আন্তর্জাতিক

চিনে নিন বিশ্বের শীর্ষ কর জালিয়াতিদের স্বর্গরাজ্যগুলো

কর ফাঁকি দিতে বিশ্বের বেশ কিছু সুন্দর এবং অস্পষ্ট ভৌগলিক অবস্থানের দেশগুলোতে টাকা রাখেন মিলিয়নিয়রা। চলতি বছরের শুরুর দিকে পানামা ভিত্তিক আইনি সহায়তা সেবা প্রতিষ্ঠান মোসাক ফনসেকার বিশাল সংখ্যক নথি (যা পানামা পেপারস নামে খ্যাত) ফাঁস হয়। এ থেকে বিশ্বের শীর্ষ মিলিয়নিয়রদের কর ফাঁকিতে প্রতিষ্ঠানটির সহায়তার বিষয় এবং বিশ্বের নিম্ন কর হারের ওই দেশুগুলো আলোচনার কেন্দ্রে চলে আসে।

মোসাক ফনসেকা ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ড, পানামা এবং বাহামার মতো নিম্ন করহারের দেশগুলোতে কম্পানি স্থাপন করে এই কাজ করছে। অনেক খদ্দের আবার মোসাক ফনসেকাকে ব্যাবহার করেছে তাদের কম্পানিগুলোকে আরো ট্যাক্স-দক্ষ করে গড়ে তোলার জন্য।

মোসাক ফনসেকা যে অল্প কয়টি দেশে কম্পানি স্থাপন করে এই করজালিয়াতির কাজে সহায়তা করছে সেসব ছাড়াও আরো কিছু দেশ রয়েছে যেগুলোকে মিলিয়নিয়ররা কর ফাঁকি দেওয়ার জন্য ব্যবহার করেন।

নিম্ন কর হারের পাশাপাশি এই দেশগুলোর ভৌগলিক অবস্থানও অস্পষ্ট, মানব কোলাহোল থেকে দূরে এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে্য ভরপুর।

১. দ্য কেম্যান আইল্যান্ডস
ক্যারিবিয়ান সাগরে ব্রিটিশ অধিকৃত একটি ভূ-খণ্ড। ওই দ্বীপপুঞ্জের একটি ভবন রয়েছে যেখানে ১৮,০০০ কম্পানির নিবন্ধিত কার্যালয় আছে। ২০০৮ সালে ডেমোক্রেট দলের এক বিতর্কে বারাক ওবামা ভবনটিকে “বিশ্বের সবচেয়ে বড় ভবন অথবা স্মরণকালের সবচেয়ে বড় কর জালিয়াতি” বলে আখ্যায়িত করেন।

২. জার্সি
ইংলিশ চ্যানেলে অবস্থিত যুক্তরাজ্যের একটি রাজকীয় উপনিবেশ। এখানে অর্থ সঞ্চিত রাখলে কোনো দায় কর, মূলধনী কর বা কর্পোরেট কর দিতে হয় না। দ্য পানামা পেপারস থেকে উদঘাটিত হয়েছে, জার্সির একটি ব্যাংক এর খদ্দেরদের জন্য ৯০০টিরও বেশি বিদেশি কম্পানি স্থাপন করেছে।

৩. পানামা
মধ্য আমেরিকার এই দেশেই মোসাক ফনসেকার কার্যালয় অবস্থিত। এই ল ফার্মটি বিশ্বব্যাপী ২ লাখ ১৪ হাজার কম্পানি স্থাপন করেছে।

৪. লাবুয়ান
লাবুয়ান হলো একটি দ্বীপ যা মালয়েশিয়ার একটি ফেডারেল টেরিটরি বা যুক্তরাষ্ট্রীয় ভূ-খণ্ড। লাবুয়ানের কম্পানিগুলো মাত্র ৩% কর দেয়। এখানকার সর্বোচ্চ করের হার ২০ হাজার মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত- যা মাত্র ৩,৬৩১ পাউন্ডের সমান।

৫. বারমুডা
আরেকটি বিদেশি ব্রিটিশ ভূখণ্ড বারমুডা। উত্তর আটলান্টিকে অবস্থিত বারমুডা এর বালুকাময় তীরগুলোর জন্য এবং কর জালিয়াতির স্বর্গ হিসেবে বিখ্যাত। এখানে কোনো আয়কর দিতে হয় না। নেই কোনো মূলধনী কর, ভ্যাট বা বিক্রয় কর। আর এখান থেকে মূলত অনাবাসিক কম্পানিগুলোর কার্যক্রমই পরিচালিত হয়।

৬. গেঁজি দ্বীপ
আরেকটি ব্রিটিশ রাজকীয় উপনিবেশ। ইংলিশ চ্যানেলে অবস্থিত। পার্শ্ববর্তী দ্বীপ জের্সি থেকে এটি একটু ছোট। এখানেও কোনো কর দিতে হয় না।

৭. মরিশাস
ভারত মহাসাগরীয় এই উদ্ভট দ্বীপ জাতিটি পর্যটকদের কাছে খুবই জনপ্রিয়। এখানে মাত্র ৩% কর দিয়ে ব্যবসা কার্যক্রম চালানো যায়।

৮. দ্য ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ড
ক্যারিবিয়ান অঞ্চলের এই দেশটিও কর ফাঁকি দেওয়ার জন্য আদর্শ জায়গা। পানামা পেপারস ফাঁস কাণ্ডে যেসব কম্পানির কর জালিয়াতি প্রকাশ হয় সেসবের অর্ধেক কম্পানির এই দ্বীপে কার্যক্রম রয়েছে।

৯. দ্য মার্শাল আইল্যাণ্ডস
প্রশান্ত মহাসাগরে অবস্থিত মার্শাল দ্বীপপুঞ্জের অনাবাসিক কম্পানিগুলোকে কোনো কর দিতে হয় না। এটি ইইউর কালো তালিকাভুক্ত একটি কর জালিয়াতির স্বর্গ।

১০. বার্বাডোস
অনেক কর স্বর্গের মতো বার্বাডোসও ক্যারিবিয়ান অঞ্চলে অবস্থিত। এটি এর বিলাসবহুল রিসোর্ট, অবিশ্বাস্য স্কুবা ডাইভিং এবং এর বাসিন্দাদের ক্রিকেটপ্রীতির জন্য বিখ্যাত। এর কর্পোরেট আয়করের হার ১ শতাংশেরও কম।

১১. দ্য সিসেলিস
১১৫ দ্বীপের এই দেশ ভারত মহাসাগরে অবস্থিত। পানামা পেপারস থেকে জানা গেছে, সিরিয়ার সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ কম্পানিগুলো এখানে ছায়া কম্পানি খুলেছে। এর মাধ্যমে তারা আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করতে সক্ষম হয়।

১২. ভানুয়াতু
দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরীয় এই দ্বীপেও কোনো কর দিতে হয় না। যে পাঁচটি অধিক্ষেত্র আন্তর্জাতিক কর স্বচ্ছতা রীতিতে স্বাক্ষর করতে রাজি হয়নি এটি তাদের একটি।

১৩. দ্য আইল অফ ম্যান
আরেকটি ব্রিটিশ রাজকীয় উপনিবেশ যা ইংল্যান্ড এবং আয়ারল্যান্ডের মধ্যবর্তী সাগরে অবস্থিত। এখানেও কোনো কর দিতে হয় না। কানাডার রাজস্ব সংস্থা এখানে কোনো অ্যাকাউন্ট রাখাকে জালিয়াতির শামিল বলে ঘোষণা করেছে।

১৪. দ্য বাহামাস
ক্যারিবিয়ান অঞ্চলের বাহামাসেও কোনো কর দিতে হয় না। ডেভিড ক্যামেরুনের বাবা আয়ান ক্যামেরুনের বিনিয়োগ তহবিল ব্লেয়ারমোর হোল্ডিংস এখানে অবস্থিত।

১৫. কুক আইল্যান্ডস
পানামা পেপারস থেকে জানা গেছে, চীনা কমিউনিস্ট পার্টির পলিটব্যুরোর স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্যদের নিবন্ধিত কম্পানি রয়েছে এই দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরীয় জাতিরাষ্ট্রে।

১৬. নিউই
নিউই দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরীয় ক্ষুদ্র জাতি। এখানে খুব বেশি সংখ্যক বিদেশি কম্পানির কার্যালয় নেই। কিন্তু ১৯৯৬ এবং ২০০৪ সালের মধ্যে মোসাক ফনসেকা এখানে ৬ হাজার কম্পানি স্থাপন করে। এর জনসংখ্যা মাত্র ১,৬০০ জন।

সূত্র: বিজনেস ইনসাইডার

ভিডিওঃ সানি লিয়নের সাড়া জাগানো এই ফটোশুট ভিডিওটি এখনো দেখা হয় নি আপনার (ভিডিও)

Add Comment

Click here to post a comment