বিনোদন

‘তিশাকে আমি ওর সঙ্গে যেভাবে দেখি সেটি বলতে এখন আমার লজ্জা হচ্ছে’

২০১১ সালের ১২ অক্টোবর চট্টগ্রামের মেয়ে রেহান চৌধুরীর সঙ্গে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয় হাবিব ওয়াহিদের। এরপর পাঁচ বছরের দাম্পত্য জীবনে ২০১২ সালে ২৪ ডিসেম্বর তাদের ঘর আলোকিত করে আসে একমাত্র সন্তান আলিম। কিন্তু এ বছরের ১৯ জানুয়ারি তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে বিবাহবিচ্ছেদ হয়ে যায়। তবে এরও আগে ২০০৩ সালে প্রথম লুবায়না নামের এক মেয়েকে বিয়ে করেছিলেন হাবিব। বিয়ের কয়েক বছরের মাথায় প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে বিচ্ছেদ ঘটে তার।

এদিকে গত বৃহস্পতিবার রাতে হাবিবের সাবেক স্ত্রী রেহান চৌধুরীর দেওয়া ফেসবুকে একটি স্ট্যটাসের কারণে তানজিন তিশার সঙ্গে হাবিবের প্রেমের সম্পর্কের বিষয়টি ফের আলোচনায় চলে আসে। গণমাধ্যমের সাথে এক সাক্ষাৎকারে রেহান বলেন-

আমি তখন সৌদি আরবে থাকতাম। আমার বড় বোনের বান্ধবী ছিল ‘আয়নাবাজি’ ছবির নায়িকা মাসুমা রহমান নাবিলা। সে সুবাদে আমরা একে অপরের বাসায় যাওয়া আসা করতাম। বেশ ভালো সম্পর্ক ছিল আমাদের মধ্যে। এরপর একদিন আমি নাবিলা আপুর সঙ্গে ফেসবুকে অ্যাড হই। আর নাবিলার সঙ্গে হাবিবের ফেসবুকে অ্যাড ছিল। তবে আমি হাবিবের গান পছন্দ করতাম। ঘটনাক্রমে একদিন আমি হাবিবকে ফেসবুকে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠাই। সে আমাকে অ্যাড করে নেয়।

এভাবেই বিভিন্ন ঘটনাক্রমে তাদের এই বিষয়টি প্রেম থেকে বিয়েতে গিয়ে গড়ায় এবং উভয়ের পারিবারিক সম্মতিতে বিয়ে সম্পন্ন হয়।

তিনি আরও বলেন- হাবিব যখন বাসার বাইরে থাকত তখন কখনও আমি ঘণ্টায় ঘণ্টায় ফোন দিয়ে ওর খবর নিতাম না। কারণ আমি জানি ও বাইরে ব্যস্ত থাকে। কিংবা ও বাইরে কি করে, সেজন্য যে চটুল কেনো বিষয়ের আশ্রয় নেবে, এ কথাও কখনও ভাবিনি। কারণ ওর লাইফস্টাইলটা ছিল- ও কাজ শেষে রাত তিনটা কিংবা চারটায় বাসায় ফিরবে। এরমধ্যে আমি আলিমকে নিয়ে ব্যস্ত হয়ে যাই। আমি হাবিবের উপর ভরসা রাখতাম সব সময়। কিন্তু একদিন ওর স্টুডিওতে গিয়ে তিশাকে আমি ওর সঙ্গে যেভাবে দেখি সেটি বলতে এখন আমার লজ্জা হচ্ছে। এছাড়াও আমাকে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্নভাবে নির্যাতন করত। এরপর আমরা গত জানুয়ারিতে আনুষ্ঠানিকভাবে আলাদা হওয়ার সিদ্বান্ত নেই।

আমরা যখন ডিভোর্স করার সিদ্ধান্ত নেই তখন সবকিছুই ঠিকই ছিল। আমরা কারও কোন ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে কথা বলব না। আর কোন ঝামেলাও হবে না। এমনটাই ছিল আমাদের একে অপরের প্রতি কমিটমেন্ট। আমিও ওর সম্মানের দিকে চেয়ে আর কথা বলিনি। হাবিব আমাকে বলল, আমরা যে যার মতো থাকব। তুমিও স্বাধীন হয়ে যাবে। আমিও স্বাধীনভাবে জীবনযাপন করব। বেশকিছুদিন ধরেই পরোক্ষভাবে হাবিব আমার উপর মানসিকভাবে নির্যাতন করছে তিশাকে দিয়ে। কারণ হাবিবের জেদ এখন ওর মাধ্যম দিয়ে আমার উপর প্রকাশ করছে। বিষয়টা হলো-আমি হাবিবের কাছে নিজেকে কেন ছোট করলাম না। হাবিব ৩২টা প্রেম করতে পারে কিন্তু বিয়ে করে সংসার করা ওর জন্য টাফ। এটা ওর পরিবারও জানে। হাবিব বিয়ে করলে সংসার টিকবে কিনা সেটাই হচ্ছে কথা। আমার মনে হচ্ছে এখন হাবিব চায়, একটা সময় ওর নির্যাতনে পাগল হয়ে আলিমকে ওর কাছে দিয়ে আমি কোথাও চলে যাই।

সূত্রঃ প্রিয় ডটকম