ইসলাম ধর্ম

তওবা কবুলের দুটি কাহিনী

11ইসলাম: তওবা মানবজীবনের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। তওবা মানুষের বিকশিত হওয়ার হাতিয়ার। দোষগুণ এ দুইয়ের সমন্বয়ে মানুষের জীবন পরিচালিত হয়। মানুষ দোষ করবে এটাই স্বাভাবিক প্রকৃতি। কিন্তু দোষ বা অন্যায় বা পাপ যেন অভ্যাসে পরিণত না হয়, সেটাই লক্ষণীয়। তওবা শব্দের শাব্দিক অর্থ হলো, ফিরে আসা, ক্ষমা প্রার্থনা করা, অনুতপ্ত হওয়া, বিশুদ্ধ হওয়া ইত্যাদি। ইসলামী পরিভাষায় কোনো অন্যায় বা অপরাধমূলক কাজ হয়ে যাওয়ার পর অনুতপ্ত হয়ে সেই কাজের জন্য মহান প্রভুর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা এবং সেই অন্যায় কাজ ছেড়ে ভালো পথে ফিরে আসাকে তওবা বলে। ইসলামের নির্দেশ অনুযায়ী প্রত্যেক গুনাহ তথা অন্যায় থেকে তওবা করা ওয়াজিব। তওবার ব্যাপারে কোরআনের বহু আয়াতে উল্লেখ করা হয়েছে। এমনকি সম্পূর্ণ একটি সূরার নামকরণ করা হয়েছে। কেননা ওই সূরায় মুসলমানদের তওবার বর্ণনা রয়েছে। তাই তার নাম তওবা রাখা হয়েছে। (মাজহারি)।

তওবা সম্পর্কিত কুরআনের দুটি ঘটনা উল্লেখযোগ্য। প্রথম ঘটনা হলো, তাবুক যুদ্ধের সময় দশজন সাহাবি বিনা কারণে সে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেননি। তাদের মধ্যে সাতজন সাহাবি কৃত অপরাধের জন্য অনুতপ্ত হয়ে নিজেদের মসজিদের খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রেখে অনুশোচনা প্রকাশ করেছিলেন। (সূরা তওবা : ১০২)। বাকি তিনজন যথাক্রমে কাব ইবনে মালিক, মারার ইবনে রাবিয়া ও হিলাল ইবনে উমাইয়া (রা.)। যারা প্রকাশ্যে এভাবে নিজেদের অপরাধ স্বীকার করেননি। রাসূল (সা.) তাদের সঙ্গে সালাম, দোয়া আদান-প্রদান বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন। তাদের সমাজচ্যুত করে রাখেন ৫০ দিন। এভাবে একঘরে করে রাখেন। কিন্তু রাসূল (সা.) সিদ্ধান্ত স্থগিত করে রাখলেন, ক্ষমা করবেন কী করবেন না। তখন আল্লাহতায়ালা তাদের ব্যাপারে সূরা তওবার ১০৬নং আয়াত নাজিল করেন। (বোখারি ও মুসলিম)।

অন্য ঘটনাটি হলো, হযরত মুসা (আ.) যখন আল্লাহর সঙ্গে তুর পাহাড়ে দেখা করতে গেলেন, তখন ইসরাইলি সম্প্রদায়ের নেতা সামেরি যিনি আগে থেকেই অনেক পরিচিত ছিলেন, তিনি মুসা (আ.) এর অনুপস্থিতিতে তাদের লোকদের স্বর্ণ-গয়না জমা রাখলেন। আর আগে থেকে তার কাছে জিবরাইল (আ.) বাহনের ক্ষুরার নিচের মাটি ছিল। স্বর্ণ-গয়না ও মাটি মিলিয়ে জাদুর মাধ্যমে একটি বাছুরের মূর্তি বানালেন এবং তাকে খোদা বলে সাব্যস্ত করলেন। আর বললেন, মুসা তোমাদের ধোঁকা দিয়েছেন, খোদা এখানে চলে এসেছেন। তখন মহান আল্লাহ তায়ালা হযরত মুসা (আ.) এর মাধ্যমে সতর্ক করলেন আর তওবা করতে বললেন। কিন্তু তওবার জন্য কঠোর শর্ত দিলেন যে, তাদের একজন অন্যজনকে হত্যা করতে থাকলেই তাদের তওবা কবুল হবে। আল্লাহর শর্তানুযায়ী তারা তা পালন করলেন। অতঃপর মুসা (আ.) আল্লাহর নির্দেশে তাদের ডেকে বললেন, প্রভু তোমাদের সবার তওবাই কবুল করেছেন। এ হত্যাযজ্ঞে যারা মৃত্যুবরণ করেছেন তারা শহীদ হয়েছেন। আর যারা বেঁচে রয়েছেন তারা ক্ষমাপ্রাপ্ত। এখানে প্রতীয়মান হয়, যেসব লোক মন্দ কাজে লিপ্ত হয়ে পড়ে, তা সে কাজ যত বড়ই পাপ হোক, কুফরিও যদি হয়, তবুও পরবর্তী সময়ে তওবা করে নিলে এবং ঈমান ঠিক করে ঈমানের দাবি অনুযায়ী নিজের আমল বা কর্ম সংশোধন করে নিলে আল্লাহ তাকে নিজ রহমতে ক্ষমা করে দেবেন। কাজেই কোনো পাপ হয়ে গেলে সঙ্গে সঙ্গে তা থেকে তওবা করে নেয়া একান্ত কর্তব্য। (তাফসিরে মারেফুল কোরআন)।

ভিডিওঃ ধানক্ষেতে একসঙ্গে চার যুবকের মৃতদেহ ঘিরে চাঞ্চল্য (ভিডিওসহ)

Add Comment

Click here to post a comment