অপরাধ/দুর্নীতি

দামি মোবাইল পেতে কলেজ পড়ুয়া তরুণী যা করলেন…

দামি মোবাইল কেনার টাকা জোগাড় করতে অপরিচিত ব্যক্তির সঙ্গে হোটেলে রাত কাটালেন ভারতের এক কলেজছাত্রী। ১৬ জুন শুক্রবার গভীর রাতে দমদম রোডের পাশে আদতে জলপাইগুড়ির বাসিন্দা ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের তৃতীয় বর্ষের ওই ছাত্রীকে মাতাল অবস্থায় উদ্ধার করে পুলিশ। নেশার ঘোর কাটার পর ওই তরুণীর বক্তব্য শুনে পুলিশের বড় কর্তাব্যক্তিরাও হতবাক হয়েছেন।

পুলিশের কাছে ওই ছাত্রী স্বীকার করেছেন, বাবা দামি মোবাইল কেনার টাকা না দেওয়াতেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

তবে এটা কোনো এটা কোনো বিক্ষিন্ত ঘটনা নয় বলে জানিয়েছেন ভারতের পুলিশ ও সমাজতত্ত্ববিদরা।

তারা বলছেন, ‘মাঝেমধ্যেই এমন ঘটনা এখন ঘটছে। নামী রেস্তোরাঁর ডিনার, ঝাঁ-চকচকে শপিং মলে ভালো ব্র্যান্ডের পোশাক, নিত্য-নতুন ইলেকট্রনিক্স সামগ্রীর টানে বাইরে থেকে আসা স্কুল-কলেজ পড়ুয়াদের অনেকেই এ পথে হাঁটছেন।’

জলপাইগুড়ির বাসিন্দা ওই তরুণী পুলিশকে জানিয়েছেন, তিনি সল্টলেকের একটি নামী বেসরকারি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে পড়েন। দমদমে বন্ধুদের সঙ্গে একটি মেসে থাকেন তিন বছর ধরে।

ওই তরুণীর বরাতে পুলিশের দাবি, ‘তার সব বন্ধুরই দামি মোবাইল রয়েছে। অথচ বারবার আবেদন জানিয়েও তার বাবা তা কিনে দিতে রাজি হননি। সে জন্যই ফেসবুকে আলাপ হওয়া একজন পরিচিতের সঙ্গে হোটেলে যেতে দ্বিধা করেননি তরুণী। তার বিনিময়ে ন’হাজার টাকা দিতে রাজি হন ওই যুবক।

ওই ছাত্রীর দাবি, এ শহরের লাইফ স্টাইলের সঙ্গে পাল্লা দিতে গিয়ে মেস-হোস্টেলে থাকা অনেকেই এ কাজ করে থাকেন।

ওই তরুণীর মুখে একথা শুনে হতবাক ব্যারাকপুর কমিশনারেটের কর্তারাও৷ এক পুলিশকর্তা বলছেন, ‘এই ঘটনা থেকে স্পষ্ট, নিজের শখ পূরণের জন্য বর্তমান প্রজন্ম কতদূর যেতে পারে।

তরুণীর খোঁজ সম্পর্কে ব্যারাকপুর কমিশনারেট সূত্রে খবর, গত শুক্রবার রাত দেড়টা নাগাদ দমদম রোডে নজরদারি চালাচ্ছিল একটি পুলিশ ভ্যান। রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় পুলিশের নজরে পড়ে হনুমান মন্দির সংলগ্ন ব্রিজের উপর অজ্ঞান অবস্থায় পড়ে রয়েছেন এক তরুণী। পুলিশ ওই তরুণীকে উদ্ধার করে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে যায়। সুস্থ হওয়ার পরেই তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে জানা যায়, ওই তরুণীর অন্য সহপাঠীদের স্মার্টফোন আছে। তরুণী দীর্ঘদিন ধরে অনুরোধ করলেও বাবা-মা তা কিনে দেননি। সে-কারণেই তিনি এক বান্ধবীর পরামর্শে ফোন কেনার তাগিদেই শুক্রবার রাতে এক ব্যাঙ্ক ম্যানেজারের সঙ্গে হোটেলে রাত কাটানোর সিদ্ধান্ত নেন।

তবে হোটেল থেকে বেরোনোর পরই তার মনে হয়, তিনি ভুল করেছেন। সেই দুঃখেই তিনি অতিরিক্ত নেশা করেন বলে পুলিশকে জানিয়েছেন। তার মুখে পুরো ঘটনার কথা শুনে তার কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

ব্যারাকপুর কমিশনারেটের ডেপুটি কমিশনার (জোন -২) ধ্রুবজ্যোতি দে বলেন, ‘এই ধরনের কোনো কেস পেলেই আমরা ওই তাদের কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থা করে পরিবারের হাতে তুলে দিই। কোনো কোনো ক্ষেত্রে হোমের সঙ্গে যোগাযোগ করেও পদক্ষেপ করা হয়।’

শহরে পা রেখে জেলা শহরের তরুণীরা যে শখপূরণের তাগিদে পার্ট টাইম দেহব্যবসায় যুক্ত হয় তা স্বীকার করে নিয়েছেন দমদমের একটি মেসের মালিকও। তার আক্ষেপ, ‘অভিভাবকরা আমাদের তাদের সন্তানদের খেয়াল রাখার কথা বলেন ঠিকই। তবে সকলকে তো চোখে-চোখে রাখা সম্ভব নয়।’

লেকটাউন থানায় দীর্ঘদিন ধরে বড়বাবুর দায়িত্ব সামলে এসেছেন ত্রিগুণা রায়। বর্তমানে ঝালদা থানার বড়বাবুর দায়িত্বে থাকা ওই অফিসার জানায়, ‘জেলা শহর থেকে কলকাতায় এসে এখানকার লাইফ স্টাইলের সঙ্গে পাল্লা দিতে গিয়েই তরুণীরা এমনটা করে থাকেন। আমি লেকটাউনে থাকার সময় এ রকম বেশ কিছু কেস পেয়েছি।’