বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি স্বাস্থ্য

দীর্ঘ ছয় ঘণ্টা অপারেশনের পর আলাদা হলো ‘তোফা ও তহুরা’

দীর্ঘ সাড়ে ছয় ঘণ্টার অপারেশনের পর সুস্থ রয়েছে জোড়া শিশু তৌফা ও তহুরা। অপারেশনের পর কান্নাও করেছে তারা। শুধু তাই নয়, হাত-পাও নড়াচড়া করেছে এই জোড়া শিশু। অপারেশনের পর ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের পেডিয়াট্রিক সার্জারি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. শাহনুর ইসলাম এ তথ্য জানিয়েছেন। তবে অপারেশন সফল হলেও বিভিন্ন ধরনের ঝুঁকি থাকায় দুই শিশুকে সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে রাখতে হবে বলে জানান তিনি।


ডা. শাহনুর ইসলাম বলেন, ‘আমরা বাচ্চা দু’টির অনেকগুলো অপারেশন করেছি। তাদের প্লাস্টিক সার্জারিও করতে হয়েছে। এই ক্ষেত্রে কোনও ধরনের ইনফেকশন যদি হয়, তাহলে আমাদের সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়ে যাবে। আমাদের অপারেশন সফল, তবে তারা যেকোনও সময় তারা ঝুঁকিতে পড়তে পারে।’

মঙ্গলবার (১ আগস্ট) সকাল ৮টার দিকে শুরু হয় তৌফা-তহুরার অপারেশন। দীর্ঘ সাড়ে ছয় ঘণ্টার অপারেশন শেষে তাদের রাখা হয় পোস্ট অপারেটিভ ইউনিটে। বিকাল ৫টার দিকে জ্ঞান ফেরে তাদের। এসময় তারা নড়াচড়া করতে শুরু করে, কান্নাও করে। ডা. শাহনুর জানান, ২৪ ঘণ্টা তাদের এই পোস্ট অপারেটিভে রাখা হবে।
তৌফা ও তহুরার অপারেশন প্রসঙ্গে ঢামেকের এই সহযোগী অধ্যাপক বলেন, ‘অপারেশনের আগে বাচ্চা দু’টির অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি ছিল, অপারেশনের প্রয়োজনে অজ্ঞান করার সময়ও ঝুঁকি ছিল। অপারেশনের প্রতিটি স্তরই ছিল ঝুঁকিপূর্ণ। তবে আমরা আশাবাদী ছিলাম। আমাদের চিকিৎসকরাও নিজেদের সর্বোচ্চ দিয়ে চেষ্টা করেছেন। সে কারণেই আমরা সফল হয়েছি। বাচ্চা দু’টো কান্না করেছে, হাত-পা নেড়েছে।’

শিশু দুইটির আরও অপারেশন লাগবে জানিয়েছে ডা. শাহনুর বলেন, ‘শিশু দুইটির জন্য পরের তিনটি অপারেশনে পায়ু পথ তৈরি করতে হবে, প্রস্রাবের রাস্তা ঠিক করতে হবে এবং পেটের মধ্যে তৈরি করা পায়ুপথটি বন্ধ করতে হবে। তবে আগামী ছয় মাসের আগে আর তাদের কোনও অপারেশন করা যাবে না।’
তৌফা ও তহুরার অপারেশন সফল হওয়া প্রসঙ্গে ডা. শাহনুর বলেন, ‘এমন একটি অপারেশন সফলভাবে শেষ করার পর অবশ্যই আমরা খুশি। কিন্তু যতক্ষণ পর্যন্ত না শিশু দু’টিকে আমরা বাবা-মায়ের কোলে সম্পূর্ণ সুস্থ ও স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরত দিতে না পারছি, ততক্ষণ পর্যন্ত আমারা স্বস্তিতে থাকতে পারব না।’

এর আগে এদিন বিকাল পৌনে ৩টায় শিশু সার্জারি বিভাগের প্রধান আশরাফুল হক রাজু বাংলা ট্রিবিউনের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধিকে বলেন, ‘দুটি বাচ্চাকে পৃথক দুটি অপারেশন থিয়েটারে রাখা হয়েছে। আমাদের যে ভয় ছিল, ওদের মেরুমজ্জা বা স্পাইনাল কর্ড আঘাত পেতে পারে। কিন্তু তেমন কিছু ঘটেনি। অস্ত্রোপচারের সময় দু’টি বাচ্চারই মলদ্বারে সামান্য ক্ষত হয়েছে। কারণ মলদ্বার দুটো ছিল একসঙ্গে। আলাদা করে ওই ক্ষত সফলভাবে সারান হয়েছে। এখন আমরা মূলত সফ্ট টিস্যু কাভার করছি। তবে অস্ত্রোপচার-পরবর্তী ঝুঁকিও রয়েছে।’
গত বছর ২৯ সেপ্টেম্বর গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার দহবন্দ ইউনিয়নের ঝিনিয়া গ্রামের রাজু মিয়ার স্ত্রী সাহিদা বেগম নিজ বাড়িতে জোড়া কন্যা সন্তানের জন্ম দেন। কোমরের কাছে জোড়া লাগানো শিশু দুটির সব অঙ্গপ্রত্যঙ্গই আলাদা। শুধু প্রস্রাব-পায়খানার রাস্তা এক ছিল।
তৌফা ও তহুরাকে গত বছর প্রথমবারের মতো ঢামেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল ৮ অক্টোবর। তখন তাদের একটি সফল অপারেশনও করা হয়েছিল। গত ২১ এপ্রিল দ্বিতীয়বারের মতো ঢামেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাদের।

Advertisements