slider জাতীয়

দেশে আসছে নতুন একটি মোবাইল ফোন অপারেটর!

দেশের দুটি মোবাইল ফোন অপারেটর একীভূতকরণ এবং অন্য একটি মোবাইল অপারেটর অর্থাভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। তবে আগামীতে স্পেকট্রাম (তরঙ্গ) নিলামের সময় নতুন একটি মোবাইল ফোন অপারেটর বাংলাদেশে নিয়ে আসতে চেষ্টা চালাচ্ছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

গত বছরেই রবি আজিয়াটা লিমিটেড ও এয়ারটেল বাংলাদেশ লিমিটেড একীভূত হয়েছে। এছাড়া দেশের সবচেয়ে পুরোনো মোবাইল ফোন অপারেটর সিটিসেল গত আট মাস ধরে বন্ধ রয়েছে। দেশে ৬টি মোবাইল ফোন অপারেটর ব্যবসা পরিচালনা করলেও গত বছর থেকে এ সংখ্যা এখন চারে নেমে এসেছে।

বিটিআরসির তথ্যমতে, এখন গ্রামীণফোন, রবি এবং বাংলালিংকের মোট মার্কেট শেয়ার ৯৭.৩ শতাংশ। আর অবশিষ্ট ২.৭ শতাংশ মার্কেট শেয়ার রয়েছে সরকারি মোবাইল ফোন অপারেটর টেলিটকের। দেশে সর্বশেষ ২০০৫ সালে এয়ারটেলকে লাইসেন্স দেওয়া হয়েছিল।

বিটিআরসির চেয়ারম্যান শাহজাহান মাহমুদ বলছেন, অন্তত একটি নতুন মোবাইল ফোন অপারেটরকে আগামী স্পেকট্রাম নিলামে অংশগ্রহণের প্রত্যাশা করছি। তিনি বলেন, আমরা নতুন একটি মোবাইল ফোন অপারেটরের জন্য অপেক্ষা করছি।

তিনি জানান, পরবর্তী স্পেকট্রাম নিলাম অনুষ্ঠিত হবে আগামী তিন মাসের মধ্যেই। এ সময়ের মধ্যেই নতুন অপারেটর আসতে পারে।

তবে টেলিকম বিশেষজ্ঞ আবু সাঈদ খান বলছেন, বাংলাদেশে নতুন মোবাইল ফোন অপারেটরকে বিনিয়োগ করানোর বিষয়টি সহজ হবে না। এ খাতের ভবিষ্যৎ-বাণী করা সহজ নয়। তবে এজন্য রেগুলেটরকে অবশ্যই নতুন বিনিয়োগে আকর্ষণ করানোর জন্য কাজ করতে হবে। নতুন অপারেটর আসার ক্ষেত্রে রেগুলেটর যদি কোনো ইনসেন্টিভ দেয় তাহলে হয়তো এ পথ সুগম হবে।

একটি মোবাইল ফোন অপারেটরের শীর্ষ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, ‘বাংলাদেশে রেগুলেটর, বিনিয়োগ ও ট্যাক্স ইস্যু খুব বেশি সুবিধাজনক নয়। ফলে এ দেশে নতুন মোবাইল ফোন অপারেটর আসা সম্ভবপর হয়ে উঠবে বলে মনে হয় না। তবে নতুন অপারেটর আসলে অবশ্যই ওয়েলকাম জানাব।’

আবু সাঈদ খান বলছেন, আন্তর্জাতিক টেলিকম জায়ান্ট এনটিটি ডকুমো এবং এয়ারটেলের বাংলাদেশে ব্যবসা সংকুচিত করার বিষয়টি শুভ লক্ষণ নয়। জাপানি প্রতিষ্ঠান এনটিটি ডকুমোর বাংলাদেশের মোবাইল অপারেটর রবির ৩০ শতাংশ শেয়ারের মালিক ছিল। এখন সে সংখ্যা ৬.৯ শতাংশ মাত্র।

ওয়ারিদ টেলিকম বাংলাদেশে তাদের ব্যবসা শুরু করেছিল ২০০৬ সালে। কিন্তু তারা ১ লাখ ডলারের বিনিময়ে ৭০ শতাংশ শেয়ার এয়ারটেলের কাছে বিক্রি করে দেয়। পরবর্তীতে এয়ারটেল অবশিষ্ট শেয়ার কিনে নিয়েছে এবং এ খাতে তারা ১০ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে।

চলতি বছরের মে মাসে টেলিযোগাযোগ কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর আইসিটি অ্যাডভাইজার সজিব ওয়াজেদ জয় বিটিআরসিকে এক নির্দেশনায় বলেছেন, বাংলাদেশে নতুন বিনিয়োগের বিষয়ে আন্তর্জাতিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করুন।

বিটিআরসি বলছে, তারা ইতোমধেই একটি অপারেটরের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। কিন্তু তারা বাংলাদেশ ব্যবসা করতে অনিচ্ছুক। এ ব্যাপারে আরও আকর্ষণীয় কী অফার দিয়ে বাংলাদেশে নতুন অপারেটর নিয়ে আসা যায় সে ব্যাপারে কাজ করছে বিটিআরসি।

প্রসঙ্গত, এর আগে ২০১৩ সালের ৮ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে থ্রিজি নিলাম করার আগেও নতুন একটি মোবাইল ফোন অপারেটর বাংলাদেশে আসার ব্যাপারে আশাবাদী ছিল বিটিআরসি। এ জন্য সম্ভাব্য সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছিল কমিশন। কিন্তু সেসময়েও তারা কোনো অপারেটর থেকে ইতিবাচক সাড়া পায়নি।