গাজীপুর ঢাকা বিভাগীয় সংবাদ

ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক: হেলেদুলে চলে যানবাহন

নিজস্ব প্রতিবেদক, গাজীপুর: ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক ও গাজীপুরের কালিয়াকৈরে গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক সড়কগুলো যানবাহন চলাচলের জন্য অনেকটা অযোগ্য হয়ে পড়েছে। পিচ-কাপেটিং উঠে খানাখন্দ ও ছোট-বড় গর্তের সৃষ্টি হওয়ায় এ অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। খানাখন্দ ও গর্তে ইট দিয়ে জোড়াতালির মাধ্যমে ওই সড়কগুলো সচল রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।
টানা বর্ষণে তা আবার উঠে সমস্যা আরও প্রকট আকার ধারণ করেছে। যানবাহন চলে অনেকটা হেলেদুলে। এতে দুর্ভোগ আর জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে মানুষকে। সড়ক-মহাসড়কগুলোতে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে। হচ্ছে যানজট। দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে বিভিন্ন গন্তব্যের পরিবহন যাত্রীদের। এলাকাবাসী, যাত্রী ও পরিবহন শ্রমিক সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার চন্দ্রা-ত্রিমোড় হয়ে প্রতিদিন উত্তরবঙ্গের ১১৭টি সড়কে হাজার হাজার যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু ওই মহাসড়কের গাজীপুরের কোনাবাড়ী ও কালিয়াকৈর উপজেলার মৌচাক, সফিপুর বাজার, চন্দ্রা পল্লীবিদ্যুত্, চন্দ্রা জোড়াপাম্প, চন্দ্রা-ত্রিমোড়, হরীতকীতলা, খাড়াজোড়া, গোয়ালবাথান, সাহেববাজার এলাকায় খানাখন্দ ও ছোট-বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে।
সম্প্রতি সড়ক ও জনপথ বিভাগের লোকজন পিচ ওঠা এসব গর্তে ইট দিয়ে জোড়াতালির মাধ্যমে মহাসড়কটি সচল রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে মহাসড়কে আবারও খানাখন্দ ও ছোট-বড় গর্তের সৃষ্টি হচ্ছে। এতে যান চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে সড়কগুলো। কখনও ব্যক্তিগত উদ্যোগে, কখনও পরিবহন অফিসের উদ্যোগে, কখনও সড়ক ও জনপথ বিভাগ এবং উপজেলা প্রকৌশলী কার্যালয় ওই খানাখন্দ ও গর্তে ইট দিয়ে মেরামতের মাধ্যমে সড়কগুলো সচল রাখার চেষ্টা চলছে।
কালিয়াকৈর পরিবহনের চালক মিনহাজ হোসেন, যাত্রী আবদুল সামাদ ও স্বপ্না আক্তার জানান, মহাসড়কে খানাখন্দ ও গর্তে ভরপুর। গাড়ি চলে হেলেদুলে। এতে অনেক যাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়ছে। এছাড়া যাতায়াতের সময় বেশি লাগছে। অসহনীয় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। সড়ক ও জনপথ বিভাগের গাজীপুরের সেকশন অফিসার বশির আহম্মেদ জানান, সড়ক-মহাসড়কের যেখানে খুব খারাপ অবস্থা সেখানে মেরামত করা হচ্ছে। তবে আবহাওয়ার কারণে অনেকটা বেগ পোহাতে হচ্ছে। এছাড়া সড়কগুলোর উন্নয়নের কাজের জন্য ডিপিপি প্রকল্পে দেওয়া আছে। তবে খুব শিগগিরই দুটি সড়কের পুরোটাই সংস্কার করা হবে।
এদিকে কালিয়াকৈর উপজেলার মৌচাক-ফুলবাড়িয়া, সফিপুর-বড়ইবাড়ী, কালিয়াকৈর-ফুলবাড়িয়া-মাওনা, কালিয়াকৈর-ধামরাই, চন্দ্রা-সিনাবহ, সফিপুর-মাঝুখান গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক সড়কসহ বিভিন্ন সড়কেও খানাখন্দ ও ছোট-বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এর মধ্যে গাজীপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগের অধীনে কালিয়াকৈর-ফুলবাড়িয়া-মাওনা ও কালিয়াকৈর-ধামরাই সড়ক। বাকি মৌচাক-ফুলবাড়িয়া, সফিপুর-বড়ইবাড়ী, চন্দ্রা-সিনাবহ, সফিপুর-মাঝুখানসহ আঞ্চলিক সড়ক কালিয়াকৈর উপজেলা এলজিইডির অধীনে রয়েছে। সড়কগুলোর দু’পাশের মাটি সরে গেছে এবং কার্পেটিং উঠে কাদামাটি, খানাখন্দ ও বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে-যে কারণে সড়কগুলো চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। কখনও ব্যক্তিগত উদ্যোগে, কখনও পরিবহন অফিসের উদ্যোগে, কখনও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এসব খানাখন্দ ও গর্তে ইট দিয়ে মেরামতের মাধ্যমে সড়কগুলো সচল রাখার চেষ্টা চালাচ্ছে। এসব খানাখন্দ ও গর্তে ইট দিয়ে জোড়াতালির মাধ্যমে ওই সড়কগুলো সচল রাখার চেষ্টা হলেও টানা বর্ষণে তা আবার একই অবস্থায় ফিরে যাচ্ছে।
এছাড়া কালিয়াকৈর-ফুলবাড়িয়া সড়কের চাপাইর এলাকায় তুরাগ নদের ওপর বেইলি ব্রিজ এবং কালিয়াকৈর-ধামরাই সড়কের বড়দল এলাকায় ঢালাই ব্রিজটি অতিঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। এতে যানবাহন চলাচলে যেমন বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে ও নষ্ট হচ্ছে যানবাহন। ঘটছে দুর্ঘটনা। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানালেও আশানুরূপ কোনো ফল পাওয়া যাচ্ছে না। বিগত সময়ে সংসদ, উপজেলা পরিষদ ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিভিন্ন প্রার্থী প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় এলেও যেমন সড়ক তেমনি রয়েছে। কালিয়াকৈর-ফুলবাড়িয়া-মাওনা সড়কের মেদিআশুলিয়া এলাকার তোফাজ্জল হোসেন, টেম্পোর যাত্রী অরাবেয়া আক্তারসহ বেশ কয়েকজন সিএনজিচালক জানান, রাস্তা খানাখন্দ ও গর্তের কারণে গাড়ি নষ্ট হয়ে পড়ছে। ১ ঘণ্টার রাস্তা পারি দিতে ৩-৪ ঘণ্টা সময় লাগছে। বাধ্য হয়েই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এসব সড়ক দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।
কালিয়াকৈর উপজেলা এলজিইডি কর্মকর্তা প্রকৌশলী মুহাম্মদ সালমান রহমান রাসেল আঞ্চলিক সড়কগুলোর বেহাল অবস্থা স্বীকার করে জানান, আঞ্চলিক সড়কগুলো মেন্টেনেইন্স স্কিন তৈরি করে বিভাগীয় পর্যায়ে পাঠানো হয়েছে। এটি হলেই আঞ্চলিক সড়কগুলোর সংস্কার কাজ করা হবে।