫৩৮টি ইলেকটোরাল কলেজের ভোটের মধ্যে হিলারি ক্লিনটন ৩০০টির বেশি পেতে পারেন বলে আশা করা যায়। উল্লেখ্য, নির্বাচনে পাস করতে হলে একজন প্রার্থীকে অন্তত ২৭০টি ইলেকটোরাল ভোট পেতেই হবে। সে ক্ষেত্রে ট্রাম্প এখনো অনেক পিছিয়ে রয়েছেন বলে গণমাধ্যমের অভিমত।

বিভিন্ন অভিযোগ, চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য ও কেলেঙ্কারির কারণে ট্রাম্প কিংবা হিলারি—কেউই এবারের নির্বাচনে আদর্শ প্রার্থী নন বলে যুক্তরাষ্ট্রের বেশির ভাগ মানুষ মনে করে। তবু প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে একজনকে তো নির্বাচিত হতেই হবে। সে হিসেবে যোগ্যতার দিক থেকে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে হিলারি ক্লিনটনের কোনো তুলনা হয় না। তা ছাড়া হিলারি একজন অত্যন্ত প্রভাবশালী মহিলা প্রার্থী। নির্বাচিত হলে তিনিই হবেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম মহিলা প্রেসিডেন্ট। সে কারণে যুক্তরাষ্ট্রের মহিলা ভোটাররা এবার অত্যন্ত সোচ্চার। এফবিআইয়ের হিলারির ক্ষেত্রে পুনঃ তদন্তের ঘোষণায় তাঁর ভোটের পরিমাণ কিছুটা কম হলেও ডোনাল্ড ট্রাম্পের তুলনায় তিনি বেশ বড় ব্যবধানেই বিজয়ী হবেন বলে অনেকে মনে করেন। কারণ শুধু যুক্তরাষ্ট্র নয়, বিশ্বের সংখ্যাগরিষ্ঠ রাজনীতি সচেতন মানুষ চান না ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতো একজন মানুষ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হোন। উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র গণতান্ত্রিক ও মুক্তবিশ্বের নেতৃত্বদানকারী একটি অন্যতম প্রধান দেশ, যা বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশ্বের অপ্রতিদ্বন্দ্বী এবং সর্বাধিক শক্তিশালী ও ক্ষমতার অধিকারী বলে বিবেচিত হচ্ছে। সে কারণেই যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনের বিষয়টি দেখলে মনে হয় এটি মুক্তবিশ্বের সব গণতান্ত্রিক মানুষের নির্বাচন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট মানে গণতান্ত্রিক মুক্তবিশ্বের অন্যতম প্রধান নেতা। এখন দেখা যাক ৮ নভেম্বরের নির্বাচনে যুক্তরাষ্ট্রে কী ঘটে—কে যায় ক্ষমতায়।

১ নভেম্বর, লন্ডন

 লেখক : বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস)

প্রধান সম্পাদক ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক

gaziulhkhan@gmail.com

Add Comment

Click here to post a comment