জাতীয় বিভাগীয় সংবাদ

ধনী-গরিবের প্রেম এবং আরো এক প্রেমিক জেলহাজতে

মেয়ে ধনী পরিবারের। ছেলে গরিব পরিবারের। এমন অসম প্রেম করার ‘অপরাধে’ ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা মথুরাপুর এলাকার আরিফ আসলাম প্রিন্স নামের এক ছেলে জেল হাজতে।

জানা গেছে, আরিফ আসলাম প্রিন্স ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়তো আর মেয়েটি সুগার মিল উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়তো। একই এলাকার হওয়ায় তাদের মধ্যে একটা ভালো বন্ধুত্ব তৈরি হয়। পরে একই কলেজে পড়ার সুবাদে দুজনের মাঝে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

কলেজ জীবন শেষ করে প্রিন্স ফরিদপুর ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে ভর্তি হয় আর মেয়েটি সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়। এর মাঝেই দু’জনের সম্পর্ক আরো গভীর হয়। নিয়মিত ফোনে কথা, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে আলোচনা ও বাড়িতে আসলেই দেখা সাক্ষাৎ হতো তাদের।

প্রেমের বিষয়টি মেয়েটির বিশিষ্ট ব্যবসায়ি বাবা আবু ছালাম ও বড় ভাই জেনে গেলে ছেলেটির ওপর চলে মানসিক নির্যাতন। এর পূর্বেও মেয়েটিকে ছেলেটির সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দেওয়ার কথা বললেও মেয়েটি পরিবারের কথায় সাড়া দেয়নি।

পরবর্তীতে মেয়ের ভাই ঠাকুরগাঁও থানায় একটি অপহরন চেষ্টা ও যৌন নিপীড়নের অভিযোগ দায়ের করেন আরিফ আসলাম প্রিন্সের বিরুদ্ধে।

সে অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী আরিফ আসলাম প্রিন্সকে পুলিশ মথুরাপুর নিজ বাড়ি থেকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। আদালত পরে আরিফ আসলাম প্রিন্সকে জেল হাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেন।

আরিফ আসলাম প্রিন্সের বাবা আব্দুর রহমান বলেন, আমরা গরিব। আমার ছেলের সঙ্গে ধনীর পরিবারের মেয়ের সম্পর্ক হয়েছে। তাই মেয়ের বাবা ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে তাকে জেল হাজতে পাঠিয়েছে। আসলে ‘প্রেম তো ধনী গরিব বুঝে না’।

মামলার বাদী মেয়ের বড় ভাই আকিদ জাহিদ জানান, আরিফ আসলাম প্রিন্সের সঙ্গে আমার বোনের একটা ভাল বন্ধুত্ব ছিল। কিন্তু সে প্রায় সময় আমার বোনকে ফোনে বিরক্ত করতো। ঈদের ছুটিতে এসে সে আমার বোনকে অপহরণের চেষ্টা করে। তাই থানায় মামলা দায়ের করেছি।

ঠাকুরগাঁও থানার এসআই কফিল উদ্দিন জানান, মামলার প্রেক্ষিতে আসামি গ্রেফতার করা হয়েছে। পরবর্তীতে তদন্ত সাপেক্ষে মামলার প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।

ঠাকুরগাঁও থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) এটিএম শিফাতুল জানান, আসামির বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করায় তাকে আটক করে আদালয়ে প্রেরণ করা হয়েছে।