খেলা-ধুলা

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির সেরা হলেন হাসান আলি!

 ২০১৬ এর প্রথম পাকিস্তান সুপার লিগের (পিএসএল) কথা। পেশোয়ার জালমিতে খেলেন হাসান। একজন সাংবাদিক সংবাদ সম্মেলনে হাসানের কথায় কিছুটা অপমানিত বোধ করেছিলেন। তাতে ক্ষেপে বোলারকে ‘ছাগল’ বলেছিলেন। পরে জালমি হাসানকে সংবাদ মাধ্যম থেকে দূরে সরিয়ে রাখে ওই সাংবাদিক ক্ষমা না চাওয়া পর্যন্ত।

সেই ২৩ বছরের হাসানের বোমায় বিশ্বের সব বোলাররা আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে কোথায় হারালেন! ফাইনালে গুরুত্বপূর্ণ তিন উইকেট। ৫ ম্যাচে ১৪.৬৯ গড় ও ৪.২৯ ইকোনোমিতে ১৩ উইকেট। টুর্নামেন্টের সেরা বোলার। গোল্ডেন বল তার; আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির সেরা খেলোয়াড় হাসান। এ এক বিস্ময় বোলার!

পিএসএলের ওই ঘটনার কয়েক মাস পরে পাকিস্তান দলে অভিষেক হাসানের। তারপর শুধু শিরোনামে তিনি। আগস্ট ২০১৬ থেকে এই পর্যন্ত ২১ ম্যাচে ৪২ উইকেট! বিশ্বের সব পেসারদের চেয়ে তিনিই সবার সেরা, সফল। তারই উইকেট সবচেয়ে বেশি। পাকিস্তানের প্রথমবার ফাইনালে উঠেই চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জয়ে অনেক বড় ভূমিকা হাসানের। ফাইনাল ম্যাচে ৬.৩ ওভারে ১ মেডেনে ১৯ রান দিয়ে ৩ উইকেট! রোববার ওভালে ১৮০ রানের বিশাল লজ্জার হার ভারতের গলায় মালার মতো পরিয়ে দেওয়া বোলিংয়ে হাসান শীর্ষ একজন।

এমন এক স্বপ্নের টুর্নামেন্ট দিয়ে হাসান তো ইতিহাসের পাতায়। এখনো ইংরেজিটা রপ্ত করা হয়নি। মাইকের সামনে তাই উর্দুটাই ভরসা। যেখানে হাসান বলে চলেন তার স্বপ্নযাত্রার কথা, ‘এক বছর আগেও আমি দলে ছিলাম না। কঠোর পরিশ্রম করেছি। নিজের ওপর বিশ্বাস রেখেছিল ভালো পারফরম্যান্স করতে পেরেছি। শুরু থেকে এটাই শিখেছি যে শরীরে যদি এনার্জি থাকে তাহলে পারফর্ম করা সম্ভব। আমি শান্ত থেকেছি। চাপ নেইনি। তাতেই ভালো করেছি।’

এই আসরকে কখনোই যে ভুলবেন না সেটা বলতেও ভুল হয় না হাসানের, ‘আমার জন্য এটা অসাধারণ এক টুর্নামেন্ট। সেরা অনেক খেলোয়াড়কে আউট করেছি। আর আরো ভালো লেগেছে যে টুর্নামেন্টের শেষ উইকেটটা আমি নিয়েছি যেটিতে আমরা শিরোপা জিতেছি। এটা আমার জন্য স্পেশাল টুর্নামেন্ট। সবসময় মনে রাখবো।’

হাসানকেও মনে রাখতে হবে এবং চোখে চোখে রাখতে হবে সব প্রতিপক্ষকে। কারণ এমন টুর্নামেন্টে এতো বড় অর্জন একজন খেলোয়াড়কে আত্মবিশ্বাসের ভেলায় চড়িয়ে আরো বড়ত্বের দিকেই নিয়ে যায়। হাসানের এটা যে সবে শুরু!

ক্যাট