Advertisements
গাজীপুর ঢাকা বিভাগীয় সংবাদ রাজনীতি

গাজীপুরে মাঠে আওয়ামী লীগ, নীরব বিএনপি

নিজস্ব প্রতিবেদক, গাজীপুর: গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে সামনে রেখে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী বেশ কিছু মুখ প্রচারণা শুরু করেছেন। তাঁরা হলেন গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. জাহাঙ্গীর আলম, মহানগর যুবলীগের আহ্বায়ক মো. কামরুল হাসান সরকার রাসেল ও মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট আজমতউল্লাহ খান। তাঁদের সমর্থনে নগরের অনেক গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বিলবোর্ড, ব্যানার, ফেস্টুন ও পোস্টার লাগানো হয়েছে। বিশেষ করে গত রমজান মাস ও ঈদুল ফিতর উপলক্ষে লাগানো প্রার্থীদের ছবিযুক্ত বিলবোর্ড-ফেস্টুন প্রচারণা ছিল চোখে পড়ার মতো।

সিটি নির্বাচন নিয়ে বিএনপি এখনো নীরব। তবে বর্তমান মেয়র অধ্যাপক এম এ মান্নান ও সাবেক এমপি মুক্তিযোদ্ধা হাসন উদ্দিন সরকার ভেতরে ভেতরে প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে অনেক নেতাকর্মী মনে করছে।

মহানগর আওয়ামী লীগ সূত্রে জানা গেছে, মেয়র পদপ্রার্থী হিসেবে অন্তত পাঁচ মাস আগে মাঠ গোছাতে কাজ শুরু করেছেন মো. জাহাঙ্গীর আলম। তিনি ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে মুক্তিযোদ্ধা, সরকারি-বেসরকারি স্কুল-কলেজ ও মাদরাসার শিক্ষক, ইমাম, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ীসহ সমাজের সব শ্রেণি-পেশার নাগরিকদের সঙ্গে প্রতিদিন বৈঠক করছেন। এ ছাড়া আলাদাভাবে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন। গত নির্বাচনে তিনি উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগ করে মেয়র প্রার্থী হয়েছিলেন। কিন্তু দল তাঁকে না দিয়ে সমর্থন দিয়েছিল আজমতউল্লাহ খানকে। পরে দলীয় সিদ্ধান্তে তিনি মনোনয়ন প্রত্যাহার করেন। নির্বাচনে আজমতউল্লাহ বিএনপির প্রার্থী এম এ মান্নানের কাছে সোয়া লাখ ভোটে হেরে ছিলেন। জাহাঙ্গীর আলম তরুণ এই নেতা দল-মত-নির্বিশেষে সব শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছে ব্যাপক জনপ্রিয়। নগরের ৫৭টি ওয়ার্ডে তাঁর রয়েছে বিশাল কর্মী বাহিনী। গত সাত-আট বছর ধরে এলাকার মসজিদ, মন্দির, মাদরাসা, এতিমখানা, স্কুল-কলেজে অনুদান এবং অসহায় দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে অনন্য নজির সৃষ্টি করেছেন তিনি।

মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘সব সমস্যা দূর করে এই নগরকে আধুনিক নগরে পরিণত করতে চাই। দল সুযোগ দিলে গাজীপুরের উন্নয়ন ও জনগণের সেবার জন্যে প্রার্থী হতে চাই। ’

যুবলীগের কামরুল হাসান সরকার রাসেলও প্রচারণা শুরু করেছেন। ঈদ ও রমজানে প্রতিটি ওয়ার্ডে তাঁর বিলবোর্ড, ব্যানার ও পোস্টার লাগানো হয়েছে। রাসেল ছাত্রলীগ করতেন। তাঁরও রয়েছে বিশাল কর্মী বাহিনী।

গতবারের প্রার্থী টঙ্গী পৌরসভার সাবেক মেয়র আজমতউল্লাহ খান মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি। তিনি দীর্ঘদিন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং টঙ্গী পৌরসভার মেয়র ছিলেন। নির্বাচন নিয়ে তিনি এখনো প্রকাশ্যে কিছু না বললেও তাঁর সমর্থকদের বিশ্বাস তিনি প্রার্থী হবেন। অভিজ্ঞতা এবং দলের অনুগত বলে দল তাঁকেই মনোনয়ন দেবে।

এদিকে নির্বাচিত হওয়ার পর গত চার বছরের অর্ধেকের বেশি সময় বর্তমান মেয়র অধ্যাপক মান্নানকে জোটে থাকতে হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে নাশকতাসহ বিভিন্ন অভিযোগে ৩০টি মামলা করা হয়েছে। কয়েকটি মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র গৃহীত হওয়ায় দেড় বছরে তাঁকে তিনবার সাময়িক বরখাস্ত করেছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। অবশ্য প্রতিবার উচ্চ আদালত তাঁর সাময়িক বরখাস্তের আদেশ অবৈধ ঘোষণা করেছেন। নগরবাসীর ধারণা, তিনি প্রতিহিংসার স্বীকার। তবে নির্বাচনের বিষয়ে তিনি এখনো সিদ্ধান্ত নেননি বলে জানা যায়।

তবে মেয়র নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে ভেতরে ভেতরে কাজ শুরু করেছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা হাসান উদ্দিন সরকার। একসময় তিনি শ্রমিক রাজনীতি করতেন। টঙ্গীতে তাঁর রয়েছে ভোট ব্যাংক এবং আলাদা জনপ্রিয়তা। নির্বাচন করা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, দল মনোনয়ন দিলে নির্বাচন করবেন।

Advertisements