বিনোদন

ঢাকা না রাজশাহী?

1বিপিএলের প্রথম দুই আসরে যে দলটি ফাইনাল ম্যাচ জিতে শিরোপা হাতে বাধভাঙা উল্লাসে মেতেছিল সে দলটির বর্তনাম নাম ঢাকা ডায়নামাইটস। এই ঢাকা ২০১২ ও ২০১৩ সালের বিপিএলে খেলেছিল ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটর্স নামে। সময়ের পরিক্রমায় ‘গ্ল্যাডিয়েটর্স’ বদলে ‘ডায়নামাইটস’ হলেও ঢাকা কিন্তু অপরিবর্তীতই আছে।

সেই ঢাকার সামনেই বিপিএলের চতুর্থ আসরের ফাইনালে শুক্রবার (৯ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা পৌনে ছয়টায় মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হচ্ছে রাজশাহী কিংস। যদিও বিপিএলের প্রথম দুই আসরে এবারের রাজশাহী কিংস খেলছে দুরন্ত রাজশাহী নামে।

বিপিএলের এবারের আসরের শুরু থেকেই কাগজে-কলমে এগিয়ে ছিল ঢাকা। সাকিব আল হাসান, নাসির হোসেন, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, কুমার সাঙ্গাকারা, এভিন লু্ইস, আন্দ্রে রাসেল ও ডুয়াইন ব্রাভোর মতো ডাকসাইটে সব অলরাউন্ডাররা টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই ঢাকার সমর্থকদের বাড়তি প্রেরণার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। সেই প্রতিদান অবশ্য মাঠের পারফরমেন্স দিয়ে ইতোমধ্যেই দিয়েছে বিপিএলে দুইবারের শিরোপা জয়ী এই দলটি।

গ্রুপ পর্বের কথাই যদি ধরি। ১২ ম্যাচের মধ্যে সাকিবদের জয় ছিল ৮টিতেই। এই জয়ে ১৬ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে উঠে যায় ফাইনালে। টুর্নামেন্টে অংশ নেয়া বাকি ছয় দলের মধ্যে ঢাকার দুটো করে হার ছিল রাজশাহী কিংস ও খুলনা টাইটানসের বিপক্ষে। এছাড়া বাকি চারটি দলের বিপক্ষেই ঢাকা ছিল অপরাজিত। এরপর প্লে-অফেও যথারীতি সেই ধার অক্ষুণ্ণ রেখে উঠে যায় টুর্নামেন্টের ফাইনালে।

আর ফাইনালে ঢাকার প্রতিপক্ষ এমন এক দল যাদের সাথে গ্রুপ পর্বে দুইবারের মোকাবেলায় দুইবারই হেরেছে। হ্যাঁ, বলছিলাম রাজশাহী কিংসের কথা। বিপিএলের এবারের আসরে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচেই ড্যারেন স্যামিদের কাছে ৬ উইকেটে হেরে প্রথম হারের স্বাদ পায় সাকিবরা। রাজশাহীর বিপক্ষে নিজেদের পঞ্চম ম্যাচেও তাই। এবার অবশ্য হারের ব্যবধানটা কম, ৩ উইকেটে।

তাই ফাইনালের মহারণে এই দলের সামনে ঢাকা কিছুটা চাপে থাকবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু ঢাকার অলরাউন্ডার নাসির হোসেন তেমটি ভাবছেন না। তার মতে ফাইনালের মতো এমন বড় ম্যাচে চাপে থাকবে দু’দলই। আর গত দুই ম্যাচে দলটির বিপক্ষে হারের জবাবটি দিতে চাইছেন মাঠের পারফরমেন্স দিয়েই, ‘চাপ আমাদের যেমন থাকবে, তেমনটা ওদেরও থাকবে। দুই ম্যাচে হেরেছি বলে ওদের বিপক্ষে আমরা চাপে আছি এমনটা না। আমাদের এখন প্রধান কাজ মাঠে ঠিক মতো ব্যাটে-বলে পারফর্ম করা।’

নাসির জিততে চাইছেন ঠিক আছে, কিন্তু ড্যারেন স্যামি কি হারতে চাইবেন? নিশ্চয়ই না। ওয়েস্ট ইন্ডিজকে দু্ই দু’টি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শিরোপার স্বাদ পাইয়ে দেয়া এই রাজশাহী কিংস অধিনায়ক ইতোমধ্যেই দেখিয়েছেন হারতে হারতেও কী করে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেয়া যায়।

গেল ৬ ডিসেম্বর এলিমিনেটর রাউন্ডের ম্যাচটির কথাই ধরা যাক। জয়ের জন্য চিটাগং ভাইকিংসদের দেয়া ১৪৩ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে দলীয় ৫৭ রানে ৬ উইকেট হারানো রাজশাহীকে একাই টেনে তোলেন স্যামি। ২৭ বলে তার ৫৫ রানের ঝড়ো ইনিংসে দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে রাজশাহী।

কিংসদের কাণ্ডারি হিসেবে স্যামিতো আছেনই, কিংস দলে আরও আছেন বিপিএলের এবারের আসরে একমাত্র সেঞ্চুরি হাঁকানো সাব্বির রহমান। দলের প্রয়োজনে জ্বলে উঠতে পারেন জেমস ফ্রাঙ্কলিন, নুরুল হাসান সোহান, মুমিনুল হক, মেহেদি হাসান মিরাজ, ফরহাদ রেজা ও সামি প্যাটেলের মতো ম্যাচ উইনাররা। রাজশাহীর দলে আছে টি-টোয়েন্টির অভিষেকে ৫ উইকেট নিয়ে ক্রিকেট বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দেওয়া অলরাউন্ডার আফিফ হোসেন ধ্রুব। আর এদের সমন্বয়েই আরেকবার ঢাকার বিপক্ষে জ্বলে উঠতে পারলেই বিপিএলের প্রথম শিরোপা ঘরে তুলতে পারবে রাজশাহী।

আর রাজশাহী কিংস সেটা না পারলে তৃতীয়বারের মতো বিপিএল শিরোপা যাবে ঢাকার ঘরে।

ভিডিওঃ আমার একসঙ্গে চার-পাঁচ জন পুরুষ দরকার : শ্রীলেখা

Add Comment

Click here to post a comment