আন্তর্জাতিক ধর্ম

তুরস্কের যে মসজিদটি পর্যটকদের মূল আকর্ষণ

রেহেনা আক্তার রেখা: নীল রঙের টাইলস দিয়ে সুসজ্জিত। মার্বেল পাথরে রয়েছে নিখুঁত কারুকাজ। প্রতিটি দেয়াল, ছাদ, দরজা সব কিছুই নানা রঙে রঞ্জিত। এমনি সুসজ্জিতভাবে নির্মিত হয়েছে তুরস্কের ইস্তানবুলের ঐতিহাসিক সুলতান আহমেদ মসজিদ। রাতের বেলা নীল আলো যখন ব্লু মস্কের পাঁচটি মূল গম্বুজ, ৬টি মিনার ও আটটি ছোট গম্বুজের উপর গিয়ে পড়ে তখন এক অভূতপূর্ব দৃশ্যের অবতারণা হয়। মসজিদের অভ্যন্তরের দেওয়াল নীল রঙের টাইলস দিয়ে সুসজ্জিত বলে এই মসজিদটি ব্লু মস্ক বা নীল মসজিদ নামেও অধিক পরিচিত।

প্রায় ১০ হাজার মানুষ একসঙ্গে  নামাজ কায়েম করতে পারে এই মসজিদে। তবে একটা ব্যাপার মনে রাখবেন- এই মসজিদে প্রবেশের সময় পোশাকের ব্যাপারে কিছু বিধিনিষেধ আছে।  সম্পূর্ন ইসলামি পোশাক ছাড়া মসজিদের ভেতর প্রবেশ নিষেধ ।
যদিও বর্তমানে এটি মসজিদ হিসেবেই ব্যবহৃত হয়। কিন্তু এটি ইস্তানবুলের অন্যতম একটি জনপ্রিয় পর্যটন আকর্ষণ। দেশ-বিদেশ থেকে বহু পর্যটক আসেন ঐতিহাসিক এই মসজিদটি দেখতে। প্রতি বছর ৩০ থেকে ৪০ লাখ পর্যটক এটি পরিদর্শন করেন।

এই মসজিদে রয়েছে বিশাল ঝাড়বাতি। সুসজ্জিত ও আলোকিত এ মসজিদটির সবচেয়ে আকর্ষণীয় স্থান হলো মিহরাব। মার্বেল পাথর দ্বারা নির্মিত এই মিহরাব। এর পাথরে রয়েছে নিখুঁত কারুকাজ। মিহরাবের পাশেই রয়েছে সুসজ্জিত মিম্বার। যেখানে ইমাম সাহেব দাঁড়িয়ে খুতবা পাঠ করেন।

মসজিদটি ১৬০৯ থেকে ১৬১৬ সালের মধ্যে উসমানীয় সম্রাজ্যের সুলতান আহমেদ বখতি নির্মাণ করেন।  ১৬০৩ সালে থেকে ১৬১৮ সালের মধ্যে পার্সিয়ার যুদ্ধে মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়া সুলতান আহমেদ (১) অটোমান সাম্রাজ্যের নিদর্শন হিসাবে ইস্তাম্বুলে বিরাট একটি মসজিদ নির্মাণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।

এমন একটি মসজিদ নির্মাণের সিদ্ধান্ত হয় যা পরবর্তী অন্তত: ৪০ বছর পর্যন্ত রাজকীয় মসজিদ হিসেবে নিজের জৌলুস ধরে রাখবে। শুধু ৪০ বছর নয়, সেই ১৬১৬ সাল থেকে এখন পর্যন্ত জৌলুস ধরে রেখে সারা পৃথিবীর পর্যটকদের ইস্তাম্বুলের দিকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে এই নীল মসজিদ। এই মসজিদ এলাকায় সুলতান আহমেদের কবর, একটি মাদ্রাসা এবং একটি হাসপাতাল আছে। মানুষের হাতে চিত্রিত জৌলুসপূর্ণ নীল রং এর টাইলস দিয়ে গড়ে উঠেছে এই মসজিদের ভেতরের দেয়াল।