Advertisements
খেলা-ধুলা

ক্রিকেট পাকিস্তান থেকে হারিয়ে যায়নি : মিকি আর্থার

চ্যাম্পিয়নস ট্রফির ফাইনালে শক্তিশালী ভারতকে পরাস্ত করে শিরোপা জেতা পাকিস্তানী কোচ মিকি আর্থার আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তার দলের যোগ্যতা নিয়ে। একইসাথে তিনি চলতি বছরের শেষে বিশ্ব একাদশকে পাকিস্তান সফরের ব্যপারেও আশাবাদী।

র‌্যাঙ্কিংয়ের সর্বশেষ স্থানে থেকে আট জাতির এই টুর্নামেন্টে অংশ নিয়ে পাকিস্তান ফাইনালে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ভারতকে ১৮০ রানের বিশাল ব্যবধানে পরাজিত করে আরেকবার প্রমাণ করেছে আসলেই ক্রিকেট অবিম্বাস্য অনিশ্চয়তার খেলা। প্রথমে ব্যাটিং থেকে ফখর জামানের অসাধারণ ১১৪ রানের ইনিংসে পাকিস্তান ৪ উইকেটে ৩৩৮ রানের বিশাল স্কোর গড়ে তুলে। এটি ছিল বাঁহাতি ফখরের ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি।

এরপর বল হাতে পাকিস্তানী বোলারদের দুর্দান্ত পারফরমেন্সে ফাইনালটা অনেকটাই একপেশে হয়ে যায়। মোহাম্মদ আমির ৩৩ রানে ৩ উইকেট দখল করে ভারতের টপ অর্ডারে ধ্স নামান। এর মধ্যে রোহিত শর্মা শূন্য রানে ও ওয়ানডে র‌্যাঙ্কিংয়ের সেরা ব্যাটসম্যান ভারতীয় অধিনায়ক বিরাট কোহলি আমিরের গতির কাছে মাত্র ৫ রানেই লুটিয়ে পড়েন। টপ অর্ডারে বিশ্ব সেরা ব্যাটিং আক্রমণ নিয়েও ভারত কার্যত কিছুই করতে পারেনি। ১৫৮ রানে অল আউট হওয়ায় পাকিস্তানের বিপক্ষে ১২৯টি ওয়ানডে ম্যাচের মধ্যে সবচেয়ে বড় ব্যবধানে হারের লজ্জায় পড়ে।

দুই বছর আগে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজ ছাড়া ২০০৯ সালে লাহোরে শ্রীলঙ্কার দলীয় বাসে সন্ত্রাসী হামলার জের ধরে পাকিস্তান নিজেদের মাটিতে কোনো আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার সুযোগ পায়নি।

যদিও আইসিসি আগামী সেপ্টেম্বরে বিশ্ব একাদশকে পাকিস্তানে পাঠাতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এই সফরের মাধ্যমে পাকিস্তানে পুনরায় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে ফিরিয়ে নেবার একটি পথ তৈরি হবে বলেই সবাই আশা প্রকাশ করেছেন। এ সম্পর্কে ইংল্যান্ড ও ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি ও আইসিসি’র পাকিস্তান টাস্ক ফোর্সের প্রধান জাইলস ক্লার্ক বলেছেন, ‘এই ম্যাচের মাধ্যমে পাকিস্তানী সমর্থকরা অন্তত ঘরের মাটিতে বিশ্বসেরা খেলোয়াড়দের পারফরমেন্স দেখার একটি সুযোগ পাবে। ক্রিকেট অবশ্য পাকিস্তান থেকে হারিয়ে যায়নি, এটা আগেই প্রমাণিত হয়েছে।

পাকিস্তানী প্রধান কোচ মিকি আর্থারও এই সিরিজের ব্যাপারে দারুণ আশাবাদী। তিনি বলেন, তিনটি টি-২০ ম্যাচ খেলতে সেপ্টেম্বরে বিশ্ব একাদশ পাকিস্তানে আসছে। আমরা সিরিজটির জন্য মুখিয়ে আছি। আশা করছি এর মাধ্যমে ভবিষ্যতের সফরগুলোর দ্বার উন্মোচিত হবে। আমরা শুধুমাত্র আশাই করতে পারি।

গত ৪ জুন চ্যাম্পিয়নস ট্রফির প্রথম ম্যাচে ভারতের বিপক্ষে ১২৪ রানের হারের মধ্য দিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করেছিল পাকিস্তান। সেই দলের ফাইনালে পৌঁছাতে দলের নতুন অধিনায়ক সরফরাজ আহমেদের অবদান ছিল সর্বাগ্রে। একইসাথে তিনি উইকেটরক্ষক, ব্যাটসম্যান ও অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০১৯ বিশ্বকাপেও পাকিস্তানকে নেতৃত্ব দিতে এখন থেকেই সরফরাজের নাম সামনে চলে এসেছে। সরফরাজ নিজেও পাকিস্তানের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ফেরার আশাবাদী মনোভাব পোষণ করেছেন।

ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে সরফরাজ বলেছেন, আশা করছি এই জয় পাকিস্তান ক্রিকেটকে অনেকদুর এগিয়ে নিয়ে যাবে। একইসাথে বড় দলগুলো পাকিস্তানে আসতে আগ্রহ দেখাবে। আশা করছি এই জয় সবাই মনে রাখবে, শুধুমাত্র আজ বা আগামীকালের জন্য নয়, দীর্ঘদিন তারা এজন্য পাকিস্তান ক্রিকেটকে স্মরণ করবে।

Advertisements