অন্যরকম খবর আন্তর্জাতিক

জানেন কি, মাটিতে  আঁকা এই রেখাগুলো কিসের? জেনে নিন রহস্য

রেহেনা আক্তার রেখা: অদ্ভুত সব রেখা চিহ্ন। আর আরো অবাক হওয়ার বিষয় হলো এই রেখাগুলি আঁকা হয়েছে  সমতলভূমিতে। এগুলোকে বলা হয় ন্যাযকা লাইন। ন্যাযকা লাইন হলো পেরুর দক্ষিণাঞ্চলের প্যাম্পা কলোরাডো বা লাল সমতলভূমি নামে পরিচিত এলাকার মাটিতে আঁকা কিছু জীব-জন্তু এবং জ্যামিতিক রেখার সমাহার । যাদের ইংরেজীতে geoglyph বলা হয়ে থাকে। খৃষ্টপূর্ব ২০০ সালের দিকে আরও পুরোনো সভ্যতা প্যারাকাস থেকে ন্যাযকাদের আবির্ভাব হয়। এরা নদী অববাহিকায় বসতি স্থাপন করে কৃষিকাজ করতে শুরু করে।

১৯৯৭ সালে পেরু এবং জার্মান গবেষকদলের সমন্ময়ে প্যালপা শহরের কাছে ন্যাযকা-প্যালপা নামে একটি গবেষণা প্রকল্প শুরু করা হয়। এই গবেষকদল নিয়মতান্ত্রিকভাবে একাধিক বিষয়ভিত্তিক গবেষনা শুরু করেন, যেমন ঐ অঞ্চলের মানুষের জীবন-যাপন পদ্ধতি, কেনইবা তারা হারিয়ে গেল, এই লাইনগুলোর উদ্দেশ্যই বা কি ছিলো। এই গবেষকদলের মতে ন্যাযকা সভ্যতার শুরু এবং শেষ হয়েছে “পানির” সাথে সাথে।

পেরুর উপকূলীয় দক্ষিনাঞ্চল এবং চিলির উত্তরাঞ্চল হলো পৃথিবীর অন্যতম শুষ্ক অঞ্চল। আন্দিজ পর্বত থেকে পূর্ব দিকে দশটি নদী নেমে এসেছে যেগুলো বছরের একটা নির্দিষ্ট সময় শুকনো থাকে। এই নদীগুলো দ্বারা গঠিত একটি সুরক্ষিত অববাহিকাতেই ন্যাসকা সভ্যতা বিকশিত হয়েছিলো।বসতির স্থাপনের জন্য এখানকার পরিবেশ ছিলো খুবই উপযুক্ত এবং সেই সাথে ছিলো ঝুঁকিপূর্ন। ঝুঁকিপূর্ন এই পরিবেশ সত্বেও ন্যাযকা সভ্যতা প্রায় ৮০০ বছর ধরে বিকশিত হয়েছিলো।

১৯২০ এর দশকের শেষভাগে পেরুর রাজধানী লিমা এবং এর দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর আরেকিপার মধ্যে বানিজ্যিক ভাবে বিমান চলাচল শুরু হলে ন্যাযকা লাইনগুলি প্রথম ব্যাপকহারে মানুষের দৃষ্টি আকর্ষন করতে সক্ষম হয়।সেই সাথে আর্কিওলজিস্ট, এনথ্রোপোলজিস্টসহ প্রাচীণ সভ্যতা সম্পর্কে আগ্রহী সকল মানুষকে এক বিশাল ধাঁধার মধ্যে ফেলে দেয়। এই লাইনগুলোকে কখনও ইনকাদের রাস্তা, কখনও চাষাবাদের পরিকল্পনা, আবার কখনও পুরনোদিনের ‘হট এয়ার’ বেলুন থেকে উপভোগ করার জন্য আঁকা ছবি হিসাবে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করা হয়েছে। ছবিগুলো আন্দিজ পর্বত এবং প্রশান্ত মহাসাগর থেকে ৩৭ মাইল দূরে সমান্তারালভাবে প্রায় ১৫ মাইল দীর্ঘ ব্যাপী বিস্তৃত।

প্রশান্ত মহাসাগরের তীর থেকে শুরু করে আন্দিজ পর্বতমালার ১৫০০০ ফুট উচ্চতা পর্যন্ত গবেষকরা যেখানেই খুড়েছেন সেখানেই ন্যাযকা বসতির প্রমাণ খুঁজে পেয়েছেন। আর প্রতিটা বসতির পাশেই পাওয়া গেছে বিভিন্ন ধরেণের ভূ-চিত্র। কেউ কেউ বলেছেন এগুলি হচ্ছে ন্যাযকাদের মহাকাশীয় ক্যালেন্ডার। এদের মধ্যে সবচাইতে উল্লেখযোগ্য ব্যাখ্যাটি হচ্ছে এরিক ভন দানিকেনের ভিনগ্রহবাসীদের বিমান অবতারনার জন্য বানানো এয়ারস্ট্রীপের ব্যাখ্যাটি। কিন্তু প্রত্নতত্ববিদরা মনে করেন এই রেখাগুলির সৃষ্টি এবং রক্ষনাবেক্ষন উভয়ই ছিলো একটি গোষ্ঠিগত প্রচেষ্টা। অনেকটা আগের দিনে খৃস্টানদের ‘ক্যাথিড্রাল’ বানানোর মত।