অন্যরকম খবর

জিন্নাত আলী ১৯ বছরেই ৭ ফুট ৮ ইঞ্চি!

ভোলা জেলার সাত ফুট সাত ইঞ্চির মোসলেউদ্দিনকে ছাড়িয়ে দেশের সবচেয়ে লম্বা মানুষ এখন বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের জিন্নাত আলী। তার বয়স উনিশ। এরই মধ্যে তার উচ্চতা সাত ফুট আট ইঞ্চি। শুধু তাই নয়, তার বাঁ পায়ের চেয়ে ডান পা দুই ইঞ্চি বড়। সাধারণত এ বয়সী ছেলেরা ৫ থেকে সাড়ে ৫ ফুট লম্বা হন। কিন্তু তার এ বৃদ্ধি অস্বাভাবিক। জিন্নাত আলী নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বাইশারী ইউনিয়নের পার্শ্ববর্তী রামু উপজেলার গর্জনিয়া এলাকার কৃষক আমির হামজার ছেলে।

বুধবার সকালে বাড়িতে গিয়ে জিন্নাত আলীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অস্বাভাবিক উচ্চতার কারণে ঘরে ঢুকতে বা বিভিন্ন কাজ করতে তার সমস্যা হয়। রাস্তায় হাঁটা-চলার সময় মানুষ তার দিকে তাকিয়ে থাকে। এতে তার ভালোই লাগে বলে জানান তিনি।

জিন্নাত আলীর বড় সমস্যা শারীরিক দুর্বলতা, দুই হাঁটুতেই ব্যথা। দারিদ্র্যের কারণে খাওয়াদাওয়া ঠিকমতো করতে পারেন না। তবে খেতে খুব ইচ্ছে করে তার। তিনি আরও জানান, পায়ের মাপের জুতা বাজারে না পাওয়ায় খালি পায়েই হাঁটতে হয় তাকে।

মা শাহপুরা বেগম জানান, ছেলে লম্বা হওয়ার কারণে খাদ্য জোগানও দিতে হচ্ছে বেশি। শারীরিক অবস্থা ভালো নয়। মাথায় টিউমার, ডান পায়ে পচন ধরেছে। ডান পায়ের চেয়ে বাঁ পা দুই ইঞ্চি খাটো। অর্থাভাবে চিকিৎসা করাও সম্ভব হচ্ছে না। তাদের পরিবারে ভিটেমাটি ছাড়া আর কোনো অর্থ-সম্পদও নেই।

পিতা আমির হামজা জানান, ছেলে লম্বা হওয়ার কারণে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় নিয়ে যাওয়াও মুশকিল হয়ে দাঁড়িয়েছে। রিকশা, সিএনজি, মাইক্রো ও জিপ গাড়িতে বসানো যায় না। চিকিৎসার জন্য এক বছর আগে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ঢাকা নিয়ে যাওয়ার জন্য পরামর্শ দেন। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে নেওয়ার পর জানা যায় চিকিৎসা ব্যয়বহুল। টাকার প্রয়োজন হওয়ায় চিকিৎসার অভাবে আবারও তাকে বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। বর্তমানে লম্বা মানুষটির শারীরিক অবস্থা দিন দিন অবনতির দিকে যাচ্ছে।

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, এ রোগের নাম গাইনিস্টিক। মাথায় টিউমারের কারণে শরীরের হরমোনে বিরূপ প্রভাব পড়ে। ফলে শরীর দ্রুত বাড়তে থাকে। এ দেশে এ রোগের চিকিৎসা ব্যয়বহুল বলেও জানান চিকিৎসকরা।

স্থানীয় ইউপি সদস্য নুরুল ইসলাম জানান, ছেলেটি বয়সের তুলনায় অনেক লম্বা হয়ে গেছে। পরিবারের পক্ষে তার শরীরের দুরবস্থা নিয়ে চিকিৎসার ব্যয়ভার বহন করা সম্ভব হচ্ছে না। মা-বাবা ও স্থানীয়রা এ লম্বা মানুষটিকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করছেন।