বিভাগীয় সংবাদ

দুই মাসের সন্তানকে বিক্রি করে চুরির যে নাটক সাজালেন মা

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় জন্মের দুই মাসের মাথায় অভাব অনটনের কারণে নিজের সন্তান বিক্রি করে দিয়েছেন মেহেরুন নেছা নামে এক মা।

বুধবার দুপুরে (১৩ সেপ্টেম্বর) মুন্সিগঞ্জের টঙ্গিবাড়ী এলাকা হতে পুলিশ শিশুটিকে উদ্ধার করে সোনিয়া নামে এক গৃহবধূকে আটক করে। এরপর তাকে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে বেড়িয়ে আসে আসল ঘটনা।

পুলিশ জানায়, ফতুল্লার দেলপাড়া এলাকার সুজনের স্ত্রী গার্মেন্ট শ্রমিক মেহেরুন নেছা গত তিন মাস আগে সন্তান ডেলিভারির জন্য ঢাকার ডেলটা হাসপাতালে ভর্তি হন। একই কারণে উক্ত হাসপাতালে ভর্তি হন মুন্সিগঞ্জ টঙ্গিবাড়ীর মীর হোসেন বেপারীর স্ত্রী রহিমা বেগম। হাসপাতালে থাকা অবস্থায় তাদের মধ্যে একটি সু-সম্পর্ক গড়ে উঠে। হাসপাতালে রহিমা বেগমের সন্তান প্রসব হওয়ার পর মারা যায় আর মেহেরুন নেছার একটি ছেলে সন্তান জন্ম হয়। কিন্তু স্বামী কোনো কাজ কর্ম না করার ফলে তাদের সংসারে অভাব অনটন লেগেই থাকে। এ কারণে রহিমা বেগমের ভাগনি সোনিয়ার মাধ্যমে ৩৫ হাজার টাকার বিনিময়ে সন্তান বিক্রি করে দেন মেহেরুন নেছা। এসময় তারা একটি স্ট্যাম্পের মাধ্যমে লিখিত করে নেয়।

এরপর রহিমা সন্তানের নাম রাখেন আলিফ। বাচ্চা বিক্রির এক মাস পর মেহেরুন নেছা মঙ্গলবার শিশু চুরি অভিযোগ এনে ফতুল্লা মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। পরে পুলিশ বুধবার মুন্সিগঞ্জের টঙ্গিবাড়ী এলাকা হতে শিশুটিকে উদ্ধার করে এবং সোনিয়াকে আটক করে। পরে উভয়ের কথা শুনে ফেঁসে যায় অভিযোগকারী মেহেরুন নেছা।

সোনিয়া বেগম জানান, তার মামী রহিমা বেগমের সন্তান মারা যাওয়ার পর টাকার বিনিময়ে সন্তান বিক্রি করতে চান মেহেরুন নেছা। পরে ৩৫ হাজার টাকার বিনিময়ে ছেলে সন্তানকে বিক্রি করেন তিনি। এ ঘটনার এক মাস পর এখন শিশু চুরির অভিযোগ করেছেন তিনি।

অভিযোগকারী মেহেরুন নেছা শিশু বিক্রির কথা শিকার করে জানান, নিজের সন্তানকে দেখার জন্য সোনিয়ার সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেন। কিন্তু তিনি দেখা করতে না পেরে ক্ষিপ্ত হয়ে যান। নিজের সন্তানকে ফিরিয়ে আনতে ফতুল্লা মডেল থানায় শিশু চুরির অভিযোগ দায়ের করেন।

ফতুল্লা মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মিজানুর রহমান জানান, মেহেরুন নেছার শিশু চুরির অভিযোগ দায়েরের প্রেক্ষিতে মুন্সিগঞ্জ হতে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয় এবং সোনিয়া নামে এক নারীকে আটক করা হয়। পরে উভয় পক্ষের কথা শুনে জানা গেছে, অভাব অনটনের কারণে মেহেরুন নেছা তার সন্তানকে ৩৫ হাজার টাকায় বিক্রি করেছিলেন। পরে তাদের সাথে যোগাযোগ করতে না পারায় শিশু চুরির অভিযোগ দায়ের করেন। উভয় পক্ষের সাথে আলোচনা করে বিষয়টি মিমাংসা করে দেয়া হয়েছে।