আন্তর্জাতিক

দীর্ঘ ৬ বছর পর পতিতালয় থেকে বেঁচে ফিরে, প্রধানমন্ত্রীকে তরুণীর চিঠি

নারী পাচারকারীদের খপ্পরে পরে দীর্ঘ ৬ বছর অন্ধকারে কাটিয়েছেন তিনি। পতিতালয়ের প্রতিটি মূহুর্তের ভয়ঙ্কর যন্ত্রণাগুলো এখনও তাড়িয়ে বেড়ায় ওই তরুণীকে।সেই যন্ত্রণার কথা মনে পড়লেও আজও চোখ বন্ধ করে থাকেন তিনি।

ভারতের একটি গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ভারতের মহারাষ্ট্রের মহিলা কমিশন ও রাজ্য পুলিশের তৎপরতায় সম্প্রতি একটি পতিতাপল্লি থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ওই তরুণীকে। পতিতালয় থেকে মুক্তি পেয়ে একটি পোষাক কারখানায় নতুন জীবন খুঁজে পেয়েছেন তিনি।

তবে পতিতালয় থেকে নিজে বেঁচে এসে বসে থাকেন নি ওই তরুণী। সেখানে থাকা বাকিদের কথাও চিন্তা করেন তিনি। তাই বাকিদের উদ্ধারে পতিতালয় থেকে মুক্তি পেয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে চিঠি লিখেছেন ওই তরুণী।খামের উপর ঠিকানা— সাউথ ব্লক, রাইসিনা হিলস।

প্রধানমন্ত্রীকে দেয়া চিঠিতে ওই তরুণী জানিয়েছেন, কী ভাবে ওই পতিতাপল্লিতে পাচারকারীরা তাঁকে বিক্রি করে দিয়েছিল। সেখানে পশুর থেকেও নিকৃষ্ট ভাবে অত্যাচার করা হত তাঁর উপর। রোজই মারধর করা হত।

মঙ্গলবার (৮ আগস্ট) তাঁর সেই দু’পাতার চিঠি প্রধানমন্ত্রীর কাছে পৌঁছে দিয়েছেন মহারাষ্ট্র মহিলা কমিশনের চেয়ারপার্সন বিজয়া রাহাতকর। যে সংগঠনের মাধ্যমে তিনি বেঁচে ফিরেছেন সেই স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের কাছে ওই নির্যাতিতা জানান, শেষ ছয় বছরে বাঁচার সমস্ত আশাই ছেড়ে দিয়েছিলেন তিনি। মনে হত, এই পাশবিক যন্ত্রণা ভোগ করতে করতে একদিন এই পতিতাপল্লিতেই মরে যেতে হবে তাঁকে।

সেই অন্ধকার জীবন থেকে বেরিয়ে এখন প্রধানমন্ত্রীর কাছে তাঁর একটাই আর্জি, নিজের বোন ভেবে পাচারকারীদের হাত থেকে অসহায় মেয়েগুলোকে উদ্ধার করুন।
সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বিজয়া জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী ওই চিঠি গ্রহণ করেছেন এবং শীঘ্রই তিনি ব্যবস্থা নিবেন।