রাজনীতি

খালেদা জিয়ার প্রস্তাব অন্তঃসারশূন্য : কাদের

obaid1_2332_1817বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া সংবাদ সম্মেলনে যা বলেছেন তা চর্বিতচর্বণ ও অন্তঃসারশূন্য ছাড়া কিছু না বলে দাবি করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

শুক্রবার সন্ধ্যায় আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার সংবাদ সম্মেলনের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় তিনি এ কথা বলেন।

কাদের বলেন, খালেদা জিয়া যে বক্তব্য রেখেছেন- তা আমাদের কাছে মনে হয়েছে এটা চর্বিতচর্বণ। তার ৪৫ মিনিটের অন্তঃসারশূন্য বক্তব্য প্রমাণ করেছে, তিনি জনগণের ওপর আস্থাশীল নন।

তিনি এমন কিছু প্রশ্ন করেছেন- যা ইতিমধ্যেই সংবিধান ও নির্বাচনী আইনে অন্তর্ভুক্ত আছে বলেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক।

বিএনপি নেত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা করে কাদের বলেন, ১৯৯৬ সালে ভোটারবিহীন নির্বাচনের মাধ্যমে খালেদা জিয়া গণতন্ত্রের নবজাতককে হত্যা করেছিলেন। এ ছাড়া মাগুরা উপনির্বাচন ও ঢাকা-১০ আসনের উপনির্বাচনের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, নিজের অতীত ভুলে গিয়ে এখন তিনি ভালো ভালো বুলি আওড়াচ্ছেন। সত্যিকার অর্থে জনগণের প্রতি তাদের কোনো অঙ্গীকার নেই। যে কোনোভাবে ক্ষমতায় গিয়ে লুটপাটের রাজত্ব কায়েম করাই তাদের একমাত্র উদ্দেশ্য।

ওবায়দুল বলেন, যারা এই ইসি নিয়ে বিতর্ক ও বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন- তারা মূলত ৩০ লাখ শহীদের বিনিময়ে অর্জিত পবিত্র সংবিধান, বিচার বিভাগ ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানকে অবজ্ঞা করার মতো ধৃষ্টতা দেখাচ্ছেন। বিএনপি এবং তার নেত্রী খালেদা জিয়ার এমন মিথ্যাচার রাজনীতিতে নতুন নয়। ক্রমাগত তার দল জনবিচ্ছিন্নে পরিণত হচ্ছে।

নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, সংবিধান মোতাবেক চলতে চাই আমরা। প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান সার্চ কমিটি গঠন করে নির্বাচন কমিশন গঠন করেছিলেন। সেই প্রক্রিয়াই আমাদের সংবিধানের অবিচ্ছেদ্য অংশ। সেখান থেকে আমরা বিচ্যুত হচ্ছি না।

 

এ সময় নির্বাচন কমিশন নিয়ে সংবিধানে বর্ণিত অ্যাক্ট ভবিষ্যতে করার চিন্তাভাবনার কথাও বলেন ওবায়দুল কাদের।

 

তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন সংস্কারের ফর্মুলায় বাংলাদেশের জনগণের ওপর কিংবা প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তা-কর্মচারী, পুলিশ, র‍্যাব, বিজিবির প্রতি তার আস্থাহীনতার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। জাতির কাছে খালেদা জিয়ার এ ধরনের প্রেসক্রিপশন দেওয়ার আগে তাকে ক্ষমা চাইতে হবে যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষার নামে মানুষ হত্যা, আগুন দিয়ে মানুষ হত্যা, তার ছেলে তারেকের মানিলন্ডারিং ও দুর্নীতি এবং নিজের ভুয়া জন্ম তারিখ নিয়ে জাতির সঙ্গে মিথ্যাচারের জন্য।

আওয়ামী লীগ বিএনপি নেত্রীর ফর্মুলা প্রত্যাখান করল- এমন প্রশ্নের জবাবে কাদের বলেন, ‘দেখুন প্রত্যাখান বা প্রত্যাহার এগুলো চিরাচরিত রাজনৈতিক বক্তব্য। আমি সেখানে যেতে চাই না। তার বক্তব্যে যদি ভালো কিছু থাকে বা গ্রহণযোগ্য কিছু থাকে- তা গ্রহণযোগ্য হবে। এগুলো তো আমাদেরও দাবি। যেহেতু সংবিধান অনুসারেই সবকিছু আছে। সেগুলো রাষ্ট্রপতির কাছে আমরাও বলবো।’

বিএনপি মহাসচিব এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের সংলাপের বসার আহ্বান নিয়ে খালেদা জিয়ার প্রস্তাবের বিষয়ে কাদের বলেন, এই বিষয়ে বসার কোনো প্রয়োজন নেই। প্রয়োজন হলে ভবিষ্যতে দেখা যাবে।

সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন, মাহবুব উল আলম হানিফ, আবদুর রহমান, বিএম মোজাম্মেল হক, আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, মুহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, আব্দুল মতিন খসরু, আবদুস সোবহান গোলাপ, সুজিত রায় নন্দী, দেলোয়ার হোসেন, আফজাল হোসেন, আমিনুল ইসলাম আমিন, বিপ্লব বড়ুয়া, মারুফা আখতার পপি, আমিরুল আলম মিলন, ইকবাল হোসেন অপু, আনোয়ার হোসেন, রেমন্ড আরেং প্রমুখ।

 

Add Comment

Click here to post a comment