খেলা-ধুলা

ডর্টমুন্ডের গোল রেকর্ড

uবরুশিয়া ডর্টমুন্ড দারুণ এক রেকর্ডের সামনে দাঁড়িয়ে গত বুধবার রাতে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের গ্রুপ পর্বের খেলায় স্বাগতিক রিয়াল মাদ্রিদের মুখোমুখি হয়েছিল। খেলাটিতে একটি গোল পেলেই প্রতিযোগিতাটির গ্রুপ পর্বে সর্বোচ্চ ২০ গোলের রেকর্ড স্পর্শ করতো দলটি। কিন্তু সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে অনুষ্ঠিত খেলাটি ২-২ গোলে ড্র হওয়ায় চ্যাম্পিয়ন্স লিগের গ্রুপ পর্বে ২১ গোল নিয়ে নতুন রেকর্ড গড়ে বসেছে ডর্টমুন্ড। এর আগে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, রিয়াল মাদ্রিদ ও বার্সেলোনা এ কৃতিত্ব দেখিয়েছে। নজিরটি গড়ার মৌসুমে ম্যান ইউ ১৯৯৮-৯৯ এবং রিয়াল ২০১৩-১৪ সময়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ট্রফিও তুলে নিয়েছিল।

ডর্টমুন্ডের রেকর্ড গড়ার দিন, অপরাজিত থাকার রেকর্ড স্পর্শ করার কৃতিত্ব দেখিয়েছে রিয়াল। এই নিয়ে সব ধরনের প্রতিযোগিতায় ৩৪ ম্যাচ ধরে অপরাজিত রইলো স্প্যানিশ জায়ান্টরা। এর আগে ১৯৮৮-৮৯ সময়ে রেকর্ডটি গড়েছিল রিয়াল। পরের খেলাটিতে অপরাজিত থাকতে পারলে নতুন রেকর্ড জন্ম দেবে দলটি।

রিয়াল-ডর্টমুন্ডের শেষ ষোল আগেই নিশ্চিত হয়ে যাওয়ায় গ্রুপ পর্বে নিজেদের শেষ ম্যাচটি ছিল কেবল নিয়ম রক্ষার লড়াই। কোনো দলের ওপরই চাপ ছিল না। করিম বেনজেমার নৈপুণ্যে খেলার ৫৩ মিনিট সময়ের মধ্যে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় রিয়াল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ব্যবধান ধরে রাখতে পারেনি জিনেদিন জিদানের দল। ২৮ মিনিটের ব্যবধানে দু’গোল করে হার এড়িয়ে ড্র নিয়েই মাঠ ছাড়ে অতিথি দল ডর্টমুন্ড। এগিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত জয় বঞ্চিত হওয়ায় খেলা শেষে কিছুটা অসন্তুষ্টিই ব্যক্ত করেন রিয়াল কোচ জিদান।

তিনি বলেন, ‘দ্বিতীয়ার্ধের খেলাটা দেখলে আপনি রেগেই যেতে পারেন। খেলাটি আমাদের হাতেই ছিল। কিন্তু ফুটবল এমনই…। খেলাটির ফলের ব্যাপারে আমার অনুভূতিও মিশ্র।’ দ্বিতীয়ার্ধে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ানোয় ও গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে নক-আউট পর্ব নিশ্চিত করতে পারায় ডর্টমুন্ডকে ধন্যবাদও জানিয়েছেন জিদান। ছয় খেলা শেষে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন ডর্টমুন্ডের পয়েন্ট ১৪। দুই পয়েন্ট কম নিয়ে দ্বিতীয়স্থানে আছে রিয়াল।

তবে দু’দলেরই লক্ষ্য ছিল গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েই শেষ ষোলো নিশ্চিত করা। কারণ গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে শেষ ষোলোতে যেতে পারলে, অন্য গ্রুপের রানার্স-আপ দলকে পাওয়া যাবে। আর গ্রুপ রানার্স-আপ হয়ে উঠলে, অন্য গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন দলের মুখোমুখি হতে হবে।

গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার লক্ষ্যে বরুশিয়াকে চাপে ফেলতে খুব বেশি সময় নেয়নি রিয়াল। ২৮ মিনিটে স্পেনের ডিফেন্ডার ডানি কারবাজালের সহায়তা নিয়ে গোল করে রিয়ালকে এগিয়ে দেন দলে ফরাসি স্ট্রাইকার করিম বেনজামা। এই গোলের ব্যবধানটা ভালোভাবেই ধরে রেখে ম্যাচের বিরতিতে যায় রিয়াল। বিরতির পর আরও ভঙ্কর হয়ে উঠে রিয়াল। নিজেদের মাঠের সুবিধা নিয়ে দ্বিতীয় গোলের জন্য মরিয়া হয়ে উঠে তারা। রিয়ালের দ্বিতীয় গোলের স্বপ্ন সফল করেন প্রথম গোলের মালিক বেনজামা। ৫৩ মিনিটে কলাম্বিয়ার অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার হামেস রড্রিগেজের ক্রসে হেড দিয়ে বরুশিয়ার জালে বল পাঠান বেনজামা। সেই সাথে চ্যাম্পিয়ন্স লীগে নিজের ৮৮তম ম্যাচে ৫০ গোলের মাইলফলক স্পর্শ করেন তিনি।

দুই গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর কিছুটা রক্ষণাত্মক কৌশল অবলম্বন করে রিয়াল। আর এই সুযোগে দলটির রক্ষণদুর্গে ফাটল ধরায় ডর্টমুন্ড। অধিনায়ক মার্সেল শ্যামেলজারের যোগান দেওয়া বল গোলে পরিণত করে ব্যবধান কমান পিয়েরে-এমরিক উবামেইয়াং। এতে নড়ে চড়ে বসে রিয়াল। তাই আরও বেশি রক্ষণাত্মক হয়ে পড়ে তারা। ফলে সমতার জন্য দ্বিতীয় গোলটির দেখা পাচ্ছিলো না বরুশিয়া। অবশেষে ৮৮ মিনিটে স্বপ্ন পূরণ হয় বরুশিয়ার। প্রথম গোলের মালিক আউবামেইয়াং-এর কাছ থেকে বল পেলে রিয়ালের জালে জড়ান অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার মার্কো রিউস।

ভিডিও:বাঙ্গালী ছেলের সাথে সৌদি মেয়ের কান্ড দেখুন! ছোটরা দূরে থাক…!! (ভিডিও )

Add Comment

Click here to post a comment