Advertisements
খেলা-ধুলা

গোটা টুর্নামেন্টে ব্যাট হাতে আলো ছড়িয়েছেন ফকর

উর্দুতে ‘ফকর’ শব্দের অর্থ পরিত্রাতা। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে যথার্থই পাকিস্তান দলের উদ্ধারকারী হিসাবে আবির্ভুত হয়েছেন ফকর জামান। শুধু ভারতের বিরুদ্ধে ফাইনালে কেরিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি করাই নয়, গোটা টুর্নামেন্টে ব্যাট হাতে আলো ছড়িয়েছেন বাঁহাতি ওপেনারটি।
অথচ কোহলিদের বিরুদ্ধে গ্রুপ লিগের ম্যচে যখন তার দল খেলছিল, তখনো ফকর মাঠের বাইরে বসেছিলেন জীবনের প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার আশায় বুক বেঁধে। দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে পরের ম্যাচেই পাকিস্তান দলের জার্সিতে মাঠে নামার সুযোগও পেয়ে যান তিনি। আর তার পরেই চমক। মাত্র চার ম্যাচের ওয়ান ডে কেরিয়ারে দুটি অর্ধশতরানের পর রোববারের হাইভোল্টেজ ফাইনালে পেয়ে গেলেন দুরন্ত সেঞ্চুরি।

ভারতীয় বোলিংকে ছত্রখান করে ১১৪ রানের ইনিংস খেলেন ২৭ বছর বয়সী ফকর। মারেন ১২টি চার ও ৩টি ছক্কা। হয়ে ওঠেন পাকিস্তানের প্রথম চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জয়ের নায়ক।
চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে ফকরের ঝলমলে ব্যাটিং বুঝিয়ে দিয়েছে পাকিস্তান ক্রিকেটে লম্বা রেসের ঘোড়া হতে এসেছেন তিনি। কিন্তু দশ বছর আগেও এই ডাকাবুকো ওপেনারটির জীবন ছিল একেবারে ভিন্ন। পারিবারিক অভাব অনটন মাত্র ১৭ বছর বয়সেই ফকরকে ঠেলে দেয় কর্মজীবনে। নিতান্ত অনিচ্ছার সঙ্গে ২০০৭ সালে পাকিস্তান নৌবাহিনীতে নাবিকের চাকরিতে যোগ দেন তিনি। তবে চাকরির মধ্যেও ক্রিকেটার হওয়ার স্বপ্ন ছাড়েননি ফকর। সুযোগ পেলেই অফিসের ম্যাচে নেমে পড়তেন। এই সময়েই নৌবাহিনীর ক্রিকেট একাডেমির কোচ আজম খানের নজরে পড়ে যান তিনি। তারপর ক্রিকেটার হওয়ার নেশায় ২০১৩ সালে ইস্তফা দিয়ে বসেন চাকরি থেকে। অনেকটা ভারতের সাবেক অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনির রেলের টিকিট কালেক্টরের চাকরি ছেড়ে দেওয়ার মতোই ফকরও সেদিন তুলে নিয়েছিলেন জীবনের চরমতম এক ঝুঁকি।
‘মাহি’র মতো বিফল হননি তিনিও। ২০১৬ সালে সুযোগ পেয়ে যান খাইবার পাখতুনখোয়ার হয়ে খেলার। মঞ্চটা দারুণ কাজে লাগিয়ে পাকিস্তান সুপার লিগেও জায়গা পেয়ে যান ফকর। সেখানেও দারুণ ব্যাটিং করে জাতীয় নির্বাচকদের নজর কাড়েন তিনি। ডাক পেয়ে যান চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির দলে। সেই সঙ্গে শুরু হল পাকিস্তানের আর এক উজ্জ্বল নক্ষত্রের পথচলাও। নৌবাহিনীর নাবিকের চাকরি ছাড়লেও ক্রিকেট টিমের জার্সিতে পাকিস্তানকে নিশ্চিত লক্ষ্যে পৌঁছে দেয়ার গুরুদায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে শুরুতেই আস্থা কুড়িয়ে নিলেন ফকর।
ভারতের বিরুদ্ধে রক্তচাপ বাড়ানো ফাইনালে এমন একটা স্বপ্নের ইনিংস খেলতে পেরে রীতিমতো রোমাঞ্চিত পাকিস্তান ক্রিকেটের নয়া ‘নাবিক’।
কেরিয়ারের প্রথম ওয়ান ডে সেঞ্চুরি প্রসঙ্গে ফকর জামান বলেন, ‘ইনিংসের শুরুতেই আউট হয়ে যেতে পারতাম। নো বলে ক্যাচ দিয়ে জীবন পাওয়ার পরই বুঝেছিলাম দিনটি আমার হতে যাচ্ছে। একদিক থেকে আমি ভাগ্যবান। সুযোগটা কাজে লাগিয়েছি আমি। প্রথম ১০ ওভার একটু সতর্ক ছিলাম। তবে ভারতীয় পেসাররা সেভাবে সুইং করাতে না পারায় আমাদের বড় রান তোলার কাজ অনেকটাই সহজ হয়েছে।’

Advertisements