আন্তর্জাতিক

দেহরক্ষীর সঙ্গে সম্পর্কের কথা স্বীকার করেছিল ডায়না

লেডি ডায়না। প্রিন্স চার্লসের প্রথম স্ত্রী। ২০ বছর আগে গাড়ি দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছিলেন। দিনটা ছিল ৩১ অগাস্ট। এতটা সময় পেরোলেও তাঁকে নিয়ে মানুষের কৌতূহলের শেষ নেই। আর মানুষের এই কৌতূহলটাই একসময় অসহ্য হয়ে উঠেছিল রাজবাড়ির পুত্রবধূর।

বিশেষ করে তখন, যখন প্রিন্স চার্লসের সঙ্গে তাঁর বিয়েটায় আর কিছুই বাকি ছিল না। এমন সময়ই ডায়নার জীবনে আচমকা প্রবেশ তাঁর দেহরক্ষী বেরি ম্যানাকির। বেরির সঙ্গে তাঁর যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল তা নিজেই স্বীকার করেছিলেন। এই স্বীকারোক্তির ভিডিও আগামী সপ্তাহে দেখাবে একটি ব্রিটিশ টিভি চ্যানেল।

প্রিন্স হ্যারির জন্মের পর একেবারেই ছিঁড়ে গিয়েছিল সম্পর্কের বাঁধনটা। স্ত্রীর কাছে প্রিন্স চার্লসের চাহিদা বলতে ছিল তিন সপ্তাহে একবার সেক্স। ঠিক যেমন বিয়ের আগে তিন সপ্তাহে একবার ক্যামিলার কাছে যেতেন।

স্বামীর সঙ্গে জোড়াতালি দিয়ে টিকিয়ে রাখা বিয়ে, ক্যামিলার সঙ্গে প্রিন্স চার্লসের সম্পর্ক এসব ডায়না নিজেই জানিয়েছিলেন তাঁর পাবলিক স্পিকিং কোচ পিটার সেটেলনকে। এই ভিডিও টেপের শুটও তিনিই করেছিলেন। সময়টা ছিল ১৯৯৩-এর জানুয়ারি। তার মাস খানেক আগেই ডায়না আর প্রিন্স চার্লসের বিচ্ছেদ হয়েছিল। কোনও কিছু লুকিয়ে রাখার আর বোধহয় প্রয়োজন মনে করেননি।

তাই গর্ব করেই বলেছিলেন, দেহরক্ষী বেরির সঙ্গে প্রেমের কথা। তবে করেননি। বুঝিয়ে দিয়েছিলেন স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদের পর ওই দেহরক্ষীই ছিলেন ডায়নার মনের মানুষ। সবকিছু ছেড়ে যার সঙ্গে তিনি পালাতেও রাজি ছিলেন। আর ডায়নার এই ইচ্ছায় একশো শতাংশ সায় ছিল বেরির।

ভিডিও টেপটিতে ডায়না বলেছেন, “সবাইকে বলতে চেয়েছিলাম আমি ওর সঙ্গে ভালো আছি। আমি যে মানসিক স্থিতিতে আটকে ছিলাম ও আমাকে সেখান থেকে টেনে বের করে এনেছিল। সেই সবকিছু করার সুযোগ করে দিয়েছিল যা করার জন্য আমি অনেক চেঁচিয়েছি।

কিন্তু তা রাজবাড়ির ঘরেই আটকে থেকেছে।” বেরি ডায়নাকে সাহস দিয়েছিল তাঁদের সম্পর্কের কথা রাজবাড়িতে জানানোর। নিজের প্রেমের কথা বলার সময় প্রিন্সের কাছে ক্যামিলার প্রসঙ্গও তুলেছিলেন।

সব শুনে চার্লসের নিরুত্তাপ উত্তর ছিল, “আমি ওয়েলসের একমাত্র প্রিন্স নই যার উপপত্নী আছে।” প্রিন্সের সঙ্গে বিচ্ছেদের জন্য বাধ্য হয়েই নিজের সম্পর্কের কথা রানি দ্বিতীয় এলিজ়াবেথকে জানিয়েছিলেন। রানির উত্তর ছিল, “আমি জানি না তোমার কী করা উচিত। চার্লস হোপলেস।”

তবে রাজবাড়িতে ডায়নার সঙ্গে সম্পর্ক জানাজানি হওয়ার পরই বেরিকে কাজ থেকে বরখাস্ত করে দেওয়া হয়। তার কিছুদিন পরই একটি বাইক দুর্ঘটনায় তাঁর মৃত্যু হয়। ডায়না বলেন, “বেরির মৃত্যু আমার জীবনের সবথেকে বড় ধাক্কা ছিল। ”