খেলা-ধুলা

টেস্টের মুমিনুল নাকি টি-টোয়েন্টি খেলতে পারে না!অত:পর

1478758868ফেসবুকে রসিকতা প্রচলিত আছে-তামিম কালা পারে না। তামিম ইকবাল দেশের শ্রেষ্ঠতম ব্যাটসম্যান হয়েও ফেসবুকের বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে অনেক আগে রায় পেয়েছিলো তিনি খেলতে পারেন না। ফলে তৈরী হয়েছে সমালোচকদের ব্যাঙ্গ করা এই বাক্য।

মুমিনুল হককে বিশেষজ্ঞরা ‘কালা পারে না’ বলেননি। তবে বাংলাদেশের টিম ম্যানেজমেন্ট অনেক আগে বলে দিয়েছেন, দেশের অন্যতম সেরা এই টেস্ট ব্যাটসম্যান ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি ‘কালা’ পারেন না।

গতকাল ৫৭ বলে ৬টি চারে সাজানো ৬৪ রানের ইনিংস কী এই ম্যানেজমেন্টের জন্য ব্যাঙ্গ হয়ে উঠলো? এই ইনিংসে কী বোলাররা ছাড়াও কেউ আহত হলেন? অবশ্য তাদের আহত হওয়ার ক্ষমতা আছে কি না, কে জানে।

গত প্রিমিয়ার লিগে মুমিনুল হক ১৬ ম্যাচে ৬৭১ রান করেছেন; একটি সেঞ্চুরি ও ৭টি ফিফটি। স্ট্রাইক রেট ছিলো ৯৫.৯৯। প্রথম পাচ ব্যাটসম্যানের মধ্যে সেরা স্ট্রাইক রেটে রান তুলেছেন। ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ একটি ৫০ ওভারের টূর্নামেন্ট এবং এই লিগে এই পারফরম করার পরও আফগানিস্তান বা ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সীমিত ওভারের প্রাথমিক দলেও ডাক পাননি মুমিনুল হক! মুমিনুলকে কী দেখে বাতিল করা হলো, তাও আমরা পরিষ্কার নই।

২৬টি ওয়ানডে খেলেছেন। ম্যানেজমেন্ট তাকে থিতুই হতে দেয়নি। মুমিনুল তার ক্যারিয়ারে প্রথম ম্যাচ ব্যাট করেছিলেন ৬ নম্বরে।এরপর তাকে তিন-চারে তুলে আনা হয়। তিনে বিভিন্ন সময়ে ১৫ ম্যাচ, চারে এক ম্যাচ খেলেছেন। এর আগে পরে ৫ নম্বরে এক ম্যাচ, ৭ নম্বরে ৩ ম্যাচ; এমনকি ৯ নম্বরেও ব্যাট করেছেন এক ম্যাচে!

‘রানা না পেয়ে’ অস্থির হয়ে গেছে ম্যানেজমেন্ট। তারা ভেবেছে, ওয়ানডেতেও মুমিনুল ব্র্যাডম্যানিয় গড়ে রান না করলেই সেটা ব্যর্থতা!

অথচ যদি টেস্ট ব্যাটসম্যান মুমিনুলের কথা ভুলে গিয়ে বাংলাদেশের আর দশ জন ওয়ানডে ব্যাটসম্যানের সঙ্গে তুলনা করেন, টপ ও মিডল অর্ডারে মুমিনুলের গড় বা রান নিতান্ত খারাপ মনে হবে না। ২৬ ওয়ানডেতে ২৩.৬০ গড়ে ৫৪৩ রান করেছেন তিনি।

স্রেফ তুলনার জন্য আমরা বলতে পারি, তামিম ইকবালের ওয়ানডে গড় ২৯.৬৭, মুশফিকের ৩০.০০, ইমরুলের ২৫.৪৩! আর এই ২৬টি ম্যাচ দেখেই তাকে ছুড়ে ফেলা হলো!

অথচ সব ধরণের ক্রিকেটে বাংলাদেশের সবচেয়ে সফল ব্যাটসম্যান হয়ে ওঠার যোগ্যতা মুমিনুলের আছে। উইকেটে একটু সেট হয়ে গেলে যে ধরণের কাট ও ড্রাইভ মুমিনুল করতে পারেন; তাতে শর্টার ফরম্যাটে তার রান পাওয়াটা, বড় ইনিংস খেলাটা স্রেফ সময়ের ব্যাপার। এই সময়টাই দিতে পারছে না বাংলাদেশ টিম ম্যানেজমেন্ট।

তারা মুমিনুলের কাছ থেকে রান পেতে অধীর হয়ে গেছেন। ফলে ভুলে গেছেন যে, দুনিয়ায় ভিন্ন ভিন্ন স্টাইলের ব্যাটসম্যান ভিন্ন ভিন্ন ভঙ্গিতে ও গতিতে রান তোলে; সবাই চার ছক্কার বন্যা বইয়ে দেয় না; কেউ কেউ স্ট্রাইক রোটেট করে, অড বলে বাউন্ডারি মেরে ইনিংস বড় করে।

হ্যা, মানি যে, মুমিনুলকে অনেক কিছু শিখতে হবে। উইকেটের সব দিকে শট করা বাড়াতে হবে, অফ স্ট্যাম্পের বাইরের বলে কাট করার নেশা কমাতে হবে, বিটউইন দ্য গ্যাপ খেলার প্রবনতা বাড়াতে হবে।

এগুলো হয়ে যায় বলেই সাঙ্গাকারা, হাশিম আমলারা শিখে শিখে নিজেদের সুন্দর ব্যাটসম্যানে পরিণত করে ফেলতে পারেন। সে জন্য স্রেফ সময়টা দিতে হবে, দিতে হবে আত্মবিশ্বাস। সবার মধ্যে সম্ভাবনা থাকে না।

প্রতি বছর শত শত ব্যাটসম্যান আসে এবং যায়। এর মধ্যে মুমিনুল আসে মাঝে মাঝে, খুব বিরল ক্ষমতা নিয়ে। ফলে এদের যত্ন নিতে হয়। এদের মনোবলটা জিইয়ে রাখার চেষ্টা করতে হয়। সেখানে উল্টো বেল্টের নিচে আঘাত করলে অমিত সম্ভাবনাটা শেষ হয়ে যাওয়ার ভয় থাকে।

আগেও বলেছি, আবারও বলি, মুমিনুলের মাপের ব্যাটসম্যান গাছে ধরে না। প্লিজ ডোন্ট মেস উইথ দ্য বয়।

ভিডিও নিউজ :  লাইভ শো’তে সহকর্মীর অন্তর্বাস তুলে বিপাকে উপস্থাপক (ভিডিও) 

 



আজকের জনপ্রিয় খবরঃ

গুরুত্বপূর্ণ অ্যাপ:

  1. বুখারী শরীফ Android App: Download করে প্রতিদিন ২টি হাদিস পড়ুন।
  2. পুলিশ ও RAB এর ফোন নম্বর অ্যাপটি ডাউনলোড করে আপনার ফোনে সংগ্রহ করে রাখুন।
  3. প্রতিদিন আজকের দিনের ইতিহাস পড়ুন Android App থেকে। Download করুন

Add Comment

Click here to post a comment