আন্তর্জাতিক

জয় পেতে ট্রাম্পের দরকার আর মাত্র ৪টি ইলেক্টোরাল ভোট

photo-1478659893বিজয়ের সম্ভাবনা বাড়াতে বাড়াতে এখন এটা প্রায় নিশ্চিত যে ট্রাম্পই হচ্ছেন আগামি প্রেসিডেন্ট। গুরুত্বপূর্ণ দোদুল্যমান অঙ্গরাজ্য পেনসিলভ্যানিয়ায় নিশ্চিত করার পর ট্রাম্পের পাওয়া ইলেক্টোরাল ভোটের সংখ্যা এখন ২৬৬। বিপরীতে হিলারির পাওয়া ইলেক্টোরাল ভোটের সংখ্যা এখন ২১৫।  জয় পেতে মাত্র ৪টি ইলেক্টোরাল ভোট দরকার ডোনাল্ড ট্রাম্প।  জয়ের পথেই এগিয়ে যাচ্ছেন রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প। সমস্ত নির্বাচনী জরিপ, বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা আর প্রাতিষ্ঠানিক সমর্থন সত্ত্বেও, এই রিপাবলিকান প্রার্থীকেই যেন বেছে নিতে যাচ্ছেন মার্কিনিরা।

সর্বশেষ প্রাথমিক ফলাফল অনুযায়ী   গুরুত্বপূর্ণ দোদুল্যমান অঙ্গরাজ্য ফ্লোরিডা, ওহাইয়ো এবং নর্থ ক্যারোলিনাতে হেরে যাওয়ার পর হিলারি শিবিরে অস্বস্তি তৈরি হয়। হিলারি প্রতি প্রকাশ্যে সমর্থন ব্যক্ত করা প্রভাবশালী ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ানের খবরে বলা হয়,  বিপাকে রয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রেসিডেন্ট প্রার্থী। পরে বলা হয়, জয়ের কাছাকাছি রয়েছেন ট্রাম্প। এরপর পেনসিলভ্যানিয়ায় জয় নিশ্চিত করে ট্রাম্প নিশ্চিত করে ফেলেছেন নিজের বিজয়। বাকী কেবল আনুষ্ঠানিক ঘোষণার।

কিছুক্ষণ আগেও সবার চোখ পেনসিলভ্যানিয়া (২০ ইলেক্টোরাল ভোট), মিশিগান (১৬ ইলেক্টোরাল ভোট) আর উইসকনসিনে (১০ ইলেক্টোরাল ভোট)। গার্ডিয়ান এপির সরবরাহকৃত ফলাফল বিশ্লেষণ করে বলছে, এই গুরুত্বপূর্ণ তিন দোদুল্যমান অঙ্গরাজ্যের তিনটিতেই জিততে হবে হিলারিকে। নইলে ঘটে যেতে পারে ‘ট্রাম্প মিরাকল’। অবশ্য গার্ডিয়ানের বিশ্লেষণ অনুযায়ী উইসকনসিনে হারার পরও ট্রাম্পের সঙ্গে ২৬৯-২৬৯ ইলেক্টরাল ভোট হতে পারে। প্রেসিডেন্ট হতে সেক্ষেত্রে হিলারিকে অবশ্যই নিউ হ্যাম্পশায়ারে জিততে হবে। তবে পেনসিলভ্যানিয়ায় বিজয়ের পর হিলারির সম্ভাবনা ফুরিয়ে গেল।  ফুরিয়ে গেল যুক্তরাষ্ট্রের অন্য ইতিহাস রচনার সম্ভাবনা।  যারা ইতিহাসের প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট-এর স্বপ্নে বিভোর ছিলেন, তাদের স্বপ্নভঙ্গ ঘটিয়ে জয় ছিনিয়ে নিতে যাচ্ছেন রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প।

মার্কিন নির্বাচনে অর্থের ভূমিকা খুবই বড়। সেখানকার নির্বাচনে বড় ধরনের ভূমিকা থাকে মিডিয়ারও। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদন বলেছিল, যে এবারের নির্বাচনে অর্থের চেয়ে প্রযুক্তির ভূমিকা বড়।

ট্রাম্পের উত্থানের পর প্রযুক্তির ভূমিকার কথা আবারও আসছে আলোচনায়। আলোচনায় আসছে সাড়া জাগানো বিকল্প সংবাদমাধ্যম উইকিলিকস। অনেকেই মনে করছেন, হিলারি সংক্রান্ত নথি ফাঁসের মধ্য দিয়ে উইকিলিকস-ই কি তবে হিলারির হারে মুখ্য ভূমিকা পালন করলো?

উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ও ভাইস প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের জন্য ইলেক্টোরাল কলেজ আনুষ্ঠানিক কর্তৃপক্ষ হিসেবে ভূমিকা পালন করে। কোন প্রার্থী কত বেশি ভোট পেলেন তার চেয়ে জরুরি হলো কে কতটা ইলেক্টোরাল ভোট পেলেন তা। ৫৩৮ জন ইলেক্টোরের সমন্বয়ে ইলেক্টোরাল কলেজ গঠিত। প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হতে হলে প্রার্থীকে এর মধ্যে অন্তত ২৭০টি ইলেক্টোরাল ভোট পেতে হয়। এক এক স্টেটে ইলেক্টোরের সংখ্যা এক এক রকম। নির্বাচনের দিন মার্কিনিরা যখন ভোট দেন তখন তারা মূলত প্রার্থীদের ইলেক্টোরদেরকে বাছাই করেন। দুটি ছাড়া বাকি ৪৮টি অঙ্গরাজ্যে ‘উইনার-টেক-অল’ সিস্টেম চালু রয়েছে। এর আওতায় জয়ী প্রার্থীকে ওই অঙ্গরাজ্যের সব ইলেক্টোরাল ভোট দিয়ে দেওয়া হয়। তবে নেবরাস্কা ও মেইন অঙ্গরাজ্য দুটি এক্ষেত্রে আলাদা। এ দুটি অঙ্গরাজ্যের ক্ষেত্রে প্রার্থীদের পাওয়া ভোটের সংখ্যানুপাতে ইলেক্টোরাল ভোট ভাগ করা হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূলীয় অঞ্চলে স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সকাল ৬টা থেকে এবং পশ্চিম উপকূলীয় অঞ্চলে সকাল ৭টা থেকে শুরু হয় ঐতিহাসিক মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক ভোটগ্রহণ। বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য ও ওভারসিজ ভোটারদের আগাম ভোট এবং ১শ ভোটারের কম জনসংখ্যার ৩টি কেন্দ্রে ভোট অনুষ্ঠিত হওয়ার পর মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে সব অঙ্গরাজ্যে এ ভোট অনুষ্ঠিত হয়। এদিন ১০০ আসনবিশিষ্ট সিনেট ও ৪৩৫ আসনবিশিষ্ট হাউজ অব রিপ্রেজেন্টিটিভেরও ভোটগ্রহণ হয়েছে। হাউজ অব রিপ্রেজেন্টিটিভে রিপাবলিকানরা আবারও সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন।

আরও পড়ুনঃ টিম বাসে সাকিব নাসির, ব্রাভোদের চ্যাম্পিয়ন ড্যান্স (ভিডিতে)

 



আজকের জনপ্রিয় খবরঃ

গুরুত্বপূর্ণ অ্যাপ:

  1. বুখারী শরীফ Android App: Download করে প্রতিদিন ২টি হাদিস পড়ুন।
  2. পুলিশ ও RAB এর ফোন নম্বর অ্যাপটি ডাউনলোড করে আপনার ফোনে সংগ্রহ করে রাখুন।
  3. প্রতিদিন আজকের দিনের ইতিহাস পড়ুন Android App থেকে। Download করুন

Add Comment

Click here to post a comment