Advertisements
খেলা-ধুলা

তামিম ইকবালের সততায় ‘বিস্মিত’ এসেক্স

ব্যাট হাতে বাংলাদেশের ধারাবাহিক ব্যাটসম্যানদের একজন ড্যাশিং তামিম ইকবাল। কথিত আছে, ‘তামিম হাসলে, হাসে বাংলাদেশ।’ অর্থাৎ তামিমের ব্যাটে রানে এলে জিতে যায় লাল সবুজের বাংলাদেশ।

গেল চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে তামিমের হাত ধরে প্রথমবারের মতো বড় কোন আসরের সেমিতে খেলার গৌরব অর্জন করে বাংলাদেশ। যদিও ম্যাচটিতে শক্তিশালী ভারতের বিপক্ষে পরাজিত হয়ে ফাইনাল খেলার স্বপ্ন ভেঙে যায় তামিমদের। তারপরও বিশ্ব ক্রিকেটে বেশ সুনাম কুড়িয়েছে তারা। আর পুরো টুর্নামেন্টে তামিম ব্যাট হাতে ছন্দে থাকায় ফলও পেয়েছিলেন তাড়াতাড়ি। টুর্নামেন্ট চলাকালীন সময়েই প্রস্তাব পেলেন ইংলিশ কাউন্টিতে এসেক্সের হয়ে খেলার।

যদিও কাউন্টিতে খেলার অভিজ্ঞতা তামিমের নতুন নয়। এর আগেও ২০১১ সালে ইংল্যান্ডের জনপ্রিয় ন্যাটওয়েস্ট টি-টোয়েন্টি ব্লাস্টে খেলেছেন তিনি। তবে এবার আমন্ত্রণ পান এসেক্সের পক্ষ থেকে। এসেক্সের সঙ্গে তামিম ইকবালের চুক্তি খারাপ ছিল না। ম্যাচপ্রতি পাওয়ার কথা ছিল প্রায় তিন হাজার পাউন্ড করে। অথচ এক ম্যাচ খেলেই দেশে ফেরেন তিনি। আর তাও কোনো টাকা না নিয়েই!

মাথায় হিজাব থাকায় গত সোমবার ইস্ট লন্ডনের স্ট্রাটফোর্ডে কিছু শ্বেতাঙ্গ তরুণের বর্ণবাদী আচরণের শিকার হন তামিমের স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা। সে কারণে ব্যাপারটি এসেক্সকে জানিয়ে পরদিনই সপরিবারে দেশের উদ্দেশ্যে লন্ডন ছাড়েন তামিম। এর পরই এসেক্স এক বিবৃতিতে জানায়, তামিম ‘ব্যক্তিগত কারণে’ দেশে ফিরে যাচ্ছেন। বাংলাদেশ দলের বাঁহাতি ওপেনারও দেশে ফেরার কারণ হিসেবে ফেসবুক ও টুইটারে ‘ব্যক্তিগত কারণে’র কথাই বলেছেন।

তামিমের দেশে ফেরার প্রস্তাবে এসেক্স রাজি হলেও ঘটনাটি প্রকাশ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল দুই পক্ষ মিলেই। সে কারণেই এ নিয়ে যতটা সম্ভব চুপ থাকছেন তামিম। কিন্তু তাঁর এই মৌনতার ভিন্ন অর্থ করছেন অনেকেই। অনেকের ধারণা, তবে কি টাকার কাছেই হেরে গেলেন তামিম!

অথচ বিষয়টা পুরোই উল্টো বলে জানিয়েছে তামিমের ঘনিষ্ঠ সূত্র। ম্যাচপ্রতি তিন হাজার পাউন্ড পাওয়ার কথা ছিল বলে খেলা শুরুর আগে কিছু টাকা অগ্রিম পান তামিম। কিন্তু কাউন্টি ছেড়ে দেশে ফেরার আগে সব পরিশোধ করেন তিনি। এমনকি ক্লাব কর্তাদের তামিম এও বলেছেন, ‌‌‘আমি তো দলের জন্য কিছুই করতে পারিনি, কাজেই টাকাটা ফেরত নিন। হুট করে চলে যাওয়ায় আপনাদের সমস্যায় পড়তে হবে, আমার জায়গায় নতুন একজন খেলোয়াড় নিতে হবে। কাজেই এই টাকা আমি নেব না। চলে যেতে হচ্ছে বলে আমি দুঃখিত।’

তামিমের এমন সততা ও বিনয়ী আচরণে বিস্মিত এসেক্স কতৃপক্ষ। তারা তামিমকে বলেছিলেন, ‌‌‘দলের হয়ে একটি ম্যাচ খেলায় কিছু টাকা পাওয়াটা আপনার অধিকার। দয়া করে টাকাটা নিন।’ তামিম তবু এসেক্সের অর্থ ফিরিয়ে দিয়ে এসেছেন। কেন্টের বিপক্ষে এক ম্যাচ খেললেও সেটি আসলে তিনি খেলেছেন বিনে পয়সায়।

তবে চুক্তি অনুযায়ী ইংল্যান্ডে অবস্থানের সময় পরিবার নিয়ে থাকার জন্য তামিমকে স্ট্রাটফোর্ডে একটি ফ্ল্যাট ভাড়া করে দিয়েছিল এসেক্স। ব্যবহারের জন্য দিয়েছিল একটি গাড়ি। এ ছাড়া যাওয়া-আসার বিমানভাড়াও ক্লাবই দিয়েছে, তবে শুধু তামিমেরটা। স্ত্রী আয়েশা ও ছেলে আরহামের বিমানভাড়া বহন করেছেন তামিম নিজেই।

Advertisements





সর্বশেষ খবর