শিল্প ও সাহিত্য

দাদা-দাদীদের আমলের যে ১০টি অভ্যাস আমরা এখন ক্ষতি বলে জানি

22সারা বিশ্বে বিগত ৫০ বছরে আমরা নিজেদের জন্য ক্ষতিকর এমন অনেক কিছুই আবিষ্কার করেছি। আমাদের দাদা-দাদীরা যখন বেড়ে উঠছিল তখন বিশ্ব ছিল অস্বাস্থ্যকর সব বদ অভ্যাসের এক বণ্য পশ্চিম। যুক্তরাষ্ট্রে তখন ধুমপান, মদপান এবং বেপরোয়া পানাহার করা যেত। কিন্তু আজকাল আমেরিকানদেরকে তাদের জীবন আরো স্বাস্থকর উপায়ে যাপনে বাধ্য করতে অসংখ্য আইন-কানুন প্রণয়ন করা হয়েছে।

সে সময়ের এমন ১০টি অভ্যাস এখন বৈজ্ঞানিকভাবেই ক্ষতিকর বলে প্রমাণিত:

১. ধুমপান

১৯৫০ এর দশকে অর্ধেক আমেরিকানই ধুমপান করত। সিগারেট কোম্পানিগুলো বিজ্ঞাপনে বলতো ডাক্তাররা ধুমপান করেন। আসলেও তাই; ডাক্তারদের বেশিরভাগই ধুমপান করতেন। এখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি পাঁচজনের একজন ধুমপান করেন। তবে এর ফলে ক্যান্সার, হৃদরোগ ও প্রজনন প্রক্রিয়ার ক্ষতিসহ সব ধরনের ক্ষতির ব্যাপারেই তারা ওয়াকিবহাল।

২. প্রক্রিয়াজাতকৃত মাংস খেত

আগে প্রক্রিয়াজাত মাংস খাওয়া নিয়ে প্রতিযোগিতা হত। কিন্তু বিজ্ঞানীরা দেখতে পেয়েছেন প্রক্রিয়াজাতকৃত লাল মাংস আমাদের স্বাস্থের জন্য ক্ষতিকর। হট ডগ, হ্যাম, সালামি, ব্যাকন ও সসেজ নিঃসন্দেহে সুস্বাদু্। কিন্তু এসব খাবার হৃদরোগ ও ক্যান্সারের মতো রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ায়। ১৯৫০ এর দশকে আমেরিকানরা বছরে গড়ে ১৩৮ পাউন্ড লাল মাংস খেত। বর্তমানে এর পরিমাণ মাত্র ১৯৫ পাউন্ড।

৩. মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালাতো

১৯৩০ এর দশক থেকেই যুক্তরাষ্ট্রে গড়পড়তা মদপানের হার বাড়তে থাকে। এর ফলে সড়ক দুর্ঘাটনাও বাড়তে শুরু করে। ১৯১০ সাল থেকেই মাতাল হয়ে গাড়ি চালানোর বিরুদ্ধে আইন আছে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে। এরপর একে একে অন্য রাজ্যগুলোও আইন করে। কিন্তু ১৯৭০ এর দশকের আগে ওই আইন কঠোরভাবে কার্যকর করা হয়নি। আর ১৯৮০ ও ৯০-র দশকে এসে মদপানের বয়স ২১ করা হয়। ১৯৮২ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রে মাতাল হয়ে গাড়ি চালানোর ফলে দুর্ঘটনার সংখ্যা কমে আসে ৫৩%। তবে এখনো প্রতিবছর ১০ হাজার মানুষ এ ধরনের দুর্ঘটনায় মারা যায়।

৪. প্রচুর পরিমাণ চিনি খেত

এখন আমরা জানি বেশি চিনি খেলে স্থুলতা, ডায়াবেটিস, হৃদরোগ ও ক্যান্সারের মতো অসংখ্য রোগ হয়। আমেরিকানরা বর্তমানে প্রতিদিন ২২ চা-চামচেরও বেশি চিনি খায়। যা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্ধারণ করে দেওয়া পরিমাণের চেয়েও চারগুন বেশি। গত শতকজুড়েই চিনি খাওয়ার পরিমাণ বেড়ে চলছিল।

৫. প্রক্রিয়াজাত খাদ্য উদযাপন

২০ শতকের মাঝামাঝি সময়ে স্বাচ্ছন্দ্যই ছিল কোনো বিষয়ে মূল ইস্যু। বিজ্ঞানের মাধ্যমে কীকরে আমারা আমাদের নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসগুলোকে আরো সস্তা এবং সহজ করতে পারি সেটাই ছিল মূল কথা। বিশেষ করে খাদ্যের ব্যাপারে এটাই ছিল মূল প্রবণতা। কম্পানিগুলো কীকরে খাদ্যকে শেলফে তোলা এবং বরফজাত করে রাখা যায়; যাতে ভোক্তারা যে কোনো সময় খাবার খেতে পারেন সে চেষ্টা করত। প্রক্রিয়াজাতকৃত খাবার- ব্রেড, মিষ্টান্ন এবং সোডা এখন আমেরিকানদের ক্যালরি চাহিদার অর্ধেকের যোগান দেয়। উচ্চ প্রক্রিয়াজাত খাবারের ওপর এই নির্ভরশীলতার কারণে “বেশি খাবার গ্রহণ করেও পুষ্টির ঘাটতিতে” আক্রান্ত হওয়ার হার বেড়ে যাচ্ছে। পুষ্টি উপাদান কম থাকায় এসব খাবারকে “শুন্য ক্যালরি” বলে ডাকা হয়। উচ্চপ্রক্রিয়াজাত খাবারই মার্কিনিদের খাদ্য তালিকায় অতিরিক্ত ৯০% শতাংশ চিনির উপস্থিতির জন্য দায়ী।

৬. সোডা পান

বর্তমানে মার্কিনিরা বছরে ১৫২ পাউন্ড মিষ্টান্ন খায়। ১৯৫০ এর দশকের চেয়ে ৪৩ পাউন্ড বেশি। এর জন্য সোডা পানই প্রধানত দায়ী। সোডা যত কম খাওয়া হবে ততই খাদ্যতালিকায় সুগারের পরিমাণ কমে আসবে এবং এর নেতিবাচক স্বাস্থ্যগত প্রভাব এড়ানো সম্ভব হবে।

৭. চর্বি

১৯১১ সালে আলাদা খাদ্য উপাদান হিসেবে কৃত্রিমভাবে চর্বির উদ্ভাবন ছিল এক অবিশ্বাস্য ঘটনা। খাদ্যের সঙ্গে চর্বি যোগ করলে তা আরো সুস্বাদু হয়। কিন্তু এতে দেহে কোলোস্টেরলের পরিমাণ বেড়ে হৃদরোগের ঝুঁকিও বেড়ে যায়। এ কারণেই ২০১৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফডিএ) খাদ্যের সঙ্গে অতিরিক্ত চর্বি যোগ নিষিদ্ধ করার উদ্যোগ নেয়। এমনকি খাবারের প্যাকেটের গায়ে পুষ্টি উপাদানের লিখিত লেবেল লাগানোর নিয়ম করে।

৮. সিট বেল্ট বাঁধতনা

২০১৪ সালে ৮৭% মানুষ সিট বেল্ট বেঁধেছে। সে বছর গাড়ি দুর্ঘটনায় নিহতদের অর্ধেকই সিটবেল্ট ব্যবহার করেন নি। সিট বেল্ট ব্যবহারের ফলে প্রতিবছর ১৩ হাজার মানুষের প্রাণ রক্ষা পায়। ১৯৬০-র দশকের আগে সব গাড়িতে সিট বেল্ট ছিল না। আর ৮০-র দশকের আগে সিট বেল্ট ব্যবহার বাধ্যতামূলক করে আইন করা হয়নি। আর ১৯৯৮ সালে সিটবেল্ট না বাধলে গাড়িতে এলার্ম বাজানোর ব্যবস্থা করা হয়।

৯. হেলেমেট ছাড়াই বাইক চালাত

বাইক দুর্ঘটনায় নিহতের বেশিরভাগই মাথা ও মুখমণ্ডলের আঘাত সংশ্লিষ্ট। গবেষণায় দেখা গেছে, হেলমেট পরলে বাইক দুর্ঘটনায় মাথায় আঘাত পাওয়ার হার ৬৫% কমে আসে। কিন্তু এখনো মার্কিন শিশুদের অর্ধেকেরও কম শিশু হেলমেট পরে।

১০. সানস্ক্রিন ছাড়াই রোদ পোহাতো

আগের দিনে সানস্ক্রিন ছাড়াই লোকে রোদে বেরোতো। এতে চামড়ার ক্যান্সারসহ মরণঘাতি মেলানোমার মতো রোগ হত। গত কয়েকদশক ধরে এই রোগের প্রকোপ দেখা যায়। ১৯৪০ এর দশকে সানস্ক্রিন আবিষ্কার হয়। আর ১৯৭০ এর দশকে এফডিএ এর কার্যকারিতা নিয়ন্ত্রণ শুরু করে। আর ১৯৭৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম স্কিন ট্যানিং সেলুন বা রোদ পোহানোর সেলুন চালু করা হয়। ১৯৭০ এর দশকে চামড়ার ক্যান্সারের জন্য সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি দায়ী বলে প্রমাণিত হয়। অথচ এখনও মাত্র ১৪% পুরুষ ও ৩০% মার্কিন নারী সানস্ক্রিন ব্যবহার করেন; যখন তারা ১ ঘন্টার বেশি ঘরের বাইরে থাকেন।

Add Comment

Click here to post a comment