বিনোদন

বয়স কম হলে দাম বেশি, দ্বিতীয় বিয়ে হলে দাম কম

আমরা জানি আমাদের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র বাজারে পাওয়া যায় কিন্তু বাজারে বিয়ের পাত্রী পাওয়া যায় এই কথা হয়তো আমাদের অনেকেই শুনেনি। কিন্তু অবিশ্বাস্য হলেও এটি সত্য। দক্ষিণ-পূর্ব ইউরোপের বুলগেরিয়াতে খোলা হাটে বিক্রি করা হয় বিয়ের পাত্রী। বুহ যুগ ধরে বুলগেরিয়ায় এই রীতি চলে আসছে।

সেই বাজারে প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে বিয়ের পাত্রী। যে কেউ পছন্দমতো বাজার হতে কিনে আনতে পারবেন তার পছন্দসই পাত্রী! তাই এখন থেকে বিয়ের জন্য পাত্রী খুঁজতে অযথা ছুটে বেড়াতে হবে না। বাজারে গিয়েই পছন্দ মতো পাত্রী কিনে আনতে পারবেন যে কেউ! ইউরোপের সমৃদ্ধিশালী দেশ হিসেবে খ্যাত বুলগেরিয়ার স্টারা জোগরা নামক শহরে একটি উন্মুক্ত মার্কেটের সামনে এই পাত্রী বাজারটি বসে। মূলত বুলগেরিয়ায় হতদরিদ্র রোমা কালাইঝি যাযাবর সম্প্রদায় ছেলে-মেয়ে বিয়ে দিতে কনে বাজারের আয়োজন করে থাকেন।

রোমা সম্প্রদায় মূলত একটি যাযাবর ধর্মপ্রাণ অর্থোডক্স খ্রিস্টান সম্প্রদায়। তারা অনেক রক্ষণশীল। তারা সংখ্যায় মাত্র ১৮ হাজার ৷‌ পেশায় এরা প্রধানত তাম্রকার৷‌ ধর্মীয় আচার আচরণ পালন শুধু নয়, জীবনচর্যায় রোমা সম্প্রদায়ের মানুষ খুব গোঁড়া ৷‌ তারদের ছেলে মেয়েরা একটু বড় হলেই বিধিনিষেধের বেড়াজালে আটকা পড়ে৷‌ মেয়েদের বয়স বছর পনেরো হলে স্কুলে যাওয়া বন্ধ৷‌ অভিভাবকদের আশঙ্কা, মেয়েদের দিকে কেউ কুনজর দিতে পারে!

কিন্তু রক্ষণশীল সম্প্রদায়ের হলেও এসব যুবক-যুবতীরা পাত্রী কেনা বেচার সময় একে অন্যকে ধরে নাচেন, গান করেন এবং নানা ফুর্তিতে মেতে ওঠেন। আবার ছবিতে পোজ, এমনকি হালকা মদ্য জাতীয় পানীয়ও পান করেন তারা। তাম্রলিপির যুগ হতে ঐতিহ্যগতভাবে বাংশ পরাংপরায় এভাবেই ছেলে-মেয়েদের বিয়ের আয়োজন করে আসছেন বুলগেরিয়ার এই প্রাচীন রোমা সম্প্রদায়ের জনগোষ্ঠিরা। দাম দিয়ে কিনে আনার পর ছেলের সঙ্গে বিয়ে বন্ধনে আবদ্ধ করা হয় কিনে আনা পাত্রীকে।

পাত্রী পছন্দ হলে শুরু হয় দরাদরি ৷‌ মেয়েটি রূপে লক্ষ্মী গুণে সরস্বতী হলে দাম বাড়ে, না হলে কমে৷‌ একেবারে বাজারের কায়দায় ক্রেতা ও বিক্রেতার মধ্যে দরাদরি শুরু হয়৷‌ সাধারণভাবে ১৩ থেকে ২০ বছরের মধ্যে বিয়ে হয় রোমা কন্যাদের ৷‌ বয়স কম হলে দাম বেশি, দ্বিতীয় বিয়ে হলে দর কম,এমন নানা খুঁটিনাটি বিষয় দেখেশুনে সিদ্ধান্তে পৌঁছয় দু’পক্ষ৷‌ বুলগেরিয়ার মুদ্রার নাম লেভ৷‌ ১ লেভ সমান প্রায় ০.৫৬ ডলার৷‌ তার মানে পছন্দমতো বউ ঘরে আনার জন্য বাংলাদেশী টাকায় হিসাব করলে ১০ লাখের মতো টাকা খসাতে হচ্ছে অভিভাবকদের! তবে এক সময়, সুন্দরী ও গুণবতী পাত্রীর দাম চড়েছে প্রায় ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত!

প্রতিবছর ৪ বার এই বিয়ের আয়োজন করা হয়। কিন্তু পছন্দ অনুযায়ী সম্ভাব্য পাত্রী পেতে হলে ছেলের বাবা-মাকে মেয়ের বাবা-মার দাবি করা নির্দিষ্ট অংকের অর্থ গুণতে হয়! এভাবে বাজারে বিয়ের পাত্রী কয় বিক্রয় করে আজব এই দুনিয়ায় আরেকটি আজব ইতিহাস রচনা করলো বুলগেরিয়া।