গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

জেনে নিন সন্তানকে মারধোর করার ৭টি “ভয়াল” পরিণাম

tআপনার সন্তানটি কিছুতেই কোনো কথা শোনে না। তাই ‘মারের উপর ঔষধ নাই’ এই ফর্মূলায় চলছেন আপনি। কথা না শুনলেই হয় তাকে বাথরুমে আটকে রাখেন অথবা বেদম মার দেন।প্রতিদিনের টুকটাক চড় থাপ্পড় তো আছেই।এমন কাজ অনেক বাবা-মায়েরাই করে থাকেন। তাদের জন্য রয়েছে দুঃসংবাদ

জেনে নিন সন্তানকে মারধোর করার ৭টি “ভয়াল” পরিণাম:

আপনার সন্তানটি কিছুতেই কোনো কথা শোনে না। যাই বলেন না কেন, সব সময়েই যেন সেটার উল্টোটাই করবে। আর তাই ‘মারের উপর ঔষধ নাই’ এই ফর্মূলায় চলছেন আপনি। কথা না শুনলেই হয় তাকে বাথরুমে আটকে রাখেন অথবা বেদম মার দেন। প্রতিদিনের টুকটাক চড় থাপ্পড় তো আছেই।এমন কাজ অনেক বাবা-মায়েরাই করে থাকেন। কিন্তু আপনি কি জানেন এর পরিণাম কী হচ্ছে? আপনার মারধোরের বিরূপ প্রভাব পড়ছে আপনার সন্তানের পুরো জীবনের উপর। শুধু তাই নয়, আজ সন্তানকে মারধোর ও গালাগালি করার মাসুল আপনাকেও দিতে হবে নিকট ভবিষ্যতেই। আপনি একজন মা কিংবা বাবা, এই পুরো পৃথিবীতে সন্তানের সবচাইতে আপন। সেই সবচাইতে আপন আপনি সন্তানকে নির্যাতন করলে কীভাবে চলবে?

আসুন জেনে নেয়া যাক সন্তানকে মারধোর করার ৭টি ভয়াল পরিণাম।ক্রমাগত নির্যাতিত হলে আপনার সন্তানের মানসিক ভারসাম্য এলোমেলো হয়ে যায়। নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে ভুগতে এক পর্যায়ে সে প্রচন্ড মানসিক চাপে ভোগে। এভাবে মানসিক চাপে থাকতে থাকতে সে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। ফলে নিয়মিত মারধোর করলে আপনার সন্তান সারা জীবনের জন্য মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলতে পারে।সন্তানকে নিয়মিত মারধোর করলে বাবা মায়ের প্রতি ভালোবাসা ও শ্রদ্ধাবোধ নষ্ট হয়ে যায়। কথায় কথায় মার দিলে বাবা মা কে নিজের অনেক দূরের কেউ ভাবতে আরম্ভ করে সন্তানরা। বাবা মায়ের প্রতি মানসিক টান একেবারেই থাকে না এধরনের নির্যাতিত শিশুদের। এধরনের ঘটনার ভেতর দিয়ে যাওয়া অনেক শিশুই কৈশোরে নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়ে। কারন একটাই বাবা-মা র সাথে মানসিক দূরত্ব। আপনি সন্তানের কাছে না আসলে বুঝতে পারবেন না সে কোন পথে এগোচ্ছে। আর বাবা মা ই হল সন্তানের প্রকৃত শুভাকাংখি। তাই সত্যি যদি সন্তানের ভাল চান তবে শৈশব থেকেই তার সাথে ভাল সম্পর্ক গড়ে তুলুন। যাতে সে তার সাথে ঘটা অন্যান্য ঘটনা গুলো আপনার সাথে নিজে থেকে শেয়ার করতে স্বচ্ছন্দ হয়। এতে আপনি যেমন তাকে ভূল পথে যাওয়া থেকে বিরত রাখতে পারবেন তেমনি তার অভিজ্ঞতাও সম্ব্রিদ্ধ হবে। যেটি তাকে পরবর্তী জীবনের প্রতিকূলতা গুলো কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করবে।

যেসব শিশুরা নিয়মিত বাবা মায়ের কাছে শারীরিক কিংবা মানসিক ভাবে নির্যাতনের স্বীকার হয় তাঁরা সাধারণত নিজেদেরকে একা ভাবে এবং প্রচন্ড বিষন্নতায় ভোগে। বাবা-মাকে আপন করে না পাওয়া ও নির্যাতনের ভয়ে কুঁকড়ে থাকে এসব শিশুরা।যেসব শিশুরা খুব ছোট বেলা থেকেই বাবা মায়ের অতিরিক্ত কড়া শাসন ও নির্যাতনের মধ্যে বেড়ে উঠেছে তাঁরা সাধারণত লেখাপড়ায় খারাপ হয়। আর এর পেছনের কারণ হলো কিছুতেই লেখাপড়ায় মন বসাতে পারে না এই শিশুরা। সারাক্ষণ আতঙ্ক ও হতাশার কারণে পড়ার টেবিলে বসে সারাদিন পড়লেও কিছু মনে রাখতে পারে না তাঁরা। আর আত্মবিশ্বাস কমে যায় বলে পরীক্ষার খাতাতেও ঠিক মত লিখতে পারে না এসব শিশু।
কেউ খুব হিংস্র হয়ে বেড়ে ওঠে, কেউ খুব ভীতু
ছোট বেলা থেকেই বাবা মায়ের দ্বারা শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের স্বীকার শিশুরা অধিকাংশই হিংস্র হয়ে বেড়ে ওঠে। আবার কিছু সংখ্যক শিশু হয় খুব ভীতু। জীবনের চলার পথে প্রতিটি পা এগুতেও খুব বেশি ভয় পায় তাঁরা। ফলে সব সময়েই সবার পেছনে পড়ে থাকে।
আপনার শিশুটি এই সুন্দর পৃথিবীতে জন্মেছে। সে যত বড় হবে পৃথিবী সম্পর্কে তার ধারণা ও জ্ঞান তত বৃদ্ধি পাবে। কিন্তু আপনি যদি তাকে ছোট বেলা থেকেই মারধোর করেন এবং মানসিক নির্যাতন করেন তাহলে তার শৈশব কৈশোর নষ্ট হবে। ধীরে ধীরে পৃথিবী সম্পর্কে খারাপ ধারণা জন্মে যাবে তার মনে।
পরিশেষে একটা কথা যদি শেষ বয়সে নিজেকে বৃদ্ধাশ্রমে দেখতে না চান তবে এখনি শিশুর অবুঝ মনের উপর শারিরিক অথবা মানসিক নির্যাতন করা থেকে সরে আসুন। পিতামাতার সামান্য এই একটি ভূল তার পুরো জীবন এলো মেলো করে দিতে পারে।

ভিডিও: আকাশে পাখির সাথে প্লেনের সংঘর্ষ কিভাবে প্লেন ধ্বংস হয়ে গেল !!! দেখুন (ভিডিও)

Add Comment

Click here to post a comment