বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

টিনএজেই ফেসবুক? অভিভাবকদের জন্য কিছু টিপস

1a১. আগে ভাবনা পরে পোস্ট
খুব সহজেই কোনো বিষয়ে মজার পোস্ট লিখে ফেলা যায়। কিন্তু মাথায় রাখতে হবে, এর দ্বারা কেউ না কেউ মারাত্মক আঘাত পেতে পারে। আর সেই ব্যক্তি প্রতিশোধপরায়ণ হতে পারে। তাই কোনো পোস্ট দেওয়ার আগে কয়েকটি প্রশ্নের জবাব খুঁজে নিন। এই পোস্টের মাধ্যমে আপনার সম্পর্কে মানুষের একটা ধারণা তৈরি হবে, আপনি কি সেই পরিচয়েই পরিচিত হতে চাইছেন? এর মাধ্যমে কি অন্য কারো বা আপনার সুনাম ক্ষুণ্ন হবে? এটা নিয়ে অন্যদের নেতিবাচক আচরণে কি আপনি মনঃকষ্টে ভুগবেন? পোস্টটা দেওয়ার পর সবচেয়ে খারাপ কী ঘটতে পারে? আবার পোস্টটি বিভিন্ন মানুষের কাছে শেয়ার হতে পারে। স্কুল, কলেজ বা পরিবারের কারো কাছে গেলে কি তা আপনার লজ্জার কারণ হবে?

২. বন্ধুদের জানা
আপনি ফেসবুকে যাই শেয়ার করুন না কেন, প্রতিবারই কিন্তু প্রাপকদের নির্দিষ্ট করে দেওয়া যায়। ফেসবুক বন্ধুদের সম্পর্কে ভালো ধারণা থাকা জরুরি। তাই কার কাছে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠাবেন এবং কাদের রিকোয়েস্ট গ্রহণ করবেন তা চিন্তাভাবনা করে ঠিক করুন। ৩. অভিযোগ করা : আপত্তিকর যেকোনো বিষয় নিয়ে ফেসবুকের কাছে আপনি রিপোর্ট পাঠাতে পারেন। সমাজের প্রতি ফেসবুকের দায়বদ্ধতা রয়েছে। কোন ধরনের পোস্ট বা বিষয় ফেসবুকে আসতে পারে না, সে সম্বন্ধে নীতিমালা রয়েছে। ঘৃণা জানানোর ভাষা, দৃশ্যমান হিংস্রতা এবং উত্ত্যক্ত করার বিষয় প্রকাশে ফেসবুক উন্মুক্ত নয়। তাই এমন কিছুর শিকার হলেই ফেসবুকের কাছে রিপোর্ট করুন।

অভিভাবকদের করণীয়

১. নীতিমালা প্রণয়ন
সন্তানকে স্মার্টফোন বা কম্পিউটার কিনে দেওয়ার সময়ই এর ব্যবহারে নিয়মকানুন বেঁধে দিন। আর এসব নিয়ম পালনে কঠোর হতে হবে আপনাকে।

২. আদর্শ ব্যবহারকারীর দৃষ্টান্ত স্থাপন
আপনি যেভাবে ইন্টারনেট ব্যবহার করেন, সেভাবেই করতে শিখবে ছেলেমেয়েরা। ওদের তা বুঝিয়ে দিন। আপনি ঠিক যেভাবে অনলাইনে সময় কাটাবেন, সেভাবে একই পথে হাঁটতে উৎসাহী হবে। কাজেই সোশ্যাল মিডিয়ায় আপনার পদচারণও যেন নিয়ন্ত্রণে থাকে।

৩. জড়িয়ে যাওয়া
সন্তানরা সোশ্যাল মিডিয়ায় আসামাত্র অভিভাবকদেরও তাতে জড়িয়ে পড়া উচিত। সন্তানদের বন্ধু করে নিন। এতে ওদের কার্যকলাপ নজরে রাখতে পারবেন। অনলাইনে তাদের সঙ্গে চ্যাটিংয়ে অভ্যস্ত হয়ে উঠুন। এতে করে প্রথম থেকেই ওরা আপনার তত্ত্বাবধানে থাকবে।

৪. সঠিক মুহূর্তে
ফেসবুক ব্যবহারকারী হওয়ার ন্যূনতম বয়স ১৩ বছর। এ ছাড়া ইনস্টাগ্রাম বা অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়ায় এমন বয়সেই সাইন আপ করা যায়। এরা যখন সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রবেশ করবে, তখন যেন আপনার হাত ধরেই তা করে। এ ক্ষেত্রে আপনি সহজেই ওদের ওপর নানা নিয়ম প্রতিষ্ঠা করতে পারবেন।

৫. ওদের কাছ থেকে শেখা
এটা একটা কৌশল হতে পারে। আবার ওদের কাছ থেকে নতুন কিছু শিখে নিতে পারেন। ওদের বলুন আপনাকে কিছু শেখাতে। হয়তো স্ট্রিমিং ভিডিও সম্পর্কে আপনি জানেন না। ওদের তা শিখিয়ে দিতে বলুন। প্রথমত, আপনি না জানলে নতুন কিছু শিখতে পারলেন। আর জেনে থাকলেও বুঝতে পারবেন, সন্তানরা কী কী বিষয়ে জেনেছে। এ বিষয়ে আপনাদের আলাপে প্রসঙ্গক্রমে নিরাপত্তার বিষয়টা চলে আসতে পারে। ওদের সঙ্গে প্রাইভেসি সেটিংস নিয়ে কথা বলুন। ওরা যেমন আপনাকে নতুন কিছু শেখাতে দারুণ মজা পাবে, তেমনি আপনিও তাদের নিরাপত্তা বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দিতে পারবেন।

ভিডিওঃ মেডিকেল কলেজের ভিতরে ছাত্রীদের নষ্টামী দেখুন (ভিডিও)

Add Comment

Click here to post a comment