চট্টগ্রাম জাতীয় বিভাগীয় সংবাদ

চিকিৎসকের প্রতারণা, স্ত্রীর স্বীকৃতি চান কলেজ ছাত্রী বিথী

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ডিগ্রি দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী সুমাইয়া খন্দকার বিথী। প্রায় ২০ মাস আগে ভালোবেসে বিয়ে করেছিলেন সাইফুল ইসলাম মজুমদার নামের এক চিকিৎসককে। একটি ভাড়া বাসায় এক বছরের বেশি সময় একসঙ্গে সংসারও করেছেন তারা। ডা.সাইফুল আর বিথীর সাংসারিক জীবনের বিভিন্ন সুখময় মুহূর্তে তোলা ছবিই বলে দেয় দুইজনের ভালোবাসার গভীরতার কথা। কিন্তু হঠাৎ বিয়েতো দূরের কথা বিথীকেই অস্বীকার করছেন ওই চিকিৎসক।

ডা. সাইফুল কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার বাঙ্গড্ডা ইউনিয়নের আঙ্গলখোর গ্রামের নজির আহম্মেদ মজুমদারের ছেলে। তিনি কুমিল্লার সেন্ট্রাল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বায়োকেমিস্ট্রি বিভাগের প্রভাষক পদে কর্মরত। বর্তমানে তিনি আরেকটি বিয়েও করেছেন বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে। কলেজ ছাত্রী বিথী কুমিল্লা নগরীর দক্ষিণ চর্থা এলাকার জামাল খন্দকারের মেয়ে।

এদিকে, একসঙ্গে এক বছরেরও বেশি সময় থাকার পর ডা. সাইফুল বিথীকে অস্বীকার করায় ওই ছাত্রীর জীবনে নেমে এসেছে চরম হতাশা। স্ত্রীর স্বীকৃতি পেতে তিনি ছুটে গিয়েছিলেন ডা. সাইফুলের বাড়িতে।

সেখানে কোনও প্রতিকার না পেয়ে গ্রামবাসী ও স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকেও বিষয়টি জানান তিনি। এতেও কোনও লাভ না হওয়ায় পুলিশের সহযোগিতায় স্ত্রীর স্বীকৃতি পেতে কুমিল্লার আদালতে ডা. সাইফুলের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন বিথী। তবে মামলা করার পর থেকেই বিথীকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে যাচ্ছেন ডা. সাইফুল। ফলে জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন বিথী।
স্ত্রীর স্বীকৃতি পেতে বিভিন্ন সময় কুমিল্লায় সংবাদ সম্মেলনও করেছেন বিথী। এতো কিছুর পরও মন গলেনি ডা.সাইফুলের। তবে নিজের জীবন দিয়ে হলেও স্বামীর স্বীকৃতি এবং স্ত্রীর অধিকার আদায় করবেন বলে অনড় রয়েছেন বিথী।

আজ মঙ্গলবার এ প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা হয় ঘটনার শিকার সুমাইয়া খন্দকার বিথীর। কালের কণ্ঠকে তিনি বলেন, “২০১৫ সালের জানুয়ারি মাসে আমি কুমিল্লা শহরের নজরুল এভিনিউ রোডে এক চিকিৎসকের চেম্বারে রিসিপশনিস্ট হিসেবে কাজ করতাম। সেখানে নিয়মিত আসা-যাওয়া করতেন সেন্ট্রাল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বায়োকেমিস্ট্রি বিভাগের প্রভাষক ডা. সাইফুল ইসলাম মজুমদার। একপর্যায়ে পরিচয়ের সূত্র ধরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একসময় সাইফুলের কথায় আমি চাকরিও ছেড়ে দেই। ” তিনি বলেন, “ওই বছরের ডিসেম্বর মাসে বিয়ের কথা বলে সাইফুল আমাকে নিয়ে যায় বাগেরহাটের মোংলায়। সেখানে সাইফুলের বন্ধুদের পরিচিত এক কাজীর মাধ্যমে আমাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়। পরে মোংলার একটি আবাসিক হোটেলে চার দিন অবস্থান শেষে আমাকে নিয়ে কুমিল্লায় ফিরে আসে সাইফুল। এরপর ২০১৬ সালের জানুয়ারি মাসের ১ তারিখে কুমিল্লা নগরীর হাউজিং এলাকার ৩ নম্বর সেকশনের ‘ফাইজা হাউজ’ নামের একটি বাড়িতে আমরা স্বামী-স্ত্রী হিসেবে সংসার শুরু করি। এ সময়ের মধ্যে সাইফুল আমাকে নিয়ে কুমিল্লা ছাড়াও দেশের বিভিন্ন পর্যটন স্পটে আনন্দ ভ্রমণে ঘুরে বেরিয়েছে। পরবর্তীতে আমি কাবিননামা এবং তার বাড়ি যেতে চাইলে সাইফুল বিভিন্ন টালবাহানা শুরু করে। একপর্যায়ে সাইফুল ওই বাসায় আমাকে রেখে চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে কৌশলে উধাও হয়ে যায় এবং আমাকে অস্বীকার করতে শুরু করে। শুনেছি এখন নাকি আবার বিয়েও করেছে। ”

সুমাইয়া খন্দকার বিথী আরও বলেন, “স্ত্রীর অধিকার পেতে সাইফুলের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বার বার যোগাযোগ করেও কোনো প্রতিকার পাইনি। এতে নিরুপায় হয়ে গত ৭ জুন কুমিল্লার আদালতে একটি মামলা দায়ের করি। ওই মামলা করার পর থেকেই সাইফুল ও তার পরিবারের সদস্যরা আমাকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে যাচ্ছেন। তাই জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে গত ৯ জুলাই কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি জিডিও করেছি। ”

সুমাইয়া বলেন, “সাইফুল যদি আমাকে স্বীকৃতি দিয়ে ডিভোর্সও দিত তাও মনকে বোঝাতাম। কিন্তু এখন সে আমাকেই অস্বীকার করছে। তার মানে কি আমি খারাপ মেয়ে? গত ৩১ জুলাই আমার বাবাকে কুমিল্লার তালতলা চৌমুহনী নিয়ে পাঁচ লাখ টাকায় পুরো বিষয়টি মিটমাটসহ মামলাটি প্রত্যাহারের জন্য হুমকি দিয়েছে সাইফুলসহ তার লোকেরা। তবে আমি টাকা-পয়সা চাই না, আমি সাইফুলের স্ত্রী হিসেবে জীবনের বাকি সময়টা কাটাতে চাই। আমি কোনওভাবেই তাকে ছাড়া বাঁচতে পারবো না। আমি জীবন দিয়ে হলেও আমার অধিকার আদায় করবো। ”

তবে এসব অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ডা.সাইফুল ইসলাম মজুমদার বলেন, “আমি ওই মেয়েকে চিনতাম এক ডাক্তারের চেম্বারে রিসিপশনে কাজ করতো বলে। কিন্তু আমি তাকে বিয়ে করিনি। এসব ছবি কম্পিউটারের সাহায্যে বানানো হয়েছে। ” তিনি বলেন, “সে (বিথী) আমাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করছে। আপনি বলেন, আমার সামাজিক অবস্থানের সঙ্গে ওই মেয়ের সামাজিক অবস্থান মেলে?” এগুলো সব মিথ্যা ও বানোয়াট বলে দাবি করেন তিনি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাইফুলের নিজ এলাকা নাঙ্গলকোট উপজেলার বাঙ্গড্ডা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো.শাজাহান মজুমদার বলেন, “মেয়েটি একবার আমার কাছে এসেছিল এসপি সাহেবের কাছে দেওয়া একটি অভিযোগের কপি নিয়ে। পরে আমি তাকে বলেছি সে চাইলে যেকোনও সহযোগিতা করা হবে। কিন্তু মেয়েটি আর আসেনি। তবে আমি ডা. সাইফুলের বাবাকে খবর দিয়ে এনে এ ঘটনা জিজ্ঞেস করেছি। তিনি (সাইফুলের বাবা) এসব ঘটনা অস্বীকার করেছেন। “