Advertisements
বিনোদন

ঢাকার মঞ্চে দাঁড়িয়ে ‘যৌথ প্রযোজনা’র পক্ষে বললেন কিংবদন্তি অভিনেত্রী শর্মিলা ঠাকুর

বলিউডের জীবন্ত কিংবদন্তি অভিনেত্রী শর্মিলা ঠাকুর তৃতীয়বারের মতো ঢাকা এসেছেন। এবারে তিনি ঢাকায় পা রেখেছেন বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল এটিএন বাংলার ২১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ‘শর্মিলা ঠাকুর-জিৎ গাঙ্গুলী লাইভ ইন ঢাকা’ কনসার্টে অংশ নিতে।

গতকাল শনিবার রাতে বসুন্ধরা কনভেনশন সিটির গুল নকশা হলে আয়োজিত জমকালো এই অনুষ্ঠানের মঞ্চে দাঁড়িয়ে শর্মিলা ঠাকুর বলেন, দু-দেশের সংস্কৃতির আদান-প্রদানের সবচেয়ে বড় মাধ্যম হচ্ছে সিনেমা। তাই একজন শিল্পী হিসেবে আমি চাইব আরও বেশি যৌথ প্রযোজনায় সিনেমা নির্মিত হোক। তুমুল করতালির মধ্য দিয়ে মঞ্চে ওঠেন শর্মিলা ঠাকুর। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বংশধর শর্মিলা। কবিগুরুর বড় ভাই দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুরের নাতনি ছিলেন লতিকা ঠাকুর। শর্মিলা ঠাকুর এই লতিকা ঠাকুরের নাতনি। সম্পর্ক কিছুটা দূরের হলেও তাঁরা একই বংশের। আর এটাই তাঁর গর্বের বিষয় বলে জানান শর্মিলা।

তিনি বলেন, আমার জন্মের বছর তিনেক আগেই রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর মারা যান। তাই তাঁর সঙ্গে আমার সরাসরি যোগাযোগ না হলেও মায়ের মুখে তাঁর অনেক গল্প শুনেছি।

যখন বাংলাদেশে যৌথ প্রযোজনার চলচ্চিত্র নিয়ে ইন্ডাস্ট্রি দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে দুই মেরুতে অবস্থান নিয়েছে তখনই বলিউডের একসময়ের পর্দা কাঁপানো অভিনেত্রী ও সাইফ আলি খান-সোহা আলি খানের মা শর্মিলা ঢাকার মঞ্চে এমন কথা বললেন। অবশ্য বাংলাদেশের অধিকাংশ চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টরাও যৌথ প্রযোজনার চলচ্চিত্র নির্মাণের পক্ষে তবে তা যথার্থ নিয়ম মেনে তারপর যেন নির্মাণ হয়।

শর্মিলা বলেন, এ দেশের শিল্পী আমাদের ওখানে (ভারত) যান। আমাদের ওখানকার শিল্পীরা এখানে আসুক। যৌথ উদ্যোগে ভালো ভালো সিনেমা নির্মিত হোক। ‘দু-দেশের সীমান্তের এই বেড়া আমাদের আদান-প্রদানে যেন বাঁধা হয়ে না দাঁড়ায় সে দিকে খেয়াল রাখা উচিত । আমাদের সম্পর্কটা দু-দেশের আরও গভীর হোক। বাংলাদেশের মানুষের জন্য আমার অনেক অনেক শুভকামনা।

শর্মিলা ঠাকুর একজন বাঙালি মেয়ে কিন্তু অভিনয়ে বিভোর করে দিয়েছিলেন পুরো ভারতবর্ষ। জুটি বেঁধেছেন উত্তম কুমার, রাজেশ খান্না, ধর্মেন্দ্রসহ ভারতের সব নামকরা নায়কের সঙ্গে। ভারতের সবচেয়ে কম বয়সী ক্রিকেট অধিনায়ক মনসুর আলী খান পতৌদিকে বিয়ে করে ঝড় তুলেছিলেন ভারতজুড়ে। তার ছেলে সাইফ আলী খান ও মেয়ে সোহা আলী খানও এসময়ের জনপ্রিয় অভিনেতা। তার পুত্রবধূ বিখ্যাত অভিনেত্রী কারিনা কাপুর ও জামাতা অভিনেতা কুনাল খেমু।

ঢাকার বসুন্ধরা কনভেনশন সিটির গুল নকশার মঞ্চে দাঁড়িয়ে শর্মিলা বলেন , এর আগেও বাংলাদেশে এসেছি। যতবার আসি খুব ভালো লাগে। বাংলাদেশে আসলে মনেই হয় না ভিনদেশে এসেছি, মনে হয় নিজের ঘরে আছি।

শর্মিলা ঠাকুর মঞ্চে ওঠার আগেই নৃত্য পরিবেশনা করেন অভিনেত্রী নাদিয়া, তারিন, ইভান সোহাগ, চাঁদনী প্রমুখ। এরপর গান পরিবেশনন করেন জি বাংলার সারেগামা তারকা দোয়েল গোস্বামী।

শর্মিলা ঠাকুর ২০১৩ সালে ভারতের রাষ্ট্রীয় সম্মাননা পদ্মভূষণ লাভ করেন। তিনি ভারতের চলচ্চিত্র সেন্সর বোর্ডের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি কান চলচ্চিত্র উৎসবে জুরি বোর্ডের সদস্যও ছিলেন। বর্তমানে ইউনিসেফের শুভেচ্ছা দূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। ২০১১ সালে স্বামী মনসুর আলি খান পতৌদির মৃত্যুর পর তাঁর স্মৃতি রক্ষার্থে সমাজসেবামূলক বিভিন্ন কাজ করছেন।

সবশেষে মঞ্চে ওঠেন জনপ্রিয় সংগীত তারকা জিৎ গাঙ্গুলি। তাকে প্রথমবার ঢাকায় আমন্ত্রণ জানানোর জন্য উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। একে একে তিনি পরিবেশন করেন কি করে তোকে বলবো, হান্ড্রেড পারসেন্ট লাভ, মুচকুরানে হে বাজা তুম হো, মনটা করে উড়ু উড়ু, খুঁজেছি তোকে রাত বেরাতে, চ্যাম্প, বস, উড়েছে মন ছাড়াও তার গাওয়া বাংলা-হিন্দি কিছু জনপ্রিয় গান। মন মাতানো অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনায় ছিলেন দেবাশীষ বিশ্বাস ও সিথী সাহা।

Advertisements





সর্বশেষ খবর